logo
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৭ আশ্বিন ১৪২৭

  যাযাদি রিপোর্ট   ১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০  

বিচারবহির্ভূত হত্যায় উদ্বেগ ঐক্যফ্রন্ট ইস্যুতে বিভক্তি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

বিচারবহির্ভূত হত্যায় উদ্বেগ ঐক্যফ্রন্ট ইস্যুতে বিভক্তি

বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। শনিবার বিকালে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের বিষয়াদি নিয়ে রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। বৈঠকে আলোচিত বিষয় নিয়ে দলটির নেতাদের গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাই কোনো নেতাই এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুইজন নেতা বলেছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গঠন করা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন, দলের সাংগঠনিক অবস্থা, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা, ঢাকা-১৮ ও ঢাকা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনসহ অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় উত্তেজনাও ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নেতারা জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন ও এর পরবর্তী কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এক পর্যায়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যৎ কী হবে- তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি নেতারা। এছাড়াও বেগম জিয়ার মামলা নিয়ে পরবর্তীতে কী করণীয়- সে সম্পর্কে আলোচনা করেন নেতারা। আপাতত খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন নেতারা। তাই এখনি বেগম জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে সামনে না আনার পক্ষে মত দেন অধিকাংশ নেতা। ওই নেতারা আরও জানান, করোনা সংক্রমণের কারণে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। সেটি নতুন করে বাড়ানো হবে কি না- সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা-১৮ ও ঢাকা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপি দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র জানায়, ভার্চুয়াল স্থায়ী কমিটির বৈঠকের শুরুতে তারেক রহমান বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের সব সিনিয়র নেতার মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল। তখন প্রকাশ্যে কোনো বিরোধিতা করা না হলেও এখন কেন বিরুদ্ধ মত প্রকাশ করা হচ্ছে তা জানতে চান। এ বিষয়ে দলের নেতৃত্বের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তিনি। বৈঠকে তার এ অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে সিনিয়র নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েন। তারা নিজেদের মতো করে ঐক্যফ্রন্ট গঠনে তখনকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে পৃষ্ঠা ১১ কলাম ১ \হধরেন। তবে এ সময়ে একটি পক্ষ নীরবতা অবলম্বন করেন। তারা কোনো কথাই বলেননি। শনিবার বিকাল ৫টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপির মাধ্যমে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ছাড়াও অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। পরে বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশের গুলিতে যেভাবে হত্যার ঘটনা বেড়ে চলেছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানানোর জন্য সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টকে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি বেড়েই চলেছে যা বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ এবং ভিন্নমত দমনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। অবৈধ সরকার ক্ষমতায় অগণতান্ত্রিকভাবে টিকে থাকা এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার হীন ষড়যন্ত্র করছে। সভায় গত ৪ আগস্ট দলের ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মান্নানের মৃতু্য ও সাবেক ছাত্রনেতা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর অকাল মৃতু্যতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। সভায় সাম্প্রতিককালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দলের নেতাকর্মী যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের মৃতু্যতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, স্থায়ী কমিটির সভায় সাম্প্রতিককালে করোনাভাইরাসে যেসব চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ইন্তেকাল করেছেন সবার মৃতু্যতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। এছাড়া কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন এবং জনগণ যেভাবে সংক্রমিত হচ্ছে, সরকারের অবহেলা ও উদাসীনতায় বেড়ে চলেছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই বিষয়ে অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান ফখরুল।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে