সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

নীতিহীন সাংবাদিকতা যেন না হয়

ডিআরইউর রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
নীতিহীন সাংবাদিকতা যেন না হয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার ডিআরইউ রজতজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তৃতা করেন -স্টার মেইল

সংবাদপত্রকে সমাজের দর্পণ উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবাদে যেন মানুষের চিন্তা চেতনাটা ফুটে ওঠে। তার মধ্যে মানবতাবোধ যেন থাকে। নীতিহীন সাংবাদিকতা যেন না হয়। সাংবাদিকরা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে।

রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) রজতজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন তিনি।

এ সময় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি শাহজাহান সরদার, বর্তমান সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা ফিরোজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রমুখ।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন- নীতিহীন রাজনীতি যেমন দেশ ও জাতিকে কিছু দিতে পারে না। তেমনি নীতিহীন সাংবাদিকতা দেশের কোনো কল্যাণ করতে পারে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের একটা নীতিমালা আছে। সাংবাদিকতার একটা নীতিমালা আছে। এই দুটো মনে রাখলে আমরা অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারব।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রতিবেদন সরকারের কাজেও সহায়ক হয় উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন পত্রিকায় অনেক ঘটনা আসে। সাথে সাথে কিন্তু আমরা সেটা সেই রিপোর্ট দেখে অনেক অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই। আবার অনেক অন্যায় ঘটনা ঘটলে তার প্রতিকারও করতে পারি, অনেক দোষীকেও আমরা শাস্তি দিতে পারি এবং দিয়ে থাকি। সেই দিক থেকে আপনারা (সাংবাদিকরা) অনেক ঝুঁকি নিয়ে রিপোর্ট করেন। সেজন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি এটুকু অনুরোধ করব যে, এমন রিপোর্ট করবেন না যেটা মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে বা মানুষ বিপথে যায়। সেদিকেও আপনাদের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, একটা সময় ছিল, আমাদের দেশে যতই অন্যায় হোক, দুর্নীতি হোক, ধামাচাপা দেওয়া হতো। আমাদের সরকার কিন্তু তা করছে না। আমরা কখনো এটা চিন্তা করি না যে, সে (অপকর্মকারী) আমার দলের কিনা। এতে দলের ক্ষতি হবে কিনা। যে অন্যায় করেছে, তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। দুর্নীতির বীজ বপন করে গেছে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টের পর

অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা দলগুলো। তারা দুর্নীতিকে শুধু প্রশ্রয় দিত না, নিজেরাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ত।

নিজেকে সাংবাদিক পরিবারের সদস্য দাবি করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, জাতির পিতা নিজেই সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একবার তিনি সাপ্তাহিক মিলস্নাত নামে একটি পত্রিকা করেছিলেন। এরপর পাকিস্তান হওয়ার পর যখন সবাই বাংলাদেশে চলে আসে, তখন ইত্তেফাক বের করা হয়। সেখানেও কিন্তু বঙ্গবন্ধু ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। আবার 'নতুন দিন' নামে আওয়ামী লীগের জন্য আরেকটি পত্রিকা বের করেছিলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ১৯৫৮ সালে মার্শাল ল' এর পর বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হন। এরপর উনি যখন মুক্তি পান, সেই ১৯৬১ সালের দিকে, তখন থেকে সাপ্তাহিক বাংলার বাণী বের করেন। সেইদিক থেকে আমি অন্তত দাবি করতে পারি, আমিও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সন্তান হিসেবে সাংবাদিক পরিবারেরই কিন্তু একজন সদস্য। কাজেই সেভাবে আমি আপনাদেরকে দেখি।

জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিল, তারাই এ দেশে 'দুর্নীতির বীজ বপন করে গেছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রথমে জিয়াউর রহমান, এরপরে এরশাদ, এরপরে খালেদা জিয়া। তারা দুর্নীতিটাকে প্রশ্রয় দেওয়া শুধু না, নিজেরা দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিল এবং দুর্নীতিকে লালন পালনই করে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমরা কিন্তু সেটা কখনো করছি না।

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই দেশে জঙ্গিবাদীরা নিজেরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছে, সরকারিভাবে তাদেরকে প্রটেকশন দেওয়া হয়েছে, পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। আর সেই বাংলা ভাই টাংলা ভাই এরা সব অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ট্রাকে করে মিছিল করে। এই ঘটনা তো আপনারা দেখেছেন। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর সেই খুনিদেরকে দেশ থেকে বের হতেও দেওয়া হলো- কোথা থেকে এক জজ মিয়া নামের এক গরিব লোককে নিয়ে এসে একটা নাটক সাজানো হলো।

২০০৮-এর নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার এসে উন্নয়নের কথা তুলে শেখ হাসিনা বলেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে যদি দেশে এত উন্নতি করা যেতে পারে- দারিদ্র্যের হার যদি শতকরা ৪০ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নামানো যায়, মাথাপিছু আয় যদি বৃদ্ধি করা যায়, অবকাঠামো উন্নয়ন করা যায়, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা যায়, তাহলে ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল কেন করতে পারে নাই? পারে নাই সেটা না। এটা তাদের নীতির ব্যাপার ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতাটাকে ব্যর্থ করে দেওয়া। বাংলাদেশের মানুষকে অসহায় করে রাখা, দরিদ্র করে রাখা। ওই দরিদ্র হাড্ডিসার মানুষগুলোকে দেখিয়ে দেখিয়ে বিদেশ থেকে সাহায্যের নামে টাকা এনে সেই টাকা উদরস্থ করা, পকেটস্থ করা। দুর্নীতিটাকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd


উপরে