বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

উপকমিটি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে আ'লীগ

উপকমিটি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে আ'লীগ

আওয়ামী লীগের উপকমিটিতে বিতর্কিত বা অনুপ্রবেশকারীদের স্থান দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা। দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী জমা দেওয়া উপকমিটির তালিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে আগামী মাসে চূড়ান্ত করা হতে পারে উপকমিটি। দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার ১৯টি বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকীয় উপকমিটি করা হবে। এরই মধ্যে ধর্মবিষয়ক বাদে সবকটি উপকমিটি দপ্তরে জমা হয়েছে। প্রতিটি উপকমিটিতে পদাধিকার বলে বিভাগীয় সম্পাদক উপকমিটির সদস্য সচিব থাকবেন।

সূত্র মতে, সম্প্রতি উপকমিটি নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এর আগে উপকমিটি থেকে দলের অনেক নেতৃত্ব তৈরির নজিরও রয়েছে। ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে দলটির গঠনতন্ত্রে প্রথমবারের মতো উপকমিটি রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সে সময় উপকমিটিতে যারা অন্তর্ভুক্ত হন, তারা সবাই সহসম্পাদক পদধারী ছিলেন। তখন সাবেক ছাত্রনেতা ও দলের ত্যাগী নেতাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে ৬০ থেকে ৭০ জনকে উপকমিটির সহ-সম্পাদক করা হতো। যাদের অনেকেই পরে কেন্দ্রীয় কমিটিতেও স্থান পেয়েছেন। তাই এবার এই জায়গাটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দলের জন্য কাজে লাগাবে এবং অতীতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনে ত্যাগ আছে এমন নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।

নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত দলের ২১তম সম্মেলনে উপকমিটির সহসম্পাদক পদ বিলুপ্ত করা হয়। এরপর উপকমিটিতে চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব ছাড়া শুধুমাত্র সদস্য রাখার বিধান করা হয়। তবে কত সদস্যের

কমিটি হবে সেটা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় প্রত্যেক সম্পাদকীয় বিভাগে ৩৫ জন করে সদস্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত কষ্ট করে যে সুনাম অর্জন করছেন, তা মুহূর্তেই মস্নান করে দিচ্ছে কতিপয় দুষ্কৃতকারী। তারা সহসম্পাদক ও উপকমিটির মাধ্যমে দলের নাম বিক্রি করে নানা অপকর্ম করেছে। তাই সহসম্পাদক বাদ দেওয়া হয়েছে। এ দুটি জায়গা (সহসম্পাদক ও উপকমিটির সদস্য) নিয়ে আগে অতটা ভাবা হতো না। কিন্তু নানা ফাঁক গলিয়ে যখন বিতর্কিতরা এখানে চলে আসতে শুরু করেছে তখনই এ নিয়ে ভাবা হচ্ছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পর প্রায় ১১ মাস অতিবাহিত হলেও নতুন কেন্দ্রীয় উপকমিটি গঠন করতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্তরা। প্রায় ১ বছর সময় নিয়ে উপকমিটিতে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে তাদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে উপকমিটিতে নাম থাকা অনেকের বিষয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। গত ৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে ৮টি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিগুলো উপকমিটির যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছে। এরপর দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করে কমিটি ঘোষণা করবেন।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান যায়যায়দিনকে বলেন, গত কয়েকটি উপকমিটিতে বিতর্কিতদের সদস্য হিসেবে যুক্ত করার ফলে দলের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাই এবার সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও সতর্কতার সঙ্গে উপকমিটিগুলো গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উপকমিটিতে কোনো বিতর্কিত, সুবিধাভোগী বা অনুপ্রবেশকারীরা যাতে জায়গা না পায় সেজন্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা নানা দিক থেকে তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করছেন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দুর্নীতি ও অনিয়মসহ বিভিন্ন অপকর্মের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয় করোনা টেস্টের রিপোর্টসহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকা মো. সাহেদকে নিয়ে। করোনা মহামারির মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা দাবিদার সাহেদের দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্য বেরিয়ে আসে। আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক দাবিদার সাহেদ রিজেন্ট গ্রম্নপের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে বেশ কয়েকটি মামলায় কারাগারে আছেন তিনি। তবে আওয়ামী লীগ থেকে বলা হয়, সাহেদ দলের কেউ নন। কিন্তু বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোসহ নানা জায়গায় আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক হিসেবেই পরিচয় দিতেন সাহেদ।

এরপর নকল মাস্ক সরবরাহের ঘটনায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার শারমিন জাহান গ্রেপ্তার হন। এদের অপকর্মের ঘটনায় দল ও সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এই পরিস্থিতিতে অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতদের ঠেকাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd


উপরে