logo
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৭ আশ্বিন ১৪২৭

  যাযাদি রিপোর্ট   ০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০  

ভিন্ন আঙ্গিকে পালিত পবিত্র ঈদুল আজহা

ভিন্ন আঙ্গিকে পালিত পবিত্র ঈদুল আজহা
করোনাভাইরাসের কারণে শনিবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয় -যাযাদি
শনিবার সারাদেশে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে। প্রাণঘাতী করোনার সংক্রমণের সঙ্গে যোগ হওয়া দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে এবারের ঈদ ছিল ভিন্ন এক বাস্তবতা। ফলে ঈদকে ঘিরে মুসলমানদের যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকার কথা তা এবার ম্স্নান হয়ে যায়। তারপরও স্বাস্থ্যবিধি আর সামাজিক দূরত্বের বাধ্যবাধকতা মাথায় নিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য ঈদের জামাত আদায় এবং কোরবানি দেন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। করোনার কারণে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়াসহ দেশের কোথাও খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। সারা দেশের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় মসজিদের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

প্রতি বছর জাতীয় ঈদগাহ মাঠে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ঈদের জামাত আদায় করলেও এবার সেটি হয়নি। রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনের দরবার হলে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। গত রোজার ঈদের মতো এবারও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় থেকে বিরত ছিলেন। তবে দু'জনই ভিডিও-বার্তায় দেশবাসী শুভেচ্ছা জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপ্রধান তার পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ওই ঈদ জামাতে ইমামতি করেন বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা সাইফুল কবীর। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপস্নব বড়ুয়া জানান, প্রতিবছর ঈদের দিন গণভবনে

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারতেন সাধারণ মানুষ। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এটা খুব উপভোগ করতেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সবাই সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

দেশে ঈদ উদযাপনের একটি বড় অংশ জুড়েই থাকে ঈদগাহে নামাজ আদায় এবং নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে করমর্দন, কোলাকুলি করা। কিন্তু করোনার কারণে নামাজ ছাড়া কিছু করেননি ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। ঈদের এই সময়ে অনেকেই পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে বিনোদনকেন্দ্র না হলে পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় ভিড় করতেন। এবারে তেমনটা দেখা যায়নি। করোনাভাইরাসের প্রভাবে এবারে পশু কোরবানি গত বছরের তুলনায় কম হয়েছে। ঈদ উদযাপনের চেয়ে বেঁচে থাকার লড়াইটাই যেন এখন বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ঈদে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার মতো প্রচলিত রীতিতে দেখা গেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। অনেকটা চার দেয়ালের মধ্যেই কাটছে বেশিরভাগ মানুষের ঈদ।

এবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হয়নি। শত বছরের ঐতিহ্য ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানেও ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের ৬টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের প্রধান জামাত এবার বায়তুল মোকাররম মসজিদেই অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেকটি জামাতেই মসজিদে মুসলিস্নদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। সকাল ৭টা থেকে প্রতিটি জামাত চলার সময় বিপুলসংখ্যক মানুষকে মসজিদের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। মসজিদে জায়গা না পেয়ে দক্ষিণ গেটে বাইরে স্টেডিয়ামের সামনের সড়কে অনেককে নামাজে অংশ নিতে দেখা গেছে। সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারি কাজী মাসুদুর রহমান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ধর্ম সচিব মো. নূরুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. ইমদাদুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, ডিএসসিসি সচিব আকরামুজ্জামান ডিএসসিসি মেয়রের সঙ্গে ঈদের প্রথম জামাতে নামাজ আদায় করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে ৭টা ৫০, ৮টা ৪৫, ৯টা ৩৫, ১০টা ৩০ এবং ১১টা ১০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় শেষ ঈদ জামাত। নামাজ শেষে খুতবা পেশ করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় দোয়া ও মোনাজাত। মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়। পাশাপাশি সম্প্রতি বৈশ্বিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য দোয়া করা হয়েছে। করোনা থেকে মুক্তির জন্য মুসলিস্নরা আলস্নাহর কাছে ফরিয়াদ জানান। তবে ঈদের নামাজ শেষে চির পরিচিত দৃশ্য মুসলিস্নদের হাত মেলানো ও কোলাকুলির দৃশ্য এবার চোখে পড়েনি। করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ থেকে বিরত থাকেন মুসলিস্নরা। প্রত্যেকটি জামাতেই দক্ষিণ গেট দিয়ে মুসলিস্নদের সারি ধরে আর্চওয়ে দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে হয়। মসজিদে অজুর স্থানে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হয় এবং মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখা হয়। এছাড়া মসজিদে আগত মুসলিস্নকে মাস্ক পরেছেন কি না তা দেখা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈদুল আজহার জামাত সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুলস্নাহ হল জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমটি সকাল ৬টা, দ্বিতীয়টি ৮টায় এবং তৃতীয়টি ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ আদায় করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাধারণ মুসলিস্নরাও অংশ নেন। মিরপুরের কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমটি সকাল ৭টা, দ্বিতীয়টি ৮টা এবং তৃতীয়টি ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকার মসজিদ এবং ধানমন্ডি ঈদগাহ মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষ্ণীবাজার নূরানী জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, লক্ষ্ণীবাজার মিয়া সাহেব ময়দান খানকা শরীফ জামে মসজিদে সকাল ৭টায়, লালবাগ জেএন সাহা রোডস্থ বায়তুস সালাম জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে এখানে সকাল সাড়ে ৮টায় দ্বিতীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। লালবাগ গফুর মসজিদে প্রথম জামাত সকাল সোয়া ৮টায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়। কারওয়ান বাজার আম্বর শাহ জামে মসজিদে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নগরীর চকবাজার ইসলামবাগ বড় মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সকাল ৮টায় ও সকাল ৯টায় আরও দুটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেগুন বাগিচাস্থ মসজিদে নূর-এ সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নুরিয়া মসজিদে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে, কামরাঙ্গীরচর রহমতিয়া জামে মসজিদে সকাল ৭টায়, আকসা হুজুরপাড়া কামরাঙ্গীরচর মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদ জামাত অনষ্ঠিত হয়। ঢাকার ডেমরার ঐতিহ্যবাহী দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে সকাল ৭টায় এবং ডেমরার বড় ভাঙ্গাস্থ আল আকসা জামে মসজিদে (আলহাজ নান্নু মুন্সি) সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মহাখালীর মসজিদে গাউসুল আজমে ৩টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে