logo
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৮ আশ্বিন ১৪২৭

  ড. ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ   ২৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০  

প্রাণঘাতী করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে

আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে এই ক্ষতিকর প্রভাবটির দিকে বিশেষ নজরদারি রাখা আবশ্যক। দেশের সামগ্রিক, সামাজিক ও অর্থনীতিক অবস্থা পর্যালোচনা করে সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে সরকারের পক্ষ থেকে জনকল্যাণমুখী স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি থাকতে হবে। এই কর্মসূচিগুলোর নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কীভাবে কর্মসম্পাদিত হবে সে বিষয়ে সরকারকে অবশ্যই নিষ্ঠা ও দায়িত্বসচেতন হতে হবে। সর্বোপরি সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেই সরকারকে তার পরবর্তী কর্মসূচির দিকে এগোতে হবে।

প্রাণঘাতী করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে
বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের তান্ডবে পুরো বিশ্ব এখন কাঁপছে। বিশ্ববাসীর সামগ্রিক জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিক কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে। কার্যত স্থবির হয়ে পড়ছে। বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাস দ্রম্নত ছড়িয়ে পড়ার কারণে বাংলাদেশেও এর প্রকটতার মাত্রা দিন দিন আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। ইতোমধ্যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের পাশাপাশি সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিরা এবং বিভিন্ন বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগ ও আগ্রহকে উৎসাহিত করে অসহায়, দুস্থ লোকজন এবং করোনায় আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সবার সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে কোভিড-১৯ এর মোকাবিলা করা সম্ভব। এই মহাদুর্যোগে ঐক্য বিনষ্ট হলে সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। ঐক্য বিনষ্টকারী কোনো অসাধুচক্র বা অসজ্জন ব্যক্তি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায় সে ক্ষেত্রে তাকে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা যেতে পারে বা তার হঠকারী কার্যকলাপ সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে অবহিত করা যেতে পারে। এমনকি এই মহাদুর্যোগকালীন এক শ্রেণির নির্মম, পাশবিক, প্রতারক কুচক্র আতঙ্কিত মানুষের মাঝে আতঙ্ক গুজব ছড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের মতো কুকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এই সমস্ত ঘৃণ্য কার্যকলাপে জড়িতদের প্রতি সমাজের পক্ষ থেকেও বিশেষ নজরদারি থাকা আবশ্যক। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সেবা ও সহানুভূতির মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। উদার ও মানবিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে দুর্গত মানবতার সমর্থনে সাহায্য ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। অন্যদিকে কোনো ধর্মান্ধতা বা গোঁড়ামিতে এই দুর্যোগকালে সমাজে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবারই নজরদারি আবশ্যক। আত্মবিশ্বাস, সাহস, সেবা ও মানবিকতায় দুর্যোগপীড়িত মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে। এই যুদ্ধ একক কোনো ব্যক্তি বিশেষের যুদ্ধ নয়, এটা বিশ্ব মহামারির বিরুদ্ধে এক মহাযুদ্ধের মতো অবস্থা। এই মহাযুদ্ধে কোনো সামরিক অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার হবে না। একে অন্যের প্রতি সহানুভূতি, সেবা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে পারস্পরিক বিশ্বাসকে ভিত্তি করেই এই সংকটের মোকাবিলা করতে হবে। আর তা হলেই সমাজ ও জনগণের সুরক্ষা হবে। কবিতার ভাষাতেই এভাবে বলা যায়- বর্তমান মরণঘাতী কোভিড-১৯ এর লড়াইয়ে আগামী বিশ্ব জিতবেই একসঙ্গে। .

পৃথিবীর বুকে অতীতে বিভিন্ন সময়ে আবির্ভূত বিভিন্ন মহামারিতে লাখ লাখ ও কোটি কোটি মানুষের মৃতু্য হয়েছে। আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে গুটিবসন্ত গোটা মধ্য আমেরিকাকে আক্রান্ত করেছিল। এতে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। এরপর ১৯১৮ সালের ফ্লু পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ সংক্রমিত করেছিল এবং প্রাণনাশ হয়েছিল ১ কোটিরও বেশি মানুষের। এ ছাড়া পেস্নগ, কলেরা, ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জলাতংক, সার্স, ইবোলা ইত্যাদি মহামারিতে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে পরিবহনব্যবস্থা ১৯১৮ সালের তুলনায় অনেক উন্নত এবং দ্রম্নততর। ফলে একটি ভাইরাস ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিস্তার লাভ করতে পারে। অতএব, ধরে নেওয়া যায় যে, আমরা সংক্রমিত রোগের চারণভূমিতে বসবাস করছি, যেখানে পেস্নগের মতো মহামারি একের পর এক মানবজাতিকে আক্রমণ করতে পারে। আজ একুশ শতকে সারাবিশ্বে মহামারি আকারে নেমে এলো মরণঘাতী কোভিড-১৯। বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবী এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই মহামারির বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে হলে মানুষের উচিত বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তকে বিশ্বাস করা। নাগরিকদের উচিত, সরকার ও কর্তৃপক্ষকে বিশ্বাস করা। আর এই মহামারি যদি অনৈক্য ও অবিশ্বাসের মধ্য দিয়ে যায়, তাহলে ভাইরাসেরই জয় হবে। যদি তা না হয়, অর্থাৎ বিশ্ব যদি এই মহাদুর্যোগের কালে সহযোগিতার হাত ধরে অগ্রসর হয়, তাহলে শুধু করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধেই নয়, বরং ভবিষ্যতের সব জীবাণুর বিরুদ্ধেই জয়ী হবে।

আমরা বাঙালিরা খুবই সামাজিকপ্রিয়। কোনো গন্ডি বা বাঁধাধরা জীবনের সঙ্গে অভ্যস্ত নয়। কিন্তু বর্তমানে ব্যাপক মহামারি পরিস্থিতিতে দেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে আমাদের সবাইকে সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অমান্য করেই অনেকেই বিনা প্রয়োজনে বাহিরে ঘোরাফেরা করছেন, পাড়ার অলিগলিতে রাস্তার পাশে বসে আড্ডায় মেতে উঠছেন, কেউ কেউ ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন যত্রতত্র- এতে করে নিজে যেমন সহজে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকছেন উপরন্তু পুরো পরিবারকে ঝুঁকিতে ফেলছেন। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও তা কিছুতেই কাম্য নয়। সুতরাং জাতি হিসেবে আমরা কতটা উদাসীন ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছি তা সবাইকে একবার ভেবে দেখা উচিত। যেহেতু বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। আলস্নাহ্‌ না করুক কোনক্রমে যদি ভাইরাস মহামারির আকার ধারণ করে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ ও মারাত্মক হবে তা কল্পনাতীত। কারণ আমাদের দেশে বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা দেয়ার সক্ষমতা নেই। এখানে উলেস্নখ্য যে, চীনের উহান শহরে যখন করোনার মহামারি ছড়িয়ে পড়ে তখন ইউরোপের দেশগুলো- ইতালি, স্পেন, জার্মানি এমনকি আমেরিকা এই ভাইরাসকে চীনা কেন্দ্রিক ভাইরাস বলে কোনো পাত্তা দেয়নি বা আমলে নেয়নি। সে সময় নাগরিকরা বাহিরে রাস্তা-ঘাটে, বাজার, শপিংমল ও রেস্তোরাঁয় অবাধে ঘুরে বেড়িয়েছেন- যার ফলে করোনা সেখানে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে প্রতিদিনই এখন সারাবিশ্বে দুই লাখ লোক আক্রান্ত হচ্ছে ও মৃতু্যর মিছিল দীর্ঘায়িত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর প্রতুলতা ও নিহতদের সৎকার প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে- যা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক।

\হইতোমধ্যে বাংলাদেশেও করোনার প্রভাব যথেষ্ট পরিমাণে ভোগাচ্ছে। তাই মরণঘাতী করোনাভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে আমাদের দেশের সব নাগরিককে সরকারি নির্দেশনামতে সামাজিক ও ধর্মীয় সভা, সমাবেশ, অনুষ্ঠান ও গণজমায়েত পরিহার করা, কোরআন-হাদিস ও শরিয়ত মোতাবেক মসজিদে না গিয়ে বাসা-বাড়িতে নামাজ আদায় করা, সোশাল ডিসটেন্সিং (সামাজিক দূরত্ব) মেনে চলা, কোয়ারেন্টাইন বা ঘরে অবস্থান করা ও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে না যাওয়া এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা, বিদেশ ফেরত ও আক্রান্তদের হোম কোয়ারেন্টাইন ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন নিশ্চিত করা, বাহিরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করা ইত্যাদি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিজের, পরিবার, সমাজ ও দেশকে নিরাপদ রাখতে সচেষ্ট থাকি; তাই 'সকলের জন্য সকলে আমরা' এই মানবিকতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সেবা, সাহায্য, সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনপূর্বক মরণঘাতী কোভিড-১৯ এর ভয়াবহতা ঠেকানো সম্ভব হবে। কোনো গুজবে আমরা বিভ্রান্ত হব না। অতএব, বিরাজমান মহামারি পরিস্থিতিতে সামাজিক সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েত ও জটলা বাঁধিয়ে বিশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ বিতরণ ও সরকারি ছুটি চলাকালীন গার্মেন্টস মালিকদের ফ্যাক্টরি খোলা ও পরে বন্ধ রাখার ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখে হাজার হাজার শ্রমিকের জনস্রোত ও ফেরত যাওয়ার দৃশ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও সমন্বয়হীনতার চিত্র ফুটে ওঠেছে। এতে করে দেশের করোনা পরিস্থিতিকে আরো খারাপ জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। এ সময় শৃঙ্খলা ও সমন্বয় থাকা আবশ্যক।

বেসরকারি সংস্থার হিসাবে দেশে দিনমজুরের সংখ্যা এক কোটির ওপরে। যাদের প্রতিদিন কাজের নিশ্চয়তা নেই। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর রাজধানী ছেড়ে যাওয়া মানুষের একটা বড় অংশই দিনমজুর। ঢাকায় নানা ধরনের সরকারি-বেসরকারি ও বিত্তবানদের উদ্যোগে চাল-ডাল বিতরণের তথ্য মিলছে। তবে যারা ঢাকা ছেড়ে গেছেন তারা খুবই নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছেন। কারণ এলাকায় গিয়ে কাজ পাচ্ছেন না; ত্রাণও পাচ্ছেন না। হঠাৎ নেমে আসা এ বিপদের দিনে জনপ্রতিনিধিদের পাশে চান সাধারণ মানুষ। সরকারি নির্দেশনার পর ২৫ মার্চ থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ২৬ মার্চ থেকে সরকারি-বেসরকারি সব অফিসও বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর যোগাযোগ ব্যবস্থাও রয়েছে বিচ্ছিন্ন। একই সঙ্গে ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। তাই অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। আর্থিকভাবে সচ্ছলরা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মজুদ করলেও গরিব ও প্রান্তিক মানুষের সে সুযোগ নেই।

সারাবিশ্বে করোনা পরিস্থিতি এক মহা আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। আর এ কারণে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। যে বিশ্ব আমাদের কাছে বিশ্বগ্রামের মতো অবস্থা সে বিশ্বেই আবার আমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন। বিশ্ব অর্থনীতি আজ চরম ঝুঁকির মধ্যে আবর্তিত।

এই মহামারি কতদিনে কিভাবে উত্তরণ ঘটবে সেটা নিয়ে বিশ্ববাসীর মধ্যে মহা উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ কাজ করছে। বৈশ্বিক সমাজের মধ্যে বাংলাদেশ একটি সদস্য দেশ। বাংলাদেশে এই ভাইরাস ইতোমধ্যে হানা দিয়েছে। যদিও বিগত দিনে অনেক মহামারি বা দুর্যোগের মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেক সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। অতি অল্পতেই তাদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছে। বাঙালিরা অনেক সংকটের মোকাবিলায় কম সামর্থ্য নিয়েও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। এবারও বাঙালিরা হয়তো আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে প্রাণঘাতী করোনা সফলভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ইনশালস্নাহ্‌।

দীর্ঘ সময়ের জন্য কোয়ারেন্টাইন কারো পক্ষেই অতটা সুখের নয়। একটা সময় পরে তা অবসাদগ্রস্ত ও পীড়াদায়ক পরিবেশের পর্যায়ে পরিণত হয়। শান্তি সুখের পরিবর্তে এক অসহনীয় ও অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়ে থাকে। কোয়ারেন্টাইনকালীন বসে বসে সময় কাটানোকেই বুঝায় না। প্রতিটি মানুষের কাছে প্রতিটি সময় একটি মূল্যবান সম্পদ। এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। কোয়ারেন্টাইনকালীন সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। এই সময়টাকেও ব্যস্তময় করার অনেক পথ আছে। সময়ের চাকাকে বেগবান করার জন্য কোয়ারেন্টাইনকালীন সময়ে আমাদের দৈনিক কাজের রুটিন থাকতে হবে। সেই কাজের তালিকায় ব্যক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় সব পর্যায়ের কাজকর্ম থাকতে পারে। এ ছাড়া পড়াশোনা, বিনোদন, মোবাইল গেমস এবং পরিবারের সদস্যরা মিলিতভাবে বিনোদনমূলক সময় কাটাতে পারে। এ ছাড়া ঘরে বসে গবেষণা ও সৃষ্টিশীল কাজ করাও সম্ভব। সর্বোপরি ধর্মকর্ম করারও যথেষ্ট সুযোগ থাকে। কোয়ারেন্টাইনকালীন অধৈর্য না হয়ে অস্থিরতার মধ্যে নিমজ্জিত থাকার কোন কারণ নেই বরং এ ক্ষেত্রে নিজের চেনাজানা পারিবারিক পরিবেশে মিলেমিশে একাত্ম হয়ে থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এ ক্ষেত্রে কোনো ইসু্যতে পারিবারিক গোলযোগ সৃষ্টি করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কোয়ারেন্টাইনে থাকা কোনো লোকজন ব্যক্তিবিশেষের শারীরিক, মানসিক বা আর্থিক চাপে কোনো সমস্যায় ভুগেন কিনা সে দিকগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত। তবে আমাদের সমাজে এ জাতীয় সমস্যায় ভোগান্তির কোনো কমতি হবে তা মনে করার কোনো কারণ নেই। তবে যন্ত্রণা বা ভোগান্তি যেন বিশেষ কোনো সীমারেখা অতিক্রম না করে যায়। এতে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয় এবং একে অন্যের মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। আমার ধারণা মতে আমাদের মতো গরীব দেশের মানুষরা যেখানে তারা দিনে এনে দিনে খায় সেই মানুষগুলোর হোমকোয়ারেন্টাইন কতটা সুখের বা স্বস্তির তা বলাই বাহুল্য। এই পরিস্থিতিকে খুব ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হলেই করোনা পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করা সহজ হবে। লড়বো সবাই মহানুভবতা ও মানবতায়। নতুবা এই কোয়ারেন্টাইনকালীন আপদ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়ে সামাজিক ক্ষত ও প্রকট সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এই অবস্থা প্রলম্বিত হলে পরিবারের দৃঢ় বন্ধন ভঙ্গুর ও বিলীয়মান অবস্থায় পর্যবসিত হবে।

আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে এই ক্ষতিকর প্রভাবটির দিকে বিশেষ নজরদারি রাখা আবশ্যক। দেশের সামগ্রিক, সামাজিক ও অর্থনীতিক অবস্থা পর্যালোচনা করে সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে সরকারের পক্ষ থেকে জনকল্যাণমুখী স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি থাকতে হবে। এই কর্মসূচিগুলোর নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কীভাবে কর্মসম্পাদিত হবে সে বিষয়ে সরকারকে অবশ্যই নিষ্ঠা ও দায়িত্বসচেতন হতে হবে। সর্বোপরি সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেই সরকারকে তার পরবর্তী কর্মসূচির দিকে এগোতে হবে।

\হইতিবাচক পদক্ষেপে জাতির সংকট কেটে যাবে, দেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে, নতুন উদ্যম ও উদ্দীপনার মন্ত্রে দীক্ষা লাভ করে বাংলাদেশ স্বাবলম্বী এবং স্বনির্ভর জাতিতে পরিণত হতে পারবে একটি অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশ যা আগামীতে প্রাণবন্ত একটি সুন্দর বিশ্ব দেখতে আমরা আশাবাদী। তাই সবাই করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন। নিজে সতর্ক থাকুন এবং অন্যকেও জানান।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে