বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ ১৪ কার্তিক ১৪২৭

ভার্চুয়াল সভায় প্রধানমন্ত্রী

ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতিসংঘকে দুর্বল করতে দেওয়া যাবে না

জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম অনলাইন পস্নাটফর্মে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন বিশ্ব নেতারা
ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতিসংঘকে দুর্বল করতে দেওয়া যাবে না
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কে শুরু হওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে ভার্চুয়াল বক্তৃতা করেন -ফোকাস বাংলা

বিশ্বমানবতার কল্যাণে জাতিসংঘের কর্মকান্ড আরও গতিশীল করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে জাতিসংঘকে দুর্বল করতে দেওয়া যাবে না। সার্বিক মানবকল্যাণের জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জাতিসংঘকে সত্যিকারের কার্যকর একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে গড়তে হবে। জাতিসংঘকে সঠিক পথে নিতে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি বিশ্বাসযোগ্য ও ব্যবহারিক রোডম্যাপ প্রণয়ন করা উচিত। নিউইয়র্কে অবস্থিত সদর দপ্তরে জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় একটি উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। করোনা মহামারির কারণে জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম অনলাইন পস্নাটফর্মে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতাদের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ধারণকৃত ভাষণ দেবেন। বিশ্ববাসীর কল্যাণ ও উন্নয়নে জাতিসংঘের সব কর্মীর অক্লান্ত প্রচেষ্টা এবং আন্তরিকতার প্রশংসা করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ ও এর পরবর্তী সময়ের জন্য জাতিসংঘকে সঠিক পথে রাখতে ইউএন৭৫-এর একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত রূপরেখা দেওয়া উচিত। যাতে প্রতিশ্রম্নতি পূরণ এবং দৃঢ়ভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা যায়। জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই সংস্থাকে সার্বিকভাবে মানবকল্যাণের জন্য সত্যিকার অর্থে কার্যকর একটি সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বের কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বে শান্তি বজায় রাখার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের সব শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সদস্য রয়েছে। সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের দেড়শ শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন। জাতিসংঘের ৭৫তম বার্ষিকী এবং বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মিলে যাওয়ায় এই উদযাপন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া বক্তব্যের 'জাতিসংঘ ভাবীকালের দিকে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সমুজ্জ্বল রাখিয়াছে।' এই অংশটুকু উদ্ধৃত করেন। প্রতিশ্রম্নতির বাস্তবায়ন, দৃঢ়ভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জাতিসংঘকে সঠিক পথে রাখতে বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তবসম্মত একটি রূপরেখা প্রণয়ন করতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্ব- সবার কাছেই জাতিসংঘের প্রয়োজনীয়তা যে এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি, করোনাভাইরাস মহামারি তা দেখিয়ে দিয়েছে। আর সে কারণেই ভূরাজনৈতিক বৈরিতা থেকে জাতিসংঘকে 'দুর্বল করার চেষ্টা' মেনে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ২০৩০ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনকে আরও চ্যালেঞ্জিং করেছে কোভিড-১৯। এটা বর্তমানের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ঘাটতিকেই স্পষ্ট করেছে। একইসঙ্গে এই মহামারি দেখিয়েছে যে, উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় দেশসমূহের জন্যই অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে জাতিসংঘকে বেশি প্রয়োজন। এটা দেখিয়েছে, বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার উপায়। এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়নে জাতিসংঘের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে :প্রধানমন্ত্রী
গাজীপুরে রহস্যঘেরা ঐতিহাসিক বড়দীঘি !
অবসরের ২০ বছরেও পেনশন পাননি মাইনউদ্দীন
রাজশাহীতে দিপঙ্কর হত্যা মামলার সব আসামি খালাস
লোক দেখাতে নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি :কাদের
হাওড়ে গ্রিন হাউস পদ্ধতিতে সবজি চারা উৎপাদন শুরু

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd

close

উপরে