স্বৈরাচারের দোসর কি করে শিল্পকলার ডিজি হয়, প্রশ্ন রিজভীর

প্রকাশ | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০০:০০

যাযাদি ডেস্ক
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনের পক্ষ থেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত তিন পরিবারকে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংগৃহীত

জামিল আহমেদের মতো ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দোসর কীভাবে শিল্পকলা একাডেমির ডিজি হয়, এমন প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, 'আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, কেউ কেউ আবার বলেছে যে দেশে একটি স্থিতিশীল পরিবেশের জন্য শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপ করা দরকার। কেন? হিটলারের সঙ্গে কি সংলাপ করা যায়? আবার কি আমরা ইয়াহিয়া খান, টেক্কা খানকে ডেকে নিয়ে এসে সংলাপ করব? এই সব বলা লোক সৈয়দ জামিল আহমেদকে শিল্পকলা একাডেমির ডিজি বানানো হয়েছে। এগুলো হচ্ছে কেন? তিনি কয়েকদিন আগে বলেছেন, পালিয়ে থাকা রামেন্দ্র মজুমদার, নাসির উদ্দিন বাচ্চু- এদের নিয়ে আসা দরকার। আমার প্রশ্ন তারা পালিয়েছে কেন? ওরা আত্মগোপনে আছে কেন? আমরা তো দেখছি, যারা ভদ্র আওয়ামী লীগার তারা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে।' অন্তর্র্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'আপনাদের দুর্বলতার সুযোগে কিংবা আপনাদের ভালো মানসিকতার সুযোগে ওই পরাজিত স্বৈরাচারের লোকেরা যেন কোনোভাবেই প্রতিষ্ঠা না পায়। হিটলারের যারা সহযোগী ছিল, তাদের কি পরবর্তী সরকার কোনো জায়গায় দিয়েছিল? এটাতো আমরা কখনোই শুনি নাই।' মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় বিএনপি পরিবারের উদ্যোগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত তিনটি পরিবারের মাঝে তারেক রহমানের অর্থ সহায়তা দিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রিজভী। বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, 'তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা নানা কথা বলছেন। সৈয়দ জামিল আহমেদ ও এ সমস্ত বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে কিসের রাষ্ট্র তৈরি করতে চান? আবার আপনি শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে চান? আপনি শেখ হাসিনাকে ফিরে আনলে হয়তো আপনাদের আবার সুবিধা হবে। কিন্তু গোটা জাতি আবার ক্রীতদাস হয়ে যাবে, বন্দি হয়ে যাবে, শেখ হাসিনার কাছে এবং তার প্রভু ভারতের কাছে। বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, 'সোমবার ২৫ জন ডিসি দিয়েছেন। এই ২৫ জন ডিসির সবগুলোই ছিল ছাত্রলীগের। এরা এখন ডিসি হয়ে গেছে, এরা তো গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করবে না। আজকে যারা আয়নাঘর করেছে, সাগর রুনির হত্যাকান্ডকে যারা ধামাচাপা দিয়েছে, যারা একের পর এক দুষকর্ম করেছে, তাদেরই তো এরা প্রশ্রয় দেবে। অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সবার আস্থা আছে। ড. ইউনূস সবার শ্রদ্ধাভাজন। কিন্তু উনাদের দেখতে হবে, এই পরাজিত ভয়ঙ্কর স্বৈরশক্তির দোসররা যদি মাথা চাড়া দেয়, তাহলে তো আবার সেই পরিস্থিতি তৈরি হবে।' তিনি বলেন, 'শিশু-কিশোর ছাত্রছাত্রীদের রক্ত নিতে যে মহিলাটি দ্বিধা করেনি, শ্রমজীবীর রিকশাচালকদের হত্যা করতে যার হৃদয় কাঁপে না, তারা হয় দেশের প্রধানমন্ত্রী! যাদের হত্যা করা হয়েছে, তারা বিদেশি কোনো শত্রু নয়, দেশেরই মানুষ ইমন, বাবু, নুরু বেপারীরা- এই দেশের মানুষ। আপনি ১৬ বছর অবৈধভাবে, অন্যায়ভাবে গায়ের জোরে অবৈধ ক্ষমতা দখল করে রেখেছিলেন, আপনার নির্বাচন যে পাতানো ছিল, একতরফা ছিল, সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আপনি ক্ষমতা দখল করে রেখেছিলেন। এটা সারা বিশ্ববাসী জানে।' রিজভী বলেন, 'সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছের লোকেরা যে লুটপাট করেছে, তিনি প্রকারান্তরে তাদের সমর্থন দিয়েছে। আমরা বলেছিলাম, মেগা প্রজেক্ট মেট্রোরেল ফ্লাইওভার করে তারা অনেক টাকা পাচার করেছে- সেটা তো সত্য হয়েছে। তার পিওন চারশ' কোটি টাকার মালিক, তিনি নিজে মুখে বলেছেন। তার লুটপাটের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেছে, তাদের হয় গুম করা হয়েছে, না হয় আয়নাঘরে রাখা হয়েছে। আয়নাঘরটা কি তার হদিস কেউ জানে না। কিন্তু তার অস্তিত্ব আছে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা তার বিরোধীদের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ছাড়া একটি কালো জায়গায় অন্ধকার ঘর যেখানে বন্দি করে রাখা হয়। এটা আমার কথা নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার একটি রিপোর্ট থেকে বলা হয়েছিল। তিনি বলেন, 'সম্প্রতি দুনিয়া কাঁপানো গণঅভু্যত্থানে যারা অকাতরে জীবন দিয়েছে সেই ছাত্র-জনতা এবং শ্রমজীবী মানুষের উলেস্নখযোগ্য কয়েকজনের মধ্যে এই এলাকায় তিনজন, যারা শহীদ হয়েছেন তার মধ্যে ইমন, নুরু বেপারী ও বাবু তাদের পরিবার এখানে উপস্থিত রয়েছেন। আমরা এই তিন শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন, সদস্য সচিব মিথুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আরিফুর রহমান তুষার, যুবদল নেতা মেহবুব মাসুম শান্ত, ছাত্রদল নেতা তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।