logo
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৭ আশ্বিন ১৪২৭

  যাযাদি ডেস্ক   ১৪ আগস্ট ২০২০, ০০:০০  

বন্যায় মৃতের সংখ্যা দুইশ ছাড়াল

ফের বাড়ছে নদনদীর পানি

ফের বাড়ছে নদনদীর পানি
টাঙ্গাইলের বাসাইলে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিবন্দি। ছবিটি বৃহস্পতিবার তোলা -ফোকাস বাংলা

দেশের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হলেও আবারও বাড়তে শুরু করেছে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, সুরমা, কুশিয়ারাসহ বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানির উচ্চতা। এতে পুনরায় বন্যা শুরুর শঙ্কা প্রকাশ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বৃহস্পতিবার পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সমতল বাড়ছে। যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল কমেছে। যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বাড়ছে। যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা সিটি করপোরেশন-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ইতোমধ্যে দেশে এবং দেশের উত্তরে সীমান্তবর্তী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বৃষ্টিপাত বাড়তে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে আরও বাড়ার আভাস রয়েছে। মূলত ভারতের বৃষ্টিপাত বাড়ার কারণেই এ বছর ইতোমধ্যে দুই দফায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দেশে। এ অবস্থায় ১০ দিনের পূর্বাভাসে পাউবো জানিয়েছে, ১৪ আগস্টের পরে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি, গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি, সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর, জামালপুর জেলার বাহাদুরাবাদ, টাঙ্গাইল জেলার এলাসিন এবং মানিকগঞ্জ জেলার আরিচা পয়েন্টে পানি সমতল বাড়তে পারে। বাড়তে পারে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতলও। রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ পয়েন্ট, মুন্সীগঞ্জ জেলার ভাগ্যকূল পয়েন্ট এবং শরীয়তপুর জেলার সুরেশ্বর পয়েন্টে আগামী ৩ দিন পানি সমতল ক্রমান্বয়ে কমতে পারে এবং তারপর বাড়া শুরু করতে পারে। এর ফলে ১৫ আগস্টের পরে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি সমতল বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং তারপর বাড়তে পারে। মিরপুর পয়েন্টে তুরাগ নদী এবং রেকাবি বাজার পয়েন্টে ধলেশ্বরী নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং তারপর বাড়তে পারে। ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আগামী সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বর্তমানে দেশে পাঁচটি নদীর পানি ছয় পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে গুড় নদীর পানি সিংড়ায়, ধলেশ্বরীর পানি এলাসিনে, তুরাগের পানি মিরপুরে, টঙ্গী খালের পানি টঙ্গীতে, ধলেশ্বরীর পানি জাগিরে এবং পদ্মার পানি গোয়ালন্দে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যায় মৃতের সংখ্যা দুইশ ছাড়াল দেশের চলমান বন্যা দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা দুইশ ছাড়িয়ে গেছে। গত ৩০ জুন থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত বন্যার পানিতে ডুবে ১৬৯ জন, বজ্রপাতে ১৩ জন, সাপের কামড়ে ১৭ জন, ডায়রিয়ায় একজন এবং অন্যান্য কারণে দুজনেরসহ মোট ২০২ জনের মৃতু্য হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বন্যা দুর্যোগে মৃত ২০২ জনের মধ্যে লালমনিরহাটে ১৭ জন, কুড়িগ্রামে ২৩ জন, গাইবান্ধায় ১৫ জন, নীলফামারীতে দুইজন, রংপুর তিনজন, সুনামগঞ্জে আটজন, সিরাজগঞ্জে ১৫ জন, জামালপুরে ৩১ জন, টাঙ্গাইলে ৩১ জন, রাজবাড়ীতে দুইজন, মানিকগঞ্জে ১৯ জন, ফরিদপুরে একজন, নেত্রকোনায় ছয়জন, গাজীপুর তিনজন এবং গোপালগঞ্জে দুইজনের মৃতু্য হয়। সূত্র জানায়, আক্রান্ত জেলাগুলোতে এ পর্যন্ত ডায়রিয়ায় ১৪ হাজার ২১১ জন, শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহে (আরটিআই) চার হাজার ৪৪৯ জন, বজ্রপাতে ৪৭ জন, সাপের কামড়ে ৫৩ জন, পানিতে ডুবে ১৬৯ জন, চর্মরোগে আট হাজার ৭২২ জন, চোখের প্রদাহে এক হাজার ১৮ জন এবং অন্যান্য রোগে ১১ হাজার ১৭৯ জনসহ মোট ৪০ হাজার ৭১০ জন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। এদিকে কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে লোহাজুরী ইউনিয়নের উত্তর পূর্বচর পাড়াতলা এবং মসূয়া ইউনিয়নের বৈরাগীরচরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের ফলে গ্রাম দুইটি বিলীনের পথে। বসতঘর, রাস্তা, বাজার, ফসলি জমি, কবরস্থান, বাঁশঝাড়, গাছগাছালি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভয় ও আতঙ্কে নদী পাড়ের অসহায় কয়েকশ' পরিবার উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন। জানা যায়, গত শুষ্ক মৌসুমে নদী খননের সময় লোহাজুরী ইউনিয়নবাসী নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে খননের উত্তোলিত বালু দিয়ে ভাঙন এলাকা ভরাটের দাবিতে মানববন্ধন করেছিল। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন নদীটির পশ্চিম অংশ দিয়ে খনন করে ভাঙন এলাকায় মাটি ভরাট করা হবে বলে আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি উপেক্ষা করে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কোনো ব্যবস্থা করেননি। নদী খনন করা মাটি ভাঙন এলাকায় ভরাট না করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিক্রির জন্য উঁচু জমিতে বালু উত্তোলন করেন। বর্ষা মৌসমে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন এলাকা আবার নতুন করে ভাঙতে শুরু করেছে। অতি দ্রম্নত নদী ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় কটিয়াদী-পাইকান সড়ক ভেঙে লোহাজুরী ও জালালপুর ইউনিয়নের দুইটি গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। উপজেলা সদরের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে যোগাযোগব্যবস্থা। অপরদিকে মসূয়া ইউনিয়নের বৈরাগীরচর গ্রামের ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদী ভাঙনরোধ করা না গেলে কয়েকশ' পরিবার নিঃস্ব হয়ে যেতে পারে। নদীভাঙনের সংবাদ পেয়ে নূর মোহাম্মদ এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মুশতাকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. আকতারুন নেছা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যেই পূর্বচরপাড়াতলা গ্রামে নদীভাঙন প্রতিরোধের অস্থায়ী কাজ শুরু করা হয়েছে। চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের পুরানবাজার হরিসভার ৪৫ মিটার এলাকায় আবারও নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে মেঘনার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো এলাকা। বুধবার রাত ১০টায় হঠাৎ করে ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনে একটি বৈদু্যতিক পিলারসহ প্রায় ২০মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকশ' মানুষের বসতবাড়ি, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসাসহ হরিসভা মন্দির। এদিকে ভাঙনরোধে কাজ শুরু করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। তবে ঠিকাদারের কাজের মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। নদীতে ডাম্পিংকৃত জিও টেক্সটাইল ব্যাগে যে পরিমাণে বালি ভরার কথা রয়েছে তা মানা হচ্ছে না। এতে করে নদী ভাঙনরোধ করা নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। পুরানবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা কালু ও বিমল চক্রবর্তী বলেন, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় দিকে হঠাৎ করে নদীভাঙন দেখা দেয়। নদীর ঢেউ ও ঘূর্ণিস্রোতের প্রভাবে পাড় ভেঙে যাচ্ছে। এ সময় একটি বৈদু্যতিক তারের খুঁটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ওই স্থানের বিদু্যৎ ও গ্যাসের লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। স্থানীয় অনেক মানুষ ভয়ে তাদের আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে