logo
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৭ আশ্বিন ১৪২৭

  হাসান আরিফ   ০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০  

কোরবানির পশুর চামড়ার দামে আবারও বিপর্যয়

রাস্তায় নষ্ট হলো জাতীয় সম্পদ লাভবান আড়তদার-ট্যানারি মালিক বঞ্চিত এতিম-দুঃখীরা

কোরবানির পশুর চামড়ার দামে আবারও বিপর্যয়
কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন ব্যবসায়ীরা। ছবিটি রোববার বগুড়া থেকে তোলা -যাযাদি

কোরবানির পশুর চামড়া রক্ষায় সরকারের কোনো উদ্যোগই কাজে দিল না। গত বারের মতো এবারও রাস্তায় নষ্ট হলো কোরবানির পশুর চামড়া। এদিকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া না কেনায় সিংহ ভাগ এতিমখানা আর মাদ্রাসায় দান করে দিয়েছেন কোরবানিদাতারা। আর রাজধানীতে অল্প সংখ্যক গরুর চামড়া আকারভেদে ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা আর ছাগলের চামড়া ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে বিভিন্ন খবরে জানা গেছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরের আগেও এসব চামড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যেত। জামতলার মামুন আর মিনহাজের সঙ্গে কথা হয়। কোরবানির চামড়া কী করবেন জানতে চাইলে তারা বলেন, সাধারণত চামড়া বিক্রির টাকা গরিবদের দিয়ে থাকেন। কিন্তু এবার চামড়া কেনার জন্য কেউ আসেনি। তাই এবারের চামড়া মাদ্রাসায় দিয়ে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত বারও তারা চামড়ার দাম পাননি বলে যানান। জানা গেছে, কোনো কোনো এলাকায় মাদ্রাসার লোকও চামড়া নিতে আসেনি। যারা পশু জবাই করেছেন তাদের অনুরোধ করা হয়েছে চামড়া নিয়ে যাওয়ার জন্য। একই সঙ্গে জবাই করার জন্য তাদের আলাদা বকশিশ দেওয়া হয়েছে। এতে কোরবানির পশুর চামড়ার প্রকৃত হকদার এতিম-দুঃখীরা তাদের হক থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঈদের আগে চামড়াশিল্পের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে। ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ধরা হয়েছে। আর ঢাকার বাইরে ধরা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা। এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া গত বছর প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৩ থেকে ১৫ টাকা করা হয়। আবার দরপতন ঠেকাতে ২৯ জুলাই কাঁচা ও ওয়েট-বস্নম্ন চামড়া শর্তযুক্ত রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বড় আকারের গরুর চামড়া গড়ে ৩৫-৪০ বর্গফুট, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া গড়ে ২৫-৩০ এবং ছোট আকারের গরুর চামড়া গড়ে ১৬-২০ বর্গফুটের হয়। তাতে সরকারের নির্ধারিত দাম হিসাব করলে বড় চামড়া কমপক্ষে দেড় হাজার টাকা, মাঝারি চামড়া হাজার টাকা ও ছোট চামড়ার দাম হয় কমপক্ষে ৬০০ টাকা। তার থেকে প্রক্রিয়াজাত, শ্রমিকের মজুরি ও আড়তদারের মুনাফা বাদ দিলেও যা দাঁড়ায় তার কাছাকাছি দামেও চামড়া বিক্রি হয়নি। দাম নির্ধারণ ও রপ্তানির ঘোষণা দেওয়ার পর কোরবানির পশুর চামড়ার দামের বিপর্যয় ঠেকানো যায়নি। অথচ গতবারের চেয়েও কোরবানির পশুর চামড়ার দাম এবার ২০ থেকে ২৯ শতাংশ কমিয়ে ধরা হয়েছে। চামড়ার দরপতনের সুযোগে দালাল, ফড়িয়া, ব্যাপারী, আড়ৎদার এমনকি এই খাতের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা ট্যানারিগুলোর মুনাফা বাড়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। এদিকে নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না তা তদারকি করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকি আর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানও কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। কোরবানির পশুর চামড়া তিন হাত হয়ে ট্যানারিতে পৌঁছে। কোরবানিদাতার কাছ থেকে তা কিনে নেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তাদের কাছ থেকে কাঁচা চামড়া কেনেন আড়তদাররা। সেই চামড়া লবণ মাখিয়ে প্রক্রিয়াজাত করার পর বিক্রি করা হয় ট্যানারিতে, যেখানে তৈরি হয় চামড়াজাত নানা পণ্য। গত বছর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যে দামে চামড়া কিনেছিলেন, বিক্রি করতে গিয়ে লাভ তো দূরের কথা কেনা দামও পাননি। তখন অনেকে চামড়া রাস্তায় ফেলে গিয়েছিলেন কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলেছিলেন। এবার করোনাভাইরাস মহামারিতে চামড়া সরকারি দরও কমে যাওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে উৎসাহ হারান। ফলে অনেক স্থানে কোরবানির চামড়ার ক্রেতাই পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে কোরবানিদাতারা তা এদিমখানা আর মাদ্রাসায় দান করে দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের বিখ্যাত দেওভোগ মাদ্রাসার পক্ষে চামড়া সংগ্রহ করেছে এই মাদ্রাসার ছাত্ররা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কোথাও মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের দেখেননি। আর কোরবানিদাতারাও চামড়া বিক্রি করেননি। তারা কোরবানির চামড়া দান করে দিয়েছেন। ফলে এবার মাদ্রাসার কোনো পুঁজির প্রয়োজন হয়নি। তাদের সংগ্রহ করা চামড়া ঢাকার পোস্তায় বিক্রি করা হয়। আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা বলেন, চলতি বছর গতবারের চেয়ে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম চামড়া আসবে। তাই চামড়ার বেশ চাহিদা রয়েছে। তার পরও চামড়ার দাম কম হওয়ার পেছনে পুরানো যুক্তিই দেখিয়েছেন তারা। পুরান ঢাকার পোস্তায় সারি সারি পিকআপ ও ট্রাকে করে কোরবানির পশুর চামড়া আড়তে আসছে। দরদাম করে কিনছেন আড়তদাররা। সেই চামড়া আড়তের ভেতরে নিয়ে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হবে। এসব সংরক্ষিত চামড়া বিক্রি করা হবে ট্যানারি মালিকদের কাছে। তবে দাম না পেয়ে অনেকেই রাস্তায় চামড়া ফেলে চলে গেছেন। যা সিটি করপোরেশনের বুল্ডোজার দিয়ে অপসারণ করতে দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেও রাস্তায় চামড়া পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে