পরীক্ষামূলক সংস্করণ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০ ১৩ কার্তিক ১৪২৭

ব্যবসায়ীদের নজর আগামী মৌসুমে

করোনাকালে আইসক্রিম বিক্রি কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ

আইসক্রিম বিক্রি মৌসুমের বাকি মাত্র ১ মাস। বছরে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার দ্রম্নতবর্ধনশীল আইসক্রিমের বাজার এখন আগামী গ্রীষ্মের অপেক্ষায়!
করোনাকালে আইসক্রিম বিক্রি কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ

রাজধানীর বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম আইসক্রিম খেতে ভালোবাসেন। পছন্দের এ হিমশীতল খাবারটি দিনে অন্তত দুবার খেতেন। তবে করোনাকালে, অর্থাৎ গত ৬ মাসে তিনি আইসক্রিম খাওয়া থেকে বিরত আছেন। ঠান্ডা খাবার খেলে করোনা ঝুঁকি বেড়ে যায়, এমন ধারণার কারণে নিজের সবচেয়ে প্রিয় খাবার থেকে দূরে রয়েছেন সেন্টযোসেফ স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মৃদুল। মা-বাবার কড়া নির্দেশ আইসক্রিম খাওয়া যাবে না।

মৃদুল ফাহিমের মতো এমন কয়েক লাখ আইসক্রিমপ্রেমী কোভিড-১৯ মহামারিতে ঠান্ডা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলেছেন। ফলে ক্রমবর্ধমান পণ্যটির বাজার চাহিদা তলানিতে ঠেকেছে।

গ্রীষ্মের উত্তাপে দেশে আইসক্রিমের চাহিদা বেড়ে গেলেও এবার বিক্রির পিক মৌসুম কেড়ে নিয়েছে করোনা। মুখরোচক হিমায়িত এ খাবারটি ভরা মৌসুমে লোকসানের ভারে বিপর্যস্ত। টানা লকডাউনে অনেকেই পণ্যটির উৎপাদনও বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

এদিকে রাজধানীর আইসক্রিম পার্লারগুলোর বিক্রিও মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সাধারণ ছুটির পর এসব আইসক্রিম পার্লার খুললেও নেই আগের মতো বেচাকেনা। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের আগে ধানমন্ডি ৮ এর 'আইসক্রিম ফেস্ট' ৪০ আসনের পার্লারে গ্রাহকদের চাপে জায়গা পাওয়া যেত না। দিন কিংবা রাত, পণ্যটি সরবরাহে রীতিমতো হিমশিম খেতে হতো পার্লারের বিক্রেতাদের। তবে এখন চিত্র বদলে গেছে।

অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ২০ শতাংশ আইসক্রিমও বিক্রি হয়নি, ব্যবসায়ীদের হিসাবে দেশে আইসক্রিম বিক্রির মূল মৌসুমের বাকি আর মাত্র এক মাস। খাতসংশ্লিষ্টরা বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষে তাপমাত্রা হ্রাস পেলে অর্থাৎ শীত আসা শুরু হলে আইসক্রিমের বিক্রি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে। লকডাউন শেষে আইসক্রিম বিক্রি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও তা এ খাতের বিশাল ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট নয়। চলমান মন্দা থেকে উত্তরণে ব্যবসায়ীদের অপেক্ষা আগামী গ্রীষ্মের।

দেশের আইসক্রিম শিল্পের বৃহত্তম শেয়ারের মালিক ইগলু আইসক্রিমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জি এম কামরুল হাসান জানান, বাংলাদেশে আইসক্রিম বিক্রির শীর্ষ সময় মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর মধ্যে সাধারণ ছুটির দু'মাসে

তাদের আইসক্রিম বিক্রি একরকম বন্ধ ছিল। এছাড়া চলমান মহামারিতে শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। এসময় আইসক্রিম বিক্রি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোলার আইসক্রিম বিক্রয়কারী ঢাকা আইসক্রিম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, করোনায় ঘোষিত লকডাউনে অর্থাৎ এপ্রিল-মে মাসে পুরো কারখানাটি বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে লকডাউন শিথিল হলে আইসক্রিমের বিক্রি ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। এ বছরের জুলাই-আগস্টে প্রতিষ্ঠানটির আইসক্রিম বিক্রির পরিমাণ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেক হলেও আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এই কর্মকর্তার মতে, করোনায় তাদের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এ বছর পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।

শিল্প অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত আইসক্রিমের বিক্রি প্রায় ছিলই না। যদিও এ সময়ের মধ্যে আইসক্রিমের ব্যবসা জমজমাট থাকে। বিশেষ করে বাংলা পঞ্জিকার প্রথমদিন পহেলা বৈশাখ উদযাপনের দিন হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এই একদিনেই ৩ মাসের সমপরিমাণ আইসক্রিম বিক্রি হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সর্বশেষ ঈদে দেশব্যাপী আইসক্রিম বিক্রি কিছুটা বেড়েছে।

আইসক্রিম ফেস্টের ব্যবস্থাপক মিনহাজ বলেন, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে বিক্রি উলেস্নখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দোকান খোলা রাখা হলেও সংক্রমণের ভয়ে অনেকেই দোকানের ভেতরে বসতে চান না। এখন যা বিক্রি হয় তার বেশির ভাগই পার্সেল। সবাই খাবার বাড়িতে কিনে নেওয়ার জন্য দোকানে আসছেন।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা মহামারিতে পণ্যটির ব্যাপক চাহিদা হ্রাসে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। দৃশ্যমান কোনো সমাধান না থাকায় অনেক উৎপাদনকারী আইসক্রিমের কাঁচামাল আমদানিও বন্ধ করে দিয়েছেন। লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে আইসক্রিম শিল্পের বাজারের আকার ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং বাজার প্রতি বছর ১৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি এবং মানুষের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন মূলত শিল্পের বিকাশে অবদান রাখছে। আবদুল মোনেম লিমিটেডের ইগলু দেশের আইসক্রিম শিল্পে বাজারে ৩৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ে শীর্ষস্থানে আছে, তারপর ঢাকা আইসক্রিম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পোলার আইসক্রিম ২৮ শতাংশ এবং কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের জানজি এবং বেলিসিমো ১৩ শতাংশে রয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, অন্যান্য ব্র্যান্ডের মোট বাজারের পরিমাণ ২১ শতাংশ। তবে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের পর বাজারের পরিস্থিতি বদলেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd

close

উপরে