সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

নরসিংদীতে আওয়ামী লীগে গৃহবিবাদ বিএনপি নীরব, অস্তিত্ব সংকটে অন্যরা

নরসিংদী আওয়ামী লীগ এখন দুই ভাগে বিভক্ত। বিএনপির বর্তমান অবস্থান অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়ার মতো। জাতীয় পার্টি, জামায়াত, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ অন্য দলের কোনো ধরনের তৎপরতা দেখা যায় না
নরসিংদীতে আওয়ামী লীগে গৃহবিবাদ বিএনপি নীরব, অস্তিত্ব সংকটে অন্যরা

নরসিংদীর রাজনৈতিক অঙ্গনে মানুষের মুখে এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে ঘিরেই আলোচনা-সমালোচনা। নরসিংদীতে দলটির অভ্যন্তরীণ বিবাদ প্রকাশ্যে রূপ নেওয়ায় সমালোচনা হচ্ছে বেশি। অন্যদিকে বিএনপির মধ্যে গৃহবিবাদ না থাকলেও জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির। জেলায় জাতীয় পার্টি, জামায়াত বা অন্যান্য দল অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।

আওয়ামী লীগ : নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর আসনের সংসদ সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু বীরপ্রতীক এবং নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নরসিংদী পৌরসভার মেয়র মো. কামরুজ্জামানের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে একই এলাকায় একত্রে অনুষ্ঠানের আয়োজন না করে পৃথকভাবে করতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনেও দেখা গেছে ভিন্নতা। নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে গত ২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার সকালে শহর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠান করেছে এবং একই স্থানে বিকালে করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন ভূঁইয়া জেলা কমিটির আয়োজিত বিকালের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেননি। তিনি সকালে শহর আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে ছিলেন। এর আগে জাতীয় শোক দিবস এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানেও আব্দুল মতিন ভূঁইয়াকে শহর আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গেছে। অর্থাৎ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন ভূঁইয়াকে ছাড়াই দলীয় অনুষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু।

মূলত নরসিংদীর আওয়ামী লীগ এখন দুই ভাগে বিভক্ত। এর একটি পক্ষ নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু এবং তার সমর্থক অন্যান্য নেতাকর্মী। অপর পক্ষে রয়েছেন নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র মো. কামরুজ্জামান। তার সঙ্গে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন ভূঁইয়া। দুই পক্ষের বিবাদ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। অনুষ্ঠানের বক্তব্যমঞ্চে একে অপরকে হেয় ও কটাক্ষ করে বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে।

নিজেদের মধ্যে এই বিবাদ-বিভক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দু'জনেই এসব বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

বিএনপি : নরসিংদীতে বিএনপির বর্তমান অবস্থান অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়ার মতো। পুরানো কমিটিতেই রয়েছে জেলা বিএনপির যুবদল ও ছাত্রদল। উলেস্নখযোগ্য কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচি পালন করতে তাদের দেখা যায় না। মাঠপর্যায়ে বিএনপির অবস্থান নেই বললেই চলে। নেতাকর্মীদের দিন কাটছে অনেকটা নীরবে নিভৃতে। জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের চিনিশপুরস্থ কার্যালয়ে মাঝে-মধ্যে দলীয় কর্মসূচির আয়োজন করলেও পুলিশি কড়া বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত পেরে উঠতে পারেন না বলে দাবি করেছেন জেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন জানান, পুলিশ বিএনপিকে সভা করতে পারমিশন দেয় না। অথচ আওয়ামী লীগ সভা করতে কোনো পারমিশন লাগে না। তিনি জানান, পুলিশ নেতাকর্মীদের যেখানে একসঙ্গে বসারই পারমিশন দিচ্ছে না, সেখানে নতুন কমিটি গঠনের সুযোগ কোথায়?

এদিকে জাতীয় পার্টি, জামায়াত, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ অন্যান্য দলের কোনো ধরনের তৎপরতা দেখা যায় না। জামায়াত অতি গোপনে সাংগঠনিক কাজ চালালেও প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।

উলেস্নখ্য, নরসিংদীর ৬টি উপজেলার ৫টি সংসদীয় আসনে গত ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩টি নির্বাচনেই সবকটি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। ২০০১ সালে একমাত্র নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসন থেকে আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রার্থী রাজিউদ্দিন আহমেদ ছাড়া বাকি আসনগুলোতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd


উপরে