logo
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৬ আশ্বিন ১৪২৭

  সোহান সিদ্দিকী   ১৬ মার্চ ২০২০, ০০:০০  

মুজিববর্ষে মুজিবনগরে

মুজিববর্ষে মুজিবনগরে
দীর্ঘদিন থেকে ইচ্ছে ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের স্মৃতিবিজড়িত মুজিবনগর ভ্রমণের। দীর্ঘদিন বলতে যখন থেকে ইতিহাস পড়তে ও বুঝতে শিখেছি ঠিক তখন থেকেই। ফলে বিভাগ থেকে স্যার যখন মুজিববর্ষ উপলক্ষে মুজিবনগরে আনন্দ ভ্রমণে যাওয়ার কথা বললেন সাতপাঁচ কোনো কিছু না ভেবে এককথায়ই রাজি হয়ে যাই।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে তথা মুজিববর্ষে মুজিবনগরে শিক্ষা সফরে যাওয়ার ধারণা দেন মূলত ল' অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা আর তা বাস্তবায়ন করেন বিভাগের প্রভাষক মো. মেহেদী হাসান।

শিক্ষা সফরে যাওয়ার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়- যা আমরা জানতে পারি মাত্র ৪দিন আগে। হাতে একদম সময় কম থাকার ফলে একটু তাড়াহুড়ো করেই সব পস্নান করতে হয়। বিভাগের প্রভাষক মো. মেহেদী হাসান বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব ভাগ করে দেন। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আমরা গন্তব্যের পথে রওনা দিই সকাল ৮টায়। সবুজের বুক চিরে সাপের মতো এঁকে বেঁকে চলা পিচকালো রাস্তা দিয়ে বাস ছুটে চলে মেহেরপুরের দিকে। বাসের মধ্যে নেচে, গেয়ে আর হৈ-হুলেস্নাড় করতে করতে আমরা মুজিবনগরে পৌঁছাই প্রায় ১১টার দিকে। মুজিবনগরে পৌঁছে আমরা চলে যাই ডাকবাংলায়। ওখানে উঠে বিশ্রাম শেষে আমরা বের হই ইতিহাসের বাস্তব রূপ দেখতে।

মুজিবনগর গিয়ে দৃশ্য পটে ভেসে উঠে একাত্তরের বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে পাক হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত করতে মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্ব ও পরিচালনায় নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিণতিতে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভু্যদয় ঘটে।

প্রথমে আমরা যাই মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে- যার স্থপতি তানভীর করিম। এখানে আসার পর এক বৃদ্ধের সঙ্গে দেখা হয়, তিনি স্মৃতিসৌধের আপাদমস্তক বর্ণনা করে আমাদের বোঝান। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের নানান তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ কমপেস্নক্স। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধের পর আমরা যাই এখানকার অন্যতম আকর্ষণ বাংলাদেশের মানচিত্র দেখতে। বলা যায়, এটি আমাদের যুদ্ধকালীন অবস্থার রূপক। এখানে তোলে ধরা হয়েছে দেশের কোথায়, কোন এলাকায় যুদ্ধ হয়েছে, শরণার্থীরা কীভাবে সে সময় ভারত গিয়েছিলেন বা দেশ ছাড়েন। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরকে ভাগ করে দেখানো হয়েছে মানচিত্রে। এ ছাড়া মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপেস্নক্সের বাইরের অংশে ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ খন্ডাংশ।

এরপর দলবেঁধে ভ্যান নিয়ে আমরা চলি সীমান্ত দেখতে। মুজিবনগরের খুব কাছেই ভারতীয় সীমান্ত। নানা রকমের বাহারি পণ্যের অনেকগুলো দোকান ওখানে। বাংলাদেশ থেকে সোজা একটি রাস্তা চলে গেছে ভারতের দিকে। কাঁটাতারের ওপারে ভারত। বাংলাদেশের শেষ প্রান্তে এসে এ পাশ থেকে শুধু ভারতীয় অংশের গাছগুলোই দেখতে পেলাম। এটাই ছিল প্রথম সীমান্ত ভ্রমণ, তাই অনুভূতিটাও ছিল এককথায় অসাধারণ।

সীমান্ত থেকে মুজিবনগরে ফিরে পেট পূজা সম্পন্ন করে ছোটখাটো একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করি আমরা। কৌতুক পাঠ, নাচ, গানের পাশাপাশির্ যাম্প শো ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। এ ছাড়ার্ যাফেল ড্রয়ের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষের্ যাফেল ড্র-এর বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা, আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আনিসুর রহমান ও সহকারী অধ্যাপক আরমিন খাতুন এবং ল' অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক মো. মেহেদী হাসান।

এ সময় ল' অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা বলেন, শিক্ষা সফরের সামগ্রিক অনুষ্ঠানগুলো আমি অবলোকন করলাম, আমি উপভোগ করেছি, ভালো লেগেছে অনেক সময় আমি বেশ অনুপ্রাণিত হয়েছি। আজকে সবাই যেভাবে পারফর্ম করেছে তাতে আমি মনে করি এতে তাদের ভবিষ্যৎ সিঁড়ি পার হওয়ার, মনোবল সাহস এবং যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে এটি একটি অনন্য ভূমিকা রাখবে বলে আমার ধারণা।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ অংশে শিক্ষা সফরে আসার পর সব ক্লান্তি আর অবসাদ ঝেড়ে ফেলে আমাদের মধ্যে যেন নতুন আবেগে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার এক গভীর তৃষ্ণা সৃষ্টি হয়েছে। আর স্বপ্ন দেখছি আগামী বছর হয়তো এভাবে আবার হারিয়ে যাব অপরূপ বাংলাদেশের কোনো এক কিনারায় নতুন কিছু জানতে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে