logo
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ ১১ কার্তিক ১৪২৭

  অনলাইন ডেস্ক    ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০  

আবারো গণধর্ষণ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি

দেশে ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর খুনের ঘটনা বেড়েই চলেছে কোনোরকম প্রতিকারহীনভাবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এ ধরনের অপরাধ বাড়ার মূল কারণ। ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির বিষয় স্পষ্ট দিক হলো স্থানীয় প্রশাসন তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রমাগত উদাসীনতা ও ব্যর্থতা।

এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া এক তরুণীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে সিলেট নগরীর টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর বস্নকের একটি কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। করোনা পরিস্থিতিতে ছাত্রাবাস বন্ধ ছিল। তবে ছাত্রাবাসের ওই কক্ষ ২০১২ সাল থেকে ছাত্রলীগের দখল করা কক্ষ হিসেবে পরিচিত। ওই কক্ষে থাকা ছাত্রলীগের একটি পক্ষের ৬-৭ জন কর্মী এ ঘটনায় জড়িত। ছাত্রাবাসে 'ছাত্রলীগের দখলে থাকা' কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ঘটনায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামি করা হয়েছে ছাত্রলীগ কর্মী এম সাইফুর রহমানকে। ছাত্রাবাসে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় তার স্বামীর করা মামলার প্রধান আসামিও এই সাইফুর। এ ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল সিলেট। সচেতন জনসাধারণ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে। ছাত্রলীগের অপকর্মের যেন শেষ নেই। আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে দেশে নারী নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। যা একটি গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যাশিত নয়। গণধর্ষণের শিকার তরুণী মানসিকভাবে আতঙ্কিত অবস্থায় আছেন।

এটা সত্য, আমরা কোনোভাবেই সমাজে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি না। এটা আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা। আমরা এই ধরনের উদ্বেগজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। মনে রাখতে হবে সামাজিক অস্থিরতা ও বিচারহীনতার কারণেই যৌন সহিংসতা, নির্যাতন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও হয়রানি বাড়ছে। অপরাধ করে নিষ্কৃতি পাওয়ার একটি সংস্কৃতি দেশে চালু রয়েছে। যদিও সরকার এ ব্যাপারে বেশ কঠোর। এর পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয়ও একটা কারণ। সব ধর্ষণ গণধর্ষণের ঘটনা মিডিয়ায় আসে না। প্রকৃতপক্ষে ঘটনার ভয়াবহতা অনেক বেশি। রক্ষণশীল সমাজ হিসেবে বাংলাদেশের নারীদের লোকলজ্জা, সামাজিক মর্যাদা, মামলা করে হয়রানি এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে অসংখ্য ঘটনা চাপা পড়ে যাচ্ছে। ফলে অপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে না। উপরন্তু অপরাধে উৎসাহিত হচ্ছে।

সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসের নারী গণধর্ষণের ঘটনায় ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। শনিবার গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে দুইজন হোস্টেল সুপারকে যুক্ত করা হয়। এই কমিটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটি কী রিপোর্ট দেবে, সে প্রশ্নের আগে যেটা বড় প্রশ্ন, তা হলো দীর্ঘদিন থেকে ছাত্রলীগের ছেলেরা কী করে ছাত্রাবাসে ছিল। এর দায় কে নেবে?

\হসমাজের একশ্রেণির বর্বর পাষন্ড মানুষের হাতে অনেকের জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়ছে, অবলীলায় জীবন চলে যাচ্ছে। এমনকি শিশুর জীবনও চলে যাচ্ছে। সমাজে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এটা ভাবতে বিস্ময় জাগে, কোনোভাবেই আমাদের সমাজ যেন আলোর দিকে অগ্রসর হতে পারছে না, কেবল অন্ধকারে খাবি খাচ্ছে। অবক্ষয় যেমন আমাদের সমাজকে দিন দিন গ্রাস করছে। সামাজিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার কারণেই মূলত এমনটি হচ্ছে। রাষ্ট্রের মধ্যে শৃঙ্খলা না থাকলে সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। যারা সমাজকে, রাষ্ট্রকে পদে পদে কলুষিত করছে, সমাজকে ভারসাম্যহীন ও দূষিত করে তুলছে, সমাজের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার ক্ষুণ্ন করছে, বিপন্ন করছে ছাত্রীদের জীবন- তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা চাই, পরিকল্পিত ও বিন্যস্ত সমাজ। নীতিবোধ ও চারিত্রিক মূল্যবোধ সমাজ গঠনের প্রধান শক্তি- যা আমরা হারিয়ে ফেলেছি। সামাজিক সুস্থতা আনয়নের পাশাপাশি নতুন সমাজ নির্মাণের জন্য এ ধরনের অপরাধ ও অবক্ষয়কে প্রতিরোধ করতে হবে এবং যে কোনো মূল্যে। এ জন্য ব্যাপকভাবে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন এবং এর কোনো বিকল্প নেই।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে