মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে কিছু প্রস্তাব

জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমি বিনয়ের সঙ্গে জানাচ্ছি, আপনি এ দেশের অনেক উন্নয়ন করেছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আপনি নিজেকে এ জাতির সেবায় নিয়োজিত রেখেছেন। আমি মানবিক কারণে উলিস্নখিত প্রস্তাবগুলো আপনার সদয় বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করলাম।
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে কিছু প্রস্তাব

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের একজন সাবেক সংসদ সদস্য বা নীতিপ্রণেতা হিসেবে আমি মনে করি, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিচালনা, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী কমিটি থাকা একান্ত প্রয়োজন। এ কমিটিতে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য হবে বৈশ্বিক উন্নয়নের সঙ্গে সংগতি রেখে জাতীয় উন্নয়নের পরিকল্পনা নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নের কৌশল স্থির করা। মূলত দারিদ্র্য নিরসনের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করা।

ইঙঞ (ইঁরষফ ঙঢ়বৎধঃব ধহফ ঞৎধহংভবৎ ধমধরহংঃ ঞড়ষষ)-এর মাধ্যমে উন্নত দেশের সারিতে বাংলাদেশের অবস্থান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বহুমুখী উন্নয়নের জন্য প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর : চট্টগ্রামের কুতুবদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর প্রতিষ্ঠার চলমান কাজ ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন। এতে আমাদের দেশ অনেক রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। কারণ সমুদ্রের নাব্যের কারণে বড় জাহাজগুলো বাংলাদেশে আসে না। বর্তমানে যে সমস্ত জাহাজ বন্দরে নোঙর করে তা ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন পণ্য নিয়ে বন্দরে নোঙর করে। যা কিছু আসে তা গভীর সমুদ্রে নোঙর করে এবং ওই জাহাজ হতে ফিডার ভেসেলের মাধ্যমে পণ্য খালাস করে সরবরাহ নিতে গিয়ে আমদানিকারকদের প্রতি টনে ১০ থেকে ১৫ ডলার বেশি দিতে হয়। এতে করে পণ্যের দামও অনেক বৃদ্ধি পেয়ে যায়। পাশাপাশি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলে সাধারণ ভোক্তার ওপর এর প্রভাব পড়ে। তাই কুতুবদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন করলে ওইখানে ২.৫০ লাখ থেকে ৩.০০ লাখ টন জাহাজ নোঙর করতে পারবে। উদাহরণ স্বরূপ সিঙ্গাপুরের মতো চট্টগ্রামের কুতুবদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দরেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত বড় বড় মাদার ভেসেল নোঙর করতে পারবে। এই প্রকল্পটি জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চায়না অথবা জাপানের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোম্পানির সহিত যোগাযোগ করা যেতে পারে এবং এতে তারা রাজি হবে বলে আমি মনে করি।

বাংলাদেশ বিমান : স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই বাংলাদেশ বিমান লোকসানের সম্মুখীন। প্রয়োজনের তুলনায় অধিক লোক নিয়োগ, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সর্বোপরি ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা বাংলাদেশ বিমানের লোকসানের বোঝা ভারী করেছে।

এ থেকে মুক্তি পেতে হলে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এয়ার লাইন্স ঊসরৎধঃবং অরৎষরহবং-এর ন্যায় বিদেশি অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির কাছ থেকে বাংলাদেশ বিমানের জন্য আলোচনার মাধ্যমে ম্যানেজমেন্ট হায়ার করা উচিত। ২০ কোটি জনগণের দেশ বাংলাদেশ। এখানে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি এয়ারলাইন্স আসবে এবং যাবে। এখানে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা লাভ হবে।

বিমানবন্দর : দেশের বৃহৎ স্বার্থে এবং একটি সর্ববৃহৎ প্রকল্প হিসেবে নতুন এয়ারপোর্ট চৎরড়ৎরঃু ইধংরং-এ নির্মাণ করার প্রস্তাব করছি- যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখবে। ব্যাংককের অনুরূপ বাংলাদেশ এয়ারপোর্টকে আরও আধুনিকায়ন করা উচিত।

যানজট মুক্ত ঢাকা মহানগর : এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বর্তমানে দুঃসহ ও তীব্র যানজট ঢাকা মহানগরীর জন্য বিরাট অভিশাপ। জনজীবন প্রায় স্থবির। এ থেকে মুক্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রকাশ থাকে যে, যানজটের কারণে গাড়ি চালু অবস্থায় থামিয়ে থাকতে হয়, এতে করে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত তেল খরচ হয় এবং সময় নষ্ট হয়।

ইঙঞ ভিত্তিতে বাস্তবতার নিরিখে সারা ঢাকা মহানগরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফ্লাইওভার নির্মাণ, মেট্রো/বুলেট ট্রেন চালু করে যানজট নিরসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। পুরানো ড্রেনেজ সু্যয়ারেজের স্থলে আধুনিক সু্যয়ারেজ ব্যবস্থাপনার জন্য জাপান/কোরিয়া/ চায়নার সহায়তা গ্রহণ করা যেতে পারে।

পর্যটন : প্রকৃতির লীলাভূমি হচ্ছে বাংলাদেশ। কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত বিশ্বে বৃহত্তম ও অতুলনীয়। সুন্দরবন হচ্ছে বিশ্ববাসীর কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। আমাদের রয়েছে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ভান্ডার। সুতরাং, পর্যটন শিল্পের বিকাশের সুযোগ রয়েছে অপরিসীম। তাছাড়া কুয়াকাটা, রাঙ্গামাটি ও সেন্ট মার্টিনকেও পর্যটন নগরী হিসেবে বলা যেতে পারে।

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সমুদ্রসৈকতজুড়ে পর্যটন শিল্পকে আকর্ষণীয় ও আধুনিকায়ন করা যেতে পারে। জাপানের সঙ্গে ২০ বছর চুক্তি করে ইঙঞ (ইঁরষফ ঙঢ়বৎধঃব ধহফ ঞৎধহংভবৎ ধমধরহংঃ ঞড়ষষ)-এর মাধ্যমে পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করা যেতে পারে।

পর্যটন শিল্পকে আরো প্রসার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যটন এরিয়াগুলোকে ব্যাংকক ও পাতায়া'র মতো ফ্রি জোন করা যেতে পারে। এতে করে বিদেশিরা বাংলাদেশে পর্যটনে আকৃষ্ট হয়ে ইউরোপ, আমেরিকার মতো আমাদের দেশেও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আসবে এবং বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যয় করবে। এর মাধ্যমে আমাদের দেশ বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারে। পাশাপাশি রাজস্ব খাতেও আয় বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া বিদেশি যে সমস্ত কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ করছে তাদেরও বিনোদনের একটি অন্যতম স্থান হিসেবে পরিণত হবে। এতে তাদের কাজের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ সুজলা, সুফলা, শস্যশ্যামলা ও নদীমাতৃক দেশ। এর সৌন্দর্য সারা বিশ্বে অতুলনীয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক : দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে বেগবান করা এবং স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে বিশ্বমানে উন্নীত করা অতীব প্রয়োজন। ঢাকার কাঁচপুর হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ২৫০ কি. মি. রাস্তায় বুলেট ট্রেন স্থাপনসহ ৬ লেনের মহাসড়ক ইঙঞ-এর মাধ্যমে উন্নয়ন করা অতীব জরুরি। বুলেট ট্রেন স্থাপন করলে ঢাকার কাঁচপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ২৫০ কিলোমিটার রাস্তা মাত্র ৪০ মিনিটে যাতায়াত করতে পারবে। এতে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়েও মানুষ অফিস এবং বিভিন্ন কাজ করতে পারবে। তাতে করে ঢাকা শহরের ওপর চাপ কমবে। বুলেট ট্রেনের ব্যাপারে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ যেমন জার্মানি, কোরিয়া ও চীনের বিভিন্ন কোম্পানির সহিত যোগাযোগ করা যেতে পারে।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসতে প্রতি ট্রাকের ভাড়া ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার মতো। অথচ ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রাক ভাড়া ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা দিতে হয়। তাতে করে পণ্যের খরচ অনেক বেশি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তারা ভোগান্তির শিকার হয়। যাত্রীবাহী গাড়ির জন্য আলাদা লেন নির্মাণ প্রয়োজন। এতে করে অতি দ্রম্নত সময়ের মধ্যে ওই লেনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে যাত্রীরা পৌঁছাতে সক্ষম হবে। মনে রাখতে হবে সময় বাঁচলে অনেক কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে।

সড়ক ও জনপথ : দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত ও নির্মাণাধীন সড়ক ও জনপথ-এর কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের। প্রধান কারণ হচ্ছে, দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে সড়ক ও জনপথ নির্মাণের কাজে অনিয়ম ও প্রচুর দুর্নীতি। যার ফলে প্রতি বছর সড়ক ও জনপথ মেরামতে প্রচুর পরিমাণ অর্থ অযথা ব্যয় করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যে কোনো সড়ক-মহাসড়ক যেন আরসিসি দ্বারা নির্মাণ করা হয়। এতে সড়ক-মহাসড়কের স্থায়িত্বকাল দীর্ঘমেয়াদি হবে এবং বছর বছর সংস্কার ও মেরামত করতে হবে না।

এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া/চায়না/কোরিয়ার কোনো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোম্পানিকে সড়ক ও জনপথ নির্মাণের কাজ দিলে একদিকে আর্থিক সাশ্রয় হবে, অপরদিকে কাজের মানও উন্নত হবে। ভালো উদাহরণ হচ্ছে উত্তরবঙ্গে যমুনা সেতুর পরে কোরিয়ান কোম্পানি যে রাস্তা তৈরি করেছে তা এখনো অক্ষত অবস্থায় আছে, কারণ কাজের মান ছিল অত্যন্ত ভালো। তাছাড়া সড়ক- মহাসড়ক, শাখা সড়কগুলো পিচ দ্বারা তৈরি না করে জঈঈ ঢালাই করে নির্মাণ করলে বছরের পর বছর স্থায়ী হবে।

আবাসিক প্রকল্প : ঢাকা-চট্টগ্রাম ৬ লেনের রাস্তার মতো বাংলাদেশের যে সমস্ত ৬ লেনের সড়ক রয়েছে, ওই সড়কের ৫০০ ফুট দূরত্বের মধ্যে একটি করে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলা যেতে পারে।

বিদেশে আমাদের দেশের রাষ্ট্রদূতদের নির্দেশ দেওয়া হোক, যাতে করে বিদেশি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহায়তায় বিনিয়োগকারীদের নিয়ে মিটিং করে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য উৎসাহিত করা হয়। ইঙঞ (ইঁরষফ ঙঢ়বৎধঃব ধহফ ঞৎধহংভবৎ ধমধরহংঃ ঞড়ষষ) ভিত্তিতে বিনিয়োগ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত হবে।

সারাদেশে ইঙঞ (ইঁরষফ ঙঢ়বৎধঃব ধহফ ঞৎধহংভবৎ ধমধরহংঃ ঞড়ষষ) ভিত্তিতে সড়ক-মহাসড়ক, ব্রিজ, বড় বড় স্থাপনা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।

স্বাধীনতার পর থেকে সাটুরিয়া ও শিমুলিয়া ফেরিঘাট ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যে নদীপথ দিয়ে ফেরি চলাচল করে বর্তমানে নাব্যের কারণে প্রায়শই ফেরি চলাচলে অসুবিধা হয়। ২০ কোটি জনগণের বাংলাদেশের এই ফেরিঘাটটি ওই অঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। ফেরি বন্ধ থাকার সঙ্গে সঙ্গে পণ্যবাহী শত শত ট্রাক আটকা পড়ে যায়। এতে অনেক পঁচনশীল পণ্য থাকে যাহা যথাসময়ে বিভিন্ন আড়তে পৌঁছাতে পারে না এবং ট্রাকের মধ্যেই অনেক পণ্য পঁচে যায়। এতে ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হয়। তাছাড়া শত শত বাস ও প্রাইভেট পরিবহণের যাত্রীদের ভোগান্তির সীমা থাকে না। তাই ওই এলাকায় ইঙঞ (ইঁরষফ ঙঢ়বৎধঃব ধহফ ঞৎধহংভবৎ ধমধরহংঃ ঞড়ষষ)-এর মাধ্যমে ব্রিজ নির্মাণ করা অতীব জরুরি বলে আমি মনে করছি। ওই স্থানে অনেক আগেই ব্রিজ নির্মাণ করা উচিত ছিল। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ এর থেকে বড় বড় নদীর উপর দিয়ে ইঙঞ-এর মাধ্যমে ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে। সেই আলোকে আমাদের দেশেও করতে কোনো অসুবিধা নেই। শুধু নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।

চৎরাধঃব চঁনষরপ চধৎঃহবৎংযরঢ় (চচচ)-এর মাধ্যমে বিভিন্ন বেসরকারি শিল্পপতিদের সহিত সমন্বয় করে যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন কলকারখানা ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সম্পন্ন করার জন্য সরকার একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বাস্তবে এই প্রকল্প বিভিন্ন কারণেই সম্ভব হবে না। তার মধ্যে অন্যতম হলো বেসরকারি শিল্পপতিদের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেই যে তারা সরকারের সহিত চচচ-এর মাধ্যমে কোনো প্রকল্প কিংবা কোনো কাজ যৌথভাবে করবে। তাছাড়া তাদের কোনো বয়ঁরঢ়সবহঃ ও নেই।

সারাদেশে রেল ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক ও মানসম্মত না হওয়া ও দীর্ঘদিনের পুরানো রেললাইন সংস্কার না করার কারণে বেশিরভাগ জেলাতেই রেল চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যদিও সরকার রেল লাইনের সংস্কার, নতুন লাইন স্থাপন, মিটারগেজকে ব্রডগেজে রূপান্তর, উন্নত ইঞ্জিন ও বগি সংগ্রহ করে বাংলাদেশের রেলকে লাভজনক ও মানসম্মত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারপরও এই ২০ কোটি জনগণের দেশ বাংলাদেশে রেল ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হওয়া উচিত। সেই আলোকে ইঙঞ (ইঁরষফ ঙঢ়বৎধঃব ধহফ ঞৎধহংভবৎ ধমধরহংঃ ঞড়ষষ)-এর মাধ্যমে সারাদেশে বুলেট ট্রেন স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এখানে আমাদের কোনো বিনিয়োগ করা লাগবে না। জাপান, কোরিয়া, চায়নাসহ আরও উন্নত দেশগুলো এই ইঙঞ (ইঁরষফ ঙঢ়বৎধঃব ধহফ ঞৎধহংভবৎ ধমধরহংঃ ঞড়ষষ)-এর মাধ্যমে আমাদের দেশর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করতে আগ্রহী আছে।

বর্তমান সরকার উত্তরা থেকে মিরপুর, আগারগাঁও (জংশন), ফার্মগেট, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ প্রায় শেষের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই সমস্ত রুট ছাড়াও ঢাকা শহরে বিভিন্ন বড় বড় সড়কগুলোর উপর দিয়ে মেট্রোরেলের লাইন সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। এতে করে ঢাকা শহরের জনগণের যোগাযোগ ব্যবস্থা অতি সহজীকরণ হবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে গাড়ি যানজটে থেকে যেভাবে কাজের সময় নষ্ট হয় অন্যদিকে যানজটে বসে থেকে বিপুল পরিমাণে তেল এবং গ্যাস অপচয় হয়। তাহার ফলে দেশের অর্থনীতির ওপর নীতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর থেকেও পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে।

আমাদের দেশ নদীমাতৃক দেশ। আমাদের দেশে অনেক নদী রয়েছে। কিন্তু ওই সমস্ত নদীর নাব্য কমে গিয়েছে। তাছাড়া নদী ভাঙনের কারণে অনেক এলাকা পস্নাবিত হয়ে অনেক বাড়িঘর, চাষাবাদের জমি, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নদী খনন ও নদীর পাড় বাঁধ (দেওয়াল) দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে জাপান, কোরিয়া, চীনের অভিজ্ঞ কোম্পানির সহিত যোগাযোগ করা যেতে পারে। তা না হলে এ প্রকল্পগুলো আমাদের দেশের পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। প্রতিটি নদীর বাঁধে আরসিসি ওয়াল নির্মাণ জরুরি। তাহলে আমাদের দেশে বন্যায় বিভিন্ন এলাকা পস্নাবিত হবে না। নদীর পানি ভালো থাকবে এবং তিস্তার পানির প্রয়োজন হবে না। আমাদের নদীগুলোতে সর্বদাই পানি থাকবে।

প্রকাশ থাকে যে, ইঙঞ (ইঁরষফ ঙঢ়বৎধঃব ধহফ ঞৎধহংভবৎ ধমধরহংঃ ঞড়ষষ)-এর মাধ্যমে দেশে যে সমস্ত বড় বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে তাতে বাংলাদেশের কোনো অর্থই ব্যয় হবে না। শুধু নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। যেমনটি করেছে পার্শ্ববর্তী দেশ মালয়েশিয়া।

জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমি বিনয়ের সঙ্গে জানাচ্ছি, আপনি এ দেশের অনেক উন্নয়ন করেছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আপনি নিজেকে এ জাতির সেবায় নিয়োজিত রেখেছেন। আমি মানবিক কারণে উলিস্নখিত প্রস্তাবগুলো আপনার সদয় বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করলাম।

আপনি ওই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করলে দেশ ও জাতি সারা জীবন আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। আপনার বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারণে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। তা না হলে আমরা সারা জীবন পরাধীন থাকতাম। তাই উপরোক্ত প্রস্তাবনাগুলো বিনয়ের সহিত বিবেচনা করার জন্য আপনাকে সবিনয় অনুরোধ করছি।

এম এ হাসেম : সাবেক সংসদ সদস্য, প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি - নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং চেয়ারম্যান পারটেক্স গ্রম্নপ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd


উপরে