বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

উদ্বোধন ৮ নভেম্বর

সরকারি পরিষেবার অর্থ জমা উন্মুক্ত হচ্ছে সব ব্যাংকে

সরকারি পরিষেবার অর্থ জমা উন্মুক্ত হচ্ছে সব ব্যাংকে
রাজধানীর একটি ব্যাংকের কার্যক্রম

সরকারি পরিষেবার অর্থ জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ব্যাংক নির্ভরতা আর থাকছে না। এখন থেকে দেশের যে কোনো তফসিলি ব্যাংকে এসব সেবার অর্থ জমা নেওয়া যাবে। জনদুর্ভোগ কমাতে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকে ট্রেজারি কার্যক্রম চালু করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রাথমিক ভাবে ৬টি বাংকের মাধ্যমে ৮ নভেম্বর থেকে পাইলট ভিত্তিতে শুরু হবে এই কার্যক্রম। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিভিন্ন ধরনের ট্রেজারি চালান ও সরকারি চালান বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দিতে হয়। এতে জমাদানকারীদের সময়ের অপচয় হয়। তাই দেশের সব সরকারি-বেসরকারি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় ট্রেজারি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এটি করা গেলে সরকারি লেনদেনে গ্রাহক সেবার মান আরও উন্নত হবে। তবে এই কার্যক্রমে শহরে মানুষের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে মানুষের উপকার বেশি হবে। কারণ গ্রামে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের তেমন কোনো শাখা নেই। তাই তাদের ভোগান্তি অনেক বেশি হয়। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান যায়যায়দিনকে বলেন, প্রথমে ছয়টি ব্যাংক দিয়ে আমরা পাইলট প্রোগ্রাম শুরু করব। তারপর সব ব্যাংকে তা উন্মুক্ত করে দেব। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নিয়ম চালু হলে যেকোনো ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ট্রেজারি চালান, সরকারি চালান, ব্যাংক ড্রাফট ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে টাকা জমা দেওয়া যাবে। এ কাজের জন্য ব্যাংকগুলো পাবে নির্দিষ্ট হারে কমিশন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, \হপ্রাথমিক ভাবে সোনালী ব্যাংকের পাশাপাশি ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আগামী ৮ অক্টোবর ট্রেজারি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। এই ছয় ব্যাংকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম চালানোর পর সব ব্যাংকে তা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। জানা গেছে, সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে ট্রেজারি কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি এবং ফির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিটি ব্যাংকের সঙ্গে পৃথক পৃথক চুক্তি করবে। এই চুক্তির আওতায় ট্রেজারি কার্যক্রমের জন্য ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত হারে ফি নির্ধারণ করা হবে। যা অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে নিতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, সোনালী ব্যাংকের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যাংকে ট্রেজারি কার্যক্রম পরিচালনা এবং এ কাজের জন্য নির্দিষ্ট হারে কমিশন দেওয়ার জন্য আইনগত বিষয় পর্যালোচনা করতে হচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে সোনালী ব্যাংকের পাশাপাশি অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংককে ট্রেজারি কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি ও ফি প্রদান-সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিদ্যমান ট্রেজারি রুল : ২ (বি) এবং ট্রেজারি রুল : ৪- এর অধীন প্রণীত সাবসিডিয়ারি রুল : ২৭২ সাংঘর্ষিক বিধায় তাসহ ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আরও কোনো রুল সাংঘর্ষিক হলে তা সংশোধন করতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারের কর্মকান্ড বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি ট্রেজারি কার্যক্রমও অনেক বেড়েছে। এতে সোনালী ব্যাংকের যেসব শাখায় ট্রেজারি কার্যক্রমের অনুমোদন আছে, সেখানে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক গ্রাহককে ট্রেজারি কাজের জন্য দূর থেকে আসতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে এতে গ্রাহকের সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনি শাখাগুলোতে অতিরিক্ত চাপের কারণে সেবার মান ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে সরকারি লেনদেন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে ব্যাঘাত ঘটছে। তাই দেশের সব ব্যাংকের মাধ্যমে ট্রেজারি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি সোনালী ব্যাংক ট্রেজারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে ৫৮ চেস্ট শাখা ও ৮ সাব-চেস্ট শাখাসহ সারা দেশের ৬০৩ শাখায় এটি পরিচালিত হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd


উপরে