logo
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৮ আশ্বিন ১৪২৭

  আরাফাত রহমান   ২৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০  

করোনার অঙ্গসংস্থান জীবনচক্র ও বিবর্তন

বোভাইন করোনাভাইরাস ছড়ায় ইকুয়াইন করোনাভাইরাস প্রজাতি থেকে, ১৮ শতকের শেষদিকে। মানব করোনাভাইরাস ওসি৪৩-এর এমআরসিএ ১৯৫০-এর দিকে উৎপত্তি লাভ করে। ১৯৮৬ সালে বাদুড় করোনাভাইরাস এবং সার্স-কোভিডের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ভাইরাস উৎপত্তি লাভ করে।

করোনার অঙ্গসংস্থান জীবনচক্র ও বিবর্তন
করোনাভাইরাস রাইবোভিরিয়া পর্বের নিদুভাইরাস বর্গের করোনাভিরিডি গোত্রের অর্থোকরোনাভিরিন্যা উপগোত্রের সদস্য। এরা পজিটিভ সেন্স একক সূত্রবিশিষ্ট আবরণীবদ্ধ বা এনভেলপড ভাইরাস। তাদের নিউক্লিওক্যাপসিড সর্পিলাকৃতির। এর জিনোমের আকার সাধারণত ২৭ থেকে ৩৪ কিলো বেস-পেয়ারের মধ্যে হয়ে থাকে যা এ ধরনের আরএনএ ভাইরাসের মধ্যে দ্বিমাত্রিক সঞ্চালন ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ভাইরাসটির আবরণ থেকে গদা-আকৃতির প্রোটিনের কাঁটাগুলোর কারণে এটিকে সৌর করোনার মতো দেখায়। ভাইরাসের উপরিভাগ প্রোটিনসমৃদ্ধ থাকে যা ভাইরাল স্পাইক পেপলোমার দ্বারা এর অঙ্গসংস্থান গঠন করে। এ প্রোটিন সংক্রমিত হওয়া টিসু্য বিনষ্ট করে। ভাইরাসটি ডাইমরফিজম রূপ প্রকাশ করে। ধারণা করা হয়, প্রাণীর দেহ থেকে এই ভাইরাস প্রথম মানবদেহে প্রবেশ করে।

করোনাভাইরাস নামটির উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ করোনা থেকে যার অর্থ 'মুকুট' বা 'হার'। করোনা শব্দটি গ্রিক থেকে এসেছে যার অর্থ 'মালা' বা 'হার'। নামটি ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে ভিরিয়নের বৈশিষ্ট্যমূলক উপস্থিতিকে নির্দেশ করে। ভিরিয়নের বিশাল কন্দাকৃতি পৃষ্ঠ অভিক্ষেপযুক্ত প্রান্ত রয়েছে যা মুকুটের স্মৃতি তৈরি করে। এর অঙ্গসংস্থান ভাইরাল স্পাইক পেপলোমিয়ার দ্বারা তৈরি হয়েছে যেগুলো মূলত ভাইরাসের পৃষ্ঠে অবস্থিত প্রোটিন।

করোনাভাইরাস বাল্বাস পৃষ্ঠের সঙ্গে পিস্নওমরফিক গোলাকার কণাসদৃশ। ভাইরাস কণার ব্যাস প্রায় ১২০ ন্যানোমিটার। ইলেকট্রন মাইক্রোগ্রাফগুলোতে ভাইরাসের আচ্ছাদনটি ইলেকট্রন গাঢ় শাঁসগুলোর একটি পৃথক জোড়া হিসেবে উপস্থিত হয়। সব প্রজাতির করোনাভাইরাসে সাধারণত স্পাইক (এস), এনভেলপ (ই), মেমব্রেন (এম) এবং নিউক্লিওক্যাপসিড (এন) নামক চার ধরনের প্রোটিন দেখা যায়। ভাইরাল আচ্ছাদনে একটি লিপিড বাইলেয়ার থাকে যেখানে মেমব্রেন (এম), এনভেলপ (ই) এবং স্পাইক (এস) কাঠামোগত অ্যাংকর প্রোটিন থাকে। করোনাভাইরাসগুলোর একটি উপসেট বিশেষত বিটাকরোনাভাইরাস 'সাবগ্রম্নপ এ'-এর সদস্যদের হিমাগস্নুটিনিন অ্যাস্টেরেস নামে একটি সংক্ষিপ্ত স্পাইক-জাতীয় পৃষ্ঠ-প্রোটিন রয়েছে।

করোনাভাইরাসে একটি পজিটিভ সেন্স, এক-সূত্রক আরএনএ জিনোম থাকে। করোনাভাইরাসগুলোর জিনোমের আকার প্রায় ২৭ থেকে ৩৪ কিলোবেইজের মধ্যে থাকে। আরএনএ ভাইরাসগুলোর মধ্যে এটির জিনোমের আকার বৃহত্তম। জিনোমে একটি ৫" মিথাইলিটেড ক্যাপ এবং ৩" পলি অ্যাডেনিলেটেড লেজ থাকে। একটি করোনাভাইরাসের জন্য জিনোম অর্গানাইজেশন হলো ৫'-লিডার- টঞজ-রেপিস্নকেজ/ ট্রান্সক্রিপটেজ-স্পাইক-এনভেলপ-মেমব্রেন-নিউক্লিওক্যাপসিড - টঞজ পলি অ্যাডেনিলেটেড লেজ। মুক্ত রিডিং ফ্রেম ১ধ এবং ১ন জিনোমের প্রথম দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে এবং রেপিস্নকেজ/ট্রান্সক্রিপটেজ পলিপ্রোটিন এনকোড করে। রেপিস্নকেজ/ট্রান্সক্রিপটেজ পলিপ্রোটিন নিজে থেকেই ভেঙে গিয়ে অ-গাঠনিক প্রোটিন গঠন করে। পরবর্তী রিডিং ফ্রেমগুলো চারটি প্রধান গাঠনিক প্রোটিন : স্পাইক, এনভেলপ, মেমব্রেন এবং নিউক্লিওক্যাপসিডকে এনকোড করে। এই রিডিং ফ্রেমগুলোর মধ্যে বিক্ষিপ্ত ফ্রেমগুলো হলো আনুষঙ্গিক প্রোটিনগুলোর জন্য রিডিং ফ্রেম। নির্দিষ্ট করোনভাইরাসের জন্য তার আনুষঙ্গিক প্রোটিনগুলোর সংখ্যা এবং কার্যাবলি নির্দিষ্ট।

সংক্রমণ শুরু হয় যখন ভাইরাল স্পাইক গস্নাইকোপ্রোটিন পরিপূরক বাহক কোষের রিসিপ্টরে সংযুক্ত হয়। সংযুক্তির পর, বাহক কোষ থেকে নিঃসৃত প্রোটিয়েজ, রিসিপ্টর-সংযুক্ত স্পাইক প্রোটিনকে বিদীর্ণ করে এবং সক্রিয় করে দেয়। বাহক কোষের প্রোটিয়েজের প্রাপ্তিসাপেক্ষ, বিচ্ছিন্নকরণ ও সক্রিয়করণ নির্ধারণ করে ভাইরাসটি বাহক কোষে অনুপ্রবেশ করবে এন্ডোসাইটোসিস নামক বাহক কোষঝিলিস্নর সঙ্গে ভাইরাল এনভেলপ সরাসরি একীভূত হওয়ার মাধ্যমে। বাহক কোষে অনুপ্রবেশ করে, ভাইরাস কণাটি আবরণী মুক্ত হয় এবং কোষ সাইটোপস্নাজমে এর জিনোম প্রবেশ করে। করোনাভাইরাস আরএনএ জিনোমে একটি ৫' মিথাইলেটেড ক্যাপ এবং ৩' পলি অ্যাডেনিলেটেড টেইল আছে, যা আরএনএ কে ট্রান্সলেশনের জন্য বাহক কোষের রাইবোজোমের সঙ্গে সংযুক্ত করে। ভাইরাসের প্রাথমিকভাবে অধিক্রমণকারী উন্মুক্ত পঠন কাঠামো, বাহক রাইবোজোম ট্রান্সলেশন করে দীর্ঘ পলিপ্রোটিন গঠন করে। পলিপ্রোটিনের নিজস্ব প্রোটিয়েজ আছে যা পলিপ্রোটিনটিকে বিদীর্ণ করে অনেক অগঠনমূলক প্রোটিন তৈরি করে।

করোনাভাইরাসে কতগুলো অগঠনমূলক প্রোটিন সমবেত হয়ে বহু-প্রোটিন রেপিস্নকেজ-ট্রান্সক্রিপ্টেজ কমেপস্নক্স (আরটিসি) গঠন করে। আরএনএ-নির্ভর আরএনএ পলিমারেজ (আরডিআরপি) হচ্ছে প্রধান রেপিস্নকেজ-ট্রান্সক্রিপ্টেজ প্রোটিন। এই প্রোটিনটি আরএনএ থেকে আরএনএ স্ট্র্যান্ড অনুলিপিকরণ এবং ট্রান্সক্রিপশনের জন্য সরাসরি নিযুক্ত। কমেপস্নক্সের অন্যান্য অগঠনমূলক প্রোটিন এই অনুলিপিকরণ এবং ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। উদাহরণস্বরূপ, এক্সোরাইবোনিউক্লিয়েজ নামক অগঠনমূলক প্রোটিন অনুলিপিকরণে ভুল চিহ্নিত করা এবং সংশোধনের বৈশিষ্ট্য এনে দেয় যা আরএনএ-নির্ভর আরএনএ পলিমারেজে নেই।

এই কমেপস্নক্সটির অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে ভাইরাসের জিনোমের অনুলিপিকরণ। আরডিআরপি সরাসরি নেগেটিভ-সেন্স জিনোমিক আরএনএর সংশ্লেষণকে পজিটিভ-সেন্স জিনোমিক আরএনএ থেকে মধ্যস্থতা করে, যার পরে নেগেটিভ-সেন্স জিনোমিক আরএনএ থেকে পজিটিভ-সেন্স জিনোমিক আরএনএ অনুলিপিকরণ হয়ে থাকে। ভাইরাসের জিনোমের ট্রান্সক্রিপশন করা কমেপস্নক্সটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আরডিআরপি সরাসরি নেগেটিভ-সেন্স সাবজিনোমিক আরএনএর সংশ্লেষণকে পজিটিভ-সেন্স জিনোমিক আরএনএ থেকে মধ্যস্থতা করে, যার পরে এসব নেগেটিভ-সেন্স সাবজিনোমিক আরএনএ অণু অনুযায়ী পজিটিভ-সেন্স এমআরএনএর ট্রান্সক্রিপশন হয়ে থাকে।

অনুলিপিকৃত পজিটিভ সেন্স জিনোমিক আরএনএ অপত্য ভাইরাসগুলোর জিনোম হিসেবে কাজ করে। প্রাথমিক অধিক্রমণকারী গঠন কাঠামো অনুযায়ী ভাইরাস জিনোমের শেষ তৃতীয়াংশের ট্রান্সক্রাইবকৃত জিন হলো এমআরএনএ গুলি। এ এমআরএনএগুলো পোষক রাইবোজোম দ্বারা ট্রান্সলেটেড হয়ে গঠনমূলক প্রোটিন এবং কতগুলো সহযোগী প্রোটিন তৈরি করে। অ্যান্ডোপস্নাজমিক রেটিকুলামের মধ্যে আরএনএ ট্রান্সলেশন হয়। ভাইরাল গঠনমূলক প্রোটিন ঝ, ঊ এবং গ ক্ষরণশীল পথ পরিক্রমণ করে মধ্যবর্তী গলজি প্রকোষ্ঠে অবস্থান করে। সেখানে, গ প্রোটিনগুলো বেশির ভাগ প্রোটিন-প্রোটিন মিথস্ক্রিয়া নির্দেশনা করে যা কিনা নিউক্লিওক্যাপসিডের সঙ্গে বন্ধনের পর ভাইরাসের সমবেত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়। অ্যাক্সোসাইটোসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপত্য ভাইরাসগুলো ক্ষরণকারী প্রকোষ্ঠগুলো দ্বারা বাহক কোষ থেকে নির্গত হয়।

করোনাভাইরাস ১৯৬০-এর দশকে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। প্রথমদিকে মুরগির মধ্যে সংক্রামক ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস হিসেবে এটি প্রথম দেখা যায়। পরে সাধারণ সর্দি-হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এরকম দুই ধরনের ভাইরাস পাওয়া যায়। মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাস দুটি 'মনুষ্য করোনাভাইরাস ২২৯ই' এবং 'মনুষ্য করোনাভাইরাস ওসি৪৩' নামে নামকরণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময় ভাইরাসটির আরও বেশকিছু প্রজাতি পাওয়া যায় যার মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হলো- ২০০৩ সালে 'এসএআরএস-সিওভি', ২০০৪ সালে 'এইচসিওভি এনএল৬৩', ২০০৫ সালে 'এইচকেইউ১', ২০১২ সালে 'এমইআরএস-সিওভি' এবং সর্বশেষ ২০১৯ সাল চীনে এসএআরএস-সিওভি-২' পাওয়া যায় যা বর্তমানে সাধারণত নোভেল করোনাভাইরাস নামেই পরিচিত।

ক্ষতির সম্ভাবনার দিক থেকে করোনাভাইরাস বেশ বৈচিত্র্যময়। কিছু প্রকরণ আক্রান্তের ৩০%-এরও বেশিকে মেরে ফেলে (যেমন মার্স-কোভ), কিছু প্রকরণ মোটামুটি নিরীহ, যেমন- সাধারণ ঠান্ডা। করোনাভাইরাস ঠান্ডার পাশাপাশি বড় ধরনের কিছু উপসর্গ সৃষ্টি করে, যেমন- জ্বর, ফুলে যাওয়া অ্যাডিনয়েডের ফলে গলাব্যথা। এগুলো সাধারণত শীতকালে এবং বসন্ত ঋতুর শুরুর দিকে হয়। করোনাভাইরাস নিউমোনিয়া ঘটাতে পারে (সরাসরিভাবে ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়া অথবা পরোক্ষভাবে ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়া) এবং ব্রঙ্কাইটিসের (সরাসরিভাবে ভাইরাসজনিত ব্রঙ্কাইটিস অথবা পরোক্ষভাবে ব্যাকটেরিয়াজনিত ব্রঙ্কাইটিস) মাধ্যমে। ২০০৩ সালে সার্স-কোভি ছড়ানোর পর থেকে করোনাভাইরাস পরিচিতি পায়। এই ভাইরাস একই সঙ্গে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সার্স) এবং ঊর্ধ্ব এবং নিম্ন শ্বাসনালি সংক্রমণ ঘটায়।

সব ধরনের করোনাভাইরাসের সর্বশেষ সাধারণ পূর্বপুরুষের উৎপত্তি ঘটে আনুমানিক ৮০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। আলফাকরোনাভাইরাসের এমআরসিএ ধারা ২৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, বেটাকরোনাভাইরাসের ধারা ৩৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, গামাকরোনাভাইরাসের ধারা ২৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এবং ডেল্টাকরোনাভাইরাসের ধারা ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তৈরি হয়েছে। বাদুড় এবং পাখির মতো উড়ন্ত উষ্ণরক্তধারী মেরুদন্ডী প্রাণীরাই করোনাভাইরাস জিন-উৎসের বিবর্তন এবং ছড়িয়ে দেওয়ার আদর্শ বাহক। বোভাইন করোনাভাইরাস এবং ক্যানাইন শ্বসনযন্ত্রের করোনাভাইরাসের শেষ পূর্বপুরুষ এসেছে ১৯৫০-এর দিকে। বোভাইন এবং মানব করোনাভাইরাস ওসি৪৩ ১৮৯০-এর দিকে ছড়ায়।

বোভাইন করোনাভাইরাস ছড়ায় ইকুয়াইন করোনাভাইরাস প্রজাতি থেকে, ১৮ শতকের শেষদিকে। মানব করোনাভাইরাস ওসি৪৩-এর এমআরসিএ ১৯৫০-এর দিকে উৎপত্তি লাভ করে। ১৯৮৬ সালে বাদুড় করোনাভাইরাস এবং সার্স-কোভিডের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ভাইরাস উৎপত্তি লাভ করে।

বাদুরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সার্স ভাইরাসের বিবর্তনের একটু যাত্রাপথ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। গবেষকরা মনে করেন, করোনাভাইরাস দীর্ঘসময় ধরে বাদুড়ের সঙ্গে বিবর্তিত হয়েছে এবং সার্স-কোভির উত্তরসূরিরা প্রথমে হিপোসিডারিডিদেরর প্রজাতির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এরপরে তা রাইনোলফিডির প্রজাতির মধ্যে, পরে ভ্যামের মধ্যে এটি ছড়ায় এবং সর্বশেষে ছড়ায় মানুষের মধ্যে। আলপাকা করোনাভাইরাস এবং মানব করোনাভাইরাস ২২৯ই ১৯৬০-এর দিকে উৎপত্তি লাভ করে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে