মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

হামহাম ঝরনা

যেভাবে যাবেন দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে ট্রেন বা বাসে চড়ে আপনি অনায়াসেই পৌঁছে যেতে পারেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সার্ভিস জিপে চড়ে চাম্পারাই চা-বাগানে পৌঁছাতে পারেন। একই স্ট্যান্ড থেকে জিপ রিজার্ভ করেও চাম্পারাই চা-বাগানের কলাবনে যেতে পারেন
হামহাম ঝরনা
ঝরনার নাম হামহাম। এ ঝরনার রূপ দেখে চোখ ফেরানো যায় না। ভ্রমণসঙ্গীরা সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এই রূপ ক্যামেরাবন্দি করতে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় এমন সুন্দর দর্শনীয় স্থান আমাদের কাছে এতদিন অপরিচিত ছিল, ভাবতেই অবাক লাগে।
যাত্রা শুরু কলাবনপাড়া থেকে। কমলগঞ্জের চাম্পারাই চা-বাগানের কলাবনপাড়া। এখান থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বের হাঁটাপথে কুরমা বনবিট। রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের একটি অংশ। ওখান থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পাহাড়-টিলা-খালপথ পেরিয়ে টিপরা আদিবাসী গ্রাম তৈলংকামী। বনকাসি পাহাড়ে গভীর অরণ্যঘেরা এ গ্রাম। এখান থেকে হামহামের পথে পেরোতে হয়েছে বেশ কয়েকটি টিলা ও পাহাড়।
বনকাসি পাহাড়ের নিচে পৌঁছে চলছিল বিশ্রামের আয়োজন। পাহাড়ের ওপরে তৈলংকামী গ্রাম থেকে কয়েকজন আদিবাসী নারী ও শিশু আমাদের দেখছিল। চোখে কৌতূহল।
পাহাড়ের ওপরে এখানে-ওখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ১০-১২টি ঘর নিয়ে আদিবাসীদের ছোট্ট গ্রাম তৈলংকামী। শণ-বাঁশে তৈরি ঘরগুলো। বারান্দা ও উঠোন লাল মাটি দিয়ে নিকানো। নকশা আঁকা, সুন্দর ও পরিপাটি। প্রতিটি ঘরের পেছনের আঙিনায় কলাগাছের ঝোপ। অবিরাম ঝিঁঝি পোকার ডাক, নানা জাতের পাখির কলরব আর বাতাসে দোল খাওয়া গাছগাছালির আওয়াজ একসঙ্গে মিশে প্রকৃতি এক অন্য রকম সুর তৈরি করে রেখেছে গ্রামটিতে। সারাক্ষণ এ সুর-মূর্ছনা সবুজ গ্রামটির বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। প্রকৃতিনির্ভর এই গ্রামের মানুষও যেন প্রকৃতির মতোই সুন্দর। কী সহজ-সরল তাদের প্রকাশভঙ্গি! কী আন্তরিক তাদের আতিথেয়তা। নিজেদের ফলানো কলা, হাতের তৈরি পিঠা দিয়ে তারা আমাদের আপ্যায়িত করল। আর সঙ্গে দিল কুয়ার ঠা-া স্বচ্ছ পানি।
এখানে আধঘণ্টা বিশ্রাম শেষে আবারো পথে পা বাড়ালাম। কিছু দূর এগোতেই একটানা নিরবধি হামহামের শব্দ কানে বাজল। ভাবলাম, এই তো এসে গেছি। কিন্তু না। কয়েকটি টিলা মাড়ানোর পর সামনে পড়ল একটা বিশাল পাহাড়। এবার দলের সবার রসিকতা, এই তো এভারেস্ট!
এবার আমাদের সামনেও এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার দুর্লভ সুযোগ। মনের মধ্যে ভীষণ অ্যাডভেঞ্চার দানা বেঁধে উঠতে লাগল। এ সুযোগ কিছুতেই হাতছাড়া করা যাবে না। শ্যামল আমাদের হাতে বাঁশের শক্ত লাঠি ধরিয়ে দিলেন। এটাতে ভর দিয়ে পাহাড়ে চড়তে হবে। নামতেও হবে এটাতে ভর দিয়েই। চূড়ায় উঠে দেখি, সামনে নিচে কলকল শব্দে বয়ে চলেছে একটি স্রোতধারা।
সাবধানে পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে নেমে শ্যামলের পিছু পিছু এই স্রোতধারা অনুসরণ করে উজানে হাঁটতে লাগলাম। ঠা-া পানি। পানির নিচে পিচ্ছিল পাথর। এর ওপর দিয়ে আমরা এগিয়ে চললাম। প্রচ- গরমের মধ্যেও যেন পা দুটো ঠা-ায় একসময় স্থির হওয়ার উপক্রম। আর বুঝি পারব না। হামহাম শব্দ অনেকক্ষণ থেকেই কানে বাজছিল। কিন্তু কোথায় সে শব্দের উৎস? আর কত দূর? একসময় আমরা একটা গিরিপথের মধ্যে গিয়ে পড়লাম। পথের সামনে-পেছনে খোলা। ওপরে গহিন বনের বিচিত্র গাছগাছালির আচ্ছাদন। দুই পাশে পাথর হয়ে যাওয়া পাহাড়। গিরিপথ ধরে প্রায় ২০ মিনিট এগিয়ে যেতেই চোখ জুড়িয়ে গেল। এই তো সেই অপরূপ ঝরনা। এ তো কষ্ট সার্থক। দুই চোখ ভরে দেখে নিলাম। তার জলে গা ভিজিয়ে নতুন উদ্যম ফিরে পেলাম। এখান থেকে আবার ফিরতিপথে হাঁটা।
যেভাবে যাবেন
দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে ট্রেন বা বাসে চড়ে আপনি অনায়াসেই পৌঁছে যেতে পারেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সার্ভিস জিপে চড়ে চাম্পারাই চা-বাগানে পৌঁছাতে পারেন। প্রতিদিন সকাল ৮টার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে থেকে একটিমাত্র জিপ যায় চাম্পারাই চা-বাগানে। সার্ভিস জিপে গেলে আপনাকে আধা কিলোমিটার হেঁটে কলাবন শ্রমিক বসতিতে যেতে হবে। একই স্ট্যান্ড থেকে জিপ রিজার্ভ করেও চাম্পারাই চা-বাগানের কলাবনে যেতে পারেন। ফেরার চিন্তা মাথায় রেখে ভোরে রওনা দেয়াই ভালো। হাঁটতে হবে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা। সঙ্গে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ গাইড নিতে হবে। নয় তো নির্ঘাত গভীর অরণ্যে পথ হারিয়ে যেতে পারেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd


উপরে