logo
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১০ আশ্বিন ১৪২৭

  ড. ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ   ০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০  

বর্তমান শিক্ষার হালচাল

আমাদের প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দুর্ভোগ ও দুরবস্থা এক বড় সংকট ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে। অভাব-অনটন, অশান্তি আর অস্বস্তির জাঁতাকলে শিক্ষকদের জীবন-জীবিকা আজ নাভিশ্বাস অবস্থায়। তারা আজ হতবাক। শিক্ষকদের দীর্ঘশ্বাসের মাত্রায় আর উচ্চ রক্তচাপে তারা শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তির শিকার। এই অবস্থা থেকে শিক্ষকরা পরিত্রাণ চান।

শিক্ষকদের বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। বর্তমানে আমাদের দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি, যার মধ্যে রয়েছে এমপিওভুক্ত এবং নন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই শিক্ষকরা আজ সবচেয়ে অবহেলিত ও বেতনবৈষম্যের শিকার। উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষকদের বেতন-ভাতাদি সবচেয়ে বেশি, কিন্তু আমাদের দেশে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সরকারি অফিসের একজন গাড়িচালক ও অফিস সহায়কের চেয়েও কম- যা দিয়ে বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে চলা খুবই কঠিন। একজন উচ্চশিক্ষিত নন-বিএড শিক্ষকের বেতন স্কেল মাত্র ৬৪০০ টাকা। বিএড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বেতন স্কেল ৮০০০ টাকা। সঙ্গে বাড়ি ভাড়া মাত্র ৫০০ টাকা, যা দিয়ে বাড়ি ভাড়া তো দূরে থাক, বর্তমানে বাড়ির একটি বারান্দাও ভাড়া পাওয়া যায় না। চিকিৎসাভাতা দেওয়া হয় মাত্র ৩০০ টাকা। অথচ বর্তমানে একজন ভালো ডাক্তার দেখানোর ফি জনপ্রতি ৪০০ টাকার কম নয়। টেস্টের কথা না হয় বাদই দিলাম। অথচ প্রায় ৫০ বছর পর বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগ এবং তার কন্যা যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়- তখন সরকারের আমলারা তাদের বেতন-ভাতা ১ বছরে ৩ বার বৃদ্ধি করে নিয়েছে। নিজস্ব গাড়ি কেনার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে সুদমুক্ত ৩০ লাখ টাকা পাওয়ার আবদার আদায় করে নিয়েছে- গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসিক ৫০ হাজার টাকা- এ ছাড়া আছে অনেক কিছু। পদ না থাকলেও পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়া হচ্ছে অনবরত। যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব পদগুলো অতিশয় অতিরিক্ত হয়ে উঠেছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, সময়সূচি, সিলেবাস, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন-পদমর্যাদা, পদোন্নতি যেদিক থেকেই তুলনা করা হোক না কেন, ফলাফল একটাই আসবে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকরা সবচেয়ে অবহেলিত। তাহলে শিক্ষার ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষাকে অবহেলিত রেখে কীভাবে দেশের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে? ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের বেতন আপ-গ্রেড করা প্রয়োজন। তাদের বেতন গ্রেড ও আপ-গ্রেড করা হচ্ছে না। যার কারণে এই পেশায় নিয়োজিত সবার মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। দুঃখ বা ক্ষোভ থাকলে সঠিকভাবে কোনো কাজে মনোনিবেশ করা সম্ভব নয়।

দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার প্রায় ৯৭ শতাংশ বেসরকারি ব্যবস্থাপনানির্ভর। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রায় ২৮ হাজার, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এবং স্বীকৃতিবিহীন আরও প্রায় দশ হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। হাতেগোনা কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারীদের ভালো বেতন-ভাতা দিলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের বঞ্চিত করে। এসব প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত প্রায় ৫ লাখ এবং নন-এমপিও এক লাখের বেশি শিক্ষক কর্মরত আছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকার থেকে বেতন-ভাতার কিছু অংশ পেলেও নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারীরা কিছুই পান না। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নামমাত্র কিছু বেতন পেয়ে থাকেন। কোথাও কোথাও তাও পান না। টিউশনি কোচিং করে কোনো রকম জীবন নির্বাহ করেন। চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফিও বন্ধ। এমন অবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে না। ফলে তারা চরম আর্থিক সংকট ও দুরবস্থায় আছেন। ঈদে বেতন-বোনাস পাবেন কিনা এ নিয়ে তাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা, অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা রয়েছে।

'আমাদের দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা?(নিম্ন-মাধ্যমিক-মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি ও মাদ্রাসা) ৯৮ শতাংশ বেসরকারি ব্যবস্থাপনানির্ভর। মাধ্যমিক স্তরে বিভিন্ন পর্যায়ে ৮ হাজারের অধিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় আছে। যা এই স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক-চতুর্থাংশ। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী ২০ লাখের অধিক শিক্ষার্থী?পাঠদানে নিয়োজিত। পরিতাপের বিষয়, দীর্ঘ ১০-১৫ বছর বিনা বেতনে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমন অবস্থায় তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে কোনো না কোনো পেশায় নিয়োজিত হতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষাদান কঠিন হয়ে পড়ছে। অবিলম্বে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা না হলে একে একে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তেমনটি ঘটলে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসবে।' আন্দোলনকারীরা তাদের প্রচারপত্রে সে কথাই বলেছেন।

নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তাদের দাবি নিয়ে ও অধিকার আদায়ের বিষয়ে দফায় দফায় আন্দোলন ও কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছেন- কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে কি? আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দাবি যতই ন্যায়সঙ্গত হোক, তা আদায় করার জন্য তাদের দ্বারা অনুসৃত অবস্থান ধর্মঘট, সাধারণ ধর্মঘট, অনশন ধর্মঘট ইত্যাদির পরিণতি কী হয়েছে এবং কেন হয়েছে সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা এ ধরনের আন্দোলনকারীদের আছে বলে মনে হয় না। এখন তারা আন্দোলনের ক্ষেত্রে যা করছেন ও করতে যাচ্ছেন, সেই একই পদ্ধতিতে মাত্র কয়েকদিন আগে এমপিওভুক্ত প্রাথমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষকরা আন্দোলন করে সরকারের মন্ত্রীর হাতে শরবত খেয়ে তিন দিনের মাথায় নিজেদের অনশন ভঙ্গ করেছেন। মন্ত্রীর আশ্বাসের ওপর বিশ্বাস রেখে এবং সরকার তাদের দাবি মেনে নেবে- এ ভরসায় তারা অনশন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছিলেন! মন্ত্রীর মৌখিক আশ্বাস সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাদের দাবির স্বীকৃতির বিষয়ে কোনো অনুমোদিত প্রজ্ঞাপন বা আদেশ জারি হয়নি।

গত মার্চ মাস থেকে করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এগুলোর মধ্যে দুই-একটি প্রতিষ্ঠান হয়তো নিজেদের গচ্ছিত ফান্ড থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে বা করতে পারছে, কিন্তু বিশালসংখ্যক বিদ্যালয়ের কি হাল হবে? ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে এক আদেশে টিউশন ফি আদায়ে চাপ প্রয়োগ না করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিলে বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে বকেয়াসহ মাসিক বেতন আদায়ের অনুরোধ জানানো হয় আদেশে। এ নিয়ে উভয় সংকটে পড়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। অভিভাবকদের কাছে এই দুর্দিনে বেতন চাইলে সেটা অমানবিকতার পর্যায়ে পড়ে। আর বেশির ভাগ অভিভাবকও এই মুহূর্তে বেতন দিতে রাজি নন। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো বেতন আদায় না করলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনও দিতে পারছে না। আর এই মুহূর্তে শিক্ষকদের বেতন, বোনাস বাকি পড়লে সেটি আর এক ধরনের অমানিবকতা। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই মানবিক আবেদনের মাধ্যমে অভিভাবকদের এসএমএস পাঠিয়ে বেতন চাচ্ছে, আবার কেউ কেউ কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে অনেক জায়গায়। তাই, এই প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে একটি সিদ্ধান্তে আসা উচিত। হতে পারে, অভিভাবকদের ৭০ শতাংশ বেতন দিতে হবে, বাকিটা মওকুফ করা হবে। এই ৩০ শতাংশ বেতন বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বহন করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের অর্থিক অবস্থা ভালো তারা শিক্ষকদের এখনই এই বেতন দিয়ে দেবে, বাকিরা পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে দেবে। তবে কোনোভাবেই শিক্ষক-কর্মচারীদের ঠকানো যাবে না। কিন্তু এই সিদ্ধান্তটি কে নেবে? স্কুল কমিটি, শিক্ষা বিভাগের স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, অভিভাবক প্রতিনিধি সমন্বয়ে এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে যেখানে মন্ত্রণালয় সায় দেবে। স্কুল কমিটিগুলো এখন কোথায়? স্থানীয় সরকারি শিক্ষা কর্মকর্তাদের এ ক্ষেত্রে ভূমিকা কী? তাদের ভূমিকা এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে আমরা দেখতে চাই। অথচ পরীক্ষা নিয়োগ ও ভর্তি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের হাঁকডাকের কমতি থাকে না। এই দুঃসময়ে শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তার নিশ্চয়তা দিয়ে পাশে থাকা ও শিক্ষকদের শিক্ষাবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সরকার ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউনেসকোর উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে শিক্ষকদের অবস্থান ও মর্যাদা সম্পর্কে একটি সুপারিশ গৃহীত হয়। ইউনেসকোর এই সনদে বলা হয়, শিক্ষকরা সব কর্মকান্ডের কারিগর। জাতি গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা তাদেরই। মর্যাদাবান ও উপযুক্ত নাগরিক তারাই তৈরি করেন। এই শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মর্যাদার ক্ষেত্রে যেন কোনো ত্রম্নটি না হয়, রাষ্ট্রকে তা দেখতে হবে।

একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সেই দেশের মেধাবী সন্তান এবং সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেই মেধাবীদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। তার ওপর নির্ভর করে সেই দেশ কত দ্রম্নত এগিয়ে যাবে বা উন্নত হবে। যদি মেধাবীরা অবহেলিত থাকে, তবে তা দেশের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়। সেই মেধাবী সন্তানরা প্রথম পছন্দ হিসেবে কোন পেশা বেছে নেবেন, তা নির্ভর করে সেই দেশের সেই পেশার আর্থিক সুবিধা, সামাজিক স্বীকৃতি, পদমর্যাদা এবং সামাজিক অবস্থানের ওপর। আমাদের দেশে যেমন মেধাবীরা প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন বিসিএস দিয়ে কোনো সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করার। যাদের সামর্থ্য আছে তারা চলে যান বিদেশে এবং একসময় সেখানেই স্থায়ী হন। কিন্তু যদি কোনো দেশের চিত্র এমন হয়, সে সব দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা চাকরি করছেন শিক্ষকতায়। ছোটবেলা থেকেই একটি শিশু স্বপ্ন দেখছে তার শিক্ষকের মতো বড় কেউ হওয়ার। শিক্ষকরা রাষ্ট্র থেকে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। সে সব মেধাবী শিক্ষক তৈরি করছেন আরও মেধাবী সন্তান। সেই দেশটা নিয়ে মেধাবী সন্তানরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষকরা নিজেদের এবং নিজের ছাত্রছাত্রীদের উন্নয়নে অধিকাংশ সময় চিন্তাভাবনা করে সময় কাটাচ্ছেন। তাকে ন্যায্য বেতনের দাবিতে রাস্তায় আন্দোলন করতে হচ্ছে না। পৃথিবীর উন্নত অনেক দেশেই শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। আমরাও আমাদের দেশে এ রকম একটি চিত্র আশা করি।

আমাদের প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দুর্ভোগ ও দুরবস্থা এক বড় সংকট ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে। অভাব-অনটন, অশান্তি আর অস্বস্তির জাঁতাকলে শিক্ষকদের জীবন-জীবিকা আজ নাভিশ্বাস অবস্থায়। তারা আজ হতবাক। শিক্ষকদের দীর্ঘশ্বাসের মাত্রায় আর উচ্চ রক্তচাপে তারা শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তির শিকার। এই অবস্থা থেকে শিক্ষকরা পরিত্রাণ চান।

\হশিক্ষকরা যদি মুক্তচিত্তে প্রশান্ত জীবনের আস্বাদন লাভ করে তাহলে তাদের প্রদেয় শিক্ষায় থাকবে উদার ও প্রগতিবাদী চিন্তা- অন্যথায় শিক্ষার্থীর মধ্যেও শিক্ষকের অভাব-অনটন, দৈন্য ও অশান্তির ছাপ ফুটে উঠবে এবং কালক্রমে শিক্ষার্থীরা একসময় অনুদান ও সঙ্কীর্ণতাবোধে আবদ্ধ হয়ে কূপমন্ডূকতার জাঁতাকলে পৃষ্ট হয়ে অনন্ত অসীম ও বিকশিত জীবনধারার যাত্রাপথে থমকে দাঁড়াবে। এভাবে একটি জাতি ক্রমক্ষয়িষ্ণুমান, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক জাতিতে পরিণত হবে। তাই সরকারকে শিক্ষকদের প্রাপ্য অধিকার রক্ষার ও দাবি পালনে যত্নবান হওয়ার জন্য অবিলম্বে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাহলে সব দুর্যোগে জাতি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

ড. ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ : সাবেক উপ-মহাপরিচালক বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। কলামিস্ট ও গবেষক
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে