logo
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৪ আগস্ট ২০২০, ০০:০০  

বৈদু্যতিক সঞ্চালন লাইনের তার যাবে মাটির নিচে

রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জের বৈদু্যতিক সঞ্চালন লাইন মাটির নিচে স্থাপন করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনায় আটকে থাকা এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে পাইলট প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার। আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, একনেক সভায় মূল প্রকল্পের ব্যয় প্রস্তাব করা হবে ২০ হাজার ৫০১ কোটি ৫২ লাখ টাকার। প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে পাইলট প্রকল্পের আওতায় নতুন করে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ১ লাখ ১৫ হাজার গ্রাহককে বিদু্যৎ সংযোগ দেবে ডিপিডিসি। এছাড়া হাতিরঝিল ও ধানমন্ডি এলাকার সব বিদু্যৎ বিতরণ লাইন মাটির নিচে স্থাপন করা হবে।

'ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় উপকেন্দ্র নির্মাণ ও পুনর্বাসন, বিদু্যৎ ব্যবস্থায় ক্যাপাসিটি ব্যাংক স্থাপন এবং স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থার প্রবর্তন'

শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কিছু এলাকায় মাটির নিচে চলে যাবে বিদু্যতের তার। এতে সুফল পাওয়া গেলে ব্যাপক আকারে বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৫৪ কোটি ৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় নতুন সাবস্টেশন স্থাপন ও পুরানো সাবস্টেশনের সংস্কারসহ স্মার্ট গ্রিড স্থাপন করা হবে।

আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন পেলে চলতি আগস্ট থেকেই ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ডিপিডিসি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছয়টি নতুন সাবস্টেশন নির্মাণসহ তিনটির সংস্কার ও ক্ষমতা বাড়ানো হবে। স্মার্ট গ্রিড বসানোর ফলে বিদু্যতের টেকনিক্যাল লসও কমবে।

প্রকল্প প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশেনর শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, প্রকল্পটি আগামী একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পের কিছু কাজ সংযোজন করা হবে। এর আওতায় ঢাকার কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলক বা পাইলট হিসেবে বিদু্যতের তার মাটির নিচে নেওয়া হবে। এতে সুফল পাওয়া গেলে বড় প্রকল্প গ্রহণ করবে সরকার। কিছু এলাকায় স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থা চালু করা হবে। ফলে গ্রাহক ঘরে বসেই মিটারের সব তথ্য পাবেন।

বিদু্যৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ডিপিডিসি এলাকায় বিদু্যদের চাহিদা বাড়ছে। ফলে সিস্টেমের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে বিদু্যতের সম্ভাব্য চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে ৩ হাজার ২৮৫ মেগাওয়াট। এ প্রেক্ষাপটে ডিপিডিসি এলাকায় নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন উপায়ে বিদু্যৎ সরবরাহের জন্য নতুন ১৩২/৩৩ কেভি ও ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন নির্মাণসহ বিদ্যমান ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশনগুলোর সংস্কার প্রয়োজন।

প্রকল্পটির আওতায় ডিপিডিসির অধীন রাজধানীর জিগাতলা, লালমাটিয়া, আসাদগেট, সাতমসজিদ রোড ও গ্রিন রোডের মোট পাঁচটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশনে পাইলটিং বেসিসে স্মার্ট গ্রিড সিস্টেম চালু করা হবে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সাবস্টেশন ও ফিডার লেভেলের ত্রম্নটি চিহ্নিত করা, আইসোলেশন অ্যান্ড সার্ভিস রেস্টোরেশন এবং অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক রিকনফিগারেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি গ্রিড ব্যবস্থায় অটোমেটিক সার্কিট রিক্লোজার, রিং মেইন ইউনিট, অপটিক্যাল ফাইবার, লোড সুইচ, ডিজিটাল ইত্যাদি স্থাপনের মাধ্যমে ফিডার অটোমেশনের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে মিটার রিডিংসহ অনলাইনে ট্রান্সফরমারের কার্যক্রম মনিটর করা সম্ভব হবে। এ সংক্রান্ত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও টেকনিক্যাল লস উলেস্নখযোগ্য হারে কমবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে শিমরাইলের মোহাম্মদী স্টিল ও শ্যামপুরে দুটি ১৩২/৩৩ কোভি গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া কামরাঙ্গীরচর, কল্যাণপুর, লালবাগ ও মাদারটেকে চারটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে। বিদ্যমান উপকেন্দ্রগুলোতে ক্যাপাসিটি ব্যাংক স্থাপনের মাধ্যমে ১৩২ কেভি, ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি ভোল্টেজ লেভেলে পাওয়ার ফ্যাক্টরের উন্নয়ন করা হবে। ডেমরা, তালতলা ও কুমারটুলিতে তিনটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশনের সংস্কার করা হবে। কামরাঙ্গীরচর, লালমাটিয়া, গ্রিন রোড, খানপুর ও খিলগাঁও- এই পাঁচটি সাবস্টেশনে এআইএস ব্রেকারের পরিবর্তে জিআইএস (জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম) ব্রেকার স্থাপন করা হবে। এছাড়া জিগাতলা, লালমাটিয়া, আসাদ গেট, সাতমসজিদ রোড ও গ্রিন রোডে পাইলটিং ভিত্তিতে পাঁচটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশনে স্মার্ট গ্রিড সিস্টেম চালু করা হবে। ছয়টি সাবস্টেশনে ভবনও নির্মাণ করা হবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে