logo
সোমবার ২৬ আগস্ট, ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ১৯ মে ২০১৯, ০০:০০  

শীর্ষস্থানীয় ৫ ব্যাংককে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা ইইউর

শীর্ষস্থানীয় ৫ ব্যাংককে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা ইইউর
ট্রিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বার্কলেস, সিটিগ্রম্নপ, জেপি মরগান, এমইউএফজি এবং রয়াল ব্যাংক অব স্কটল্যান্ডকে গত বৃহস্পতিবার সম্মিলিতভাবে ১২০ কোটি ডলার (১০৭ কোটি ইউরো) জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। খবর রয়টার্স।

ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, এ ব্যাংকগুলোর কয়েকজন ট্রেডার দুটি কার্টেল গঠনে জড়িত ছিল। এ কার্টেলগুলোর মাধ্যমে ডলার, ইউরো ও পাউন্ডসহ ১১টি বৈদেশিক মুদ্রার স্পট মার্কেটকে প্রভাবিত করা হয়েছিল।

ইউরোপিয়ান কমপিটিশন কমিশনার মারগ্রেথ ভেসতাগের এক বিবৃতিতে জানান, কার্টেল গঠনের মাধ্যমে আর্থিক বাজারকে প্রভাবিত করার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, এর মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়া হচ্ছে। আর তা হলো, আর্থিক বাজারের যেকোনো খাতে কোনো ধরনের আঁতাতমূলক আচরণ সহ্য করবে না ইউরোপীয় কমিশন।

পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জরিমানা করা হয়েছে সিটিগ্রম্নপকে। এ ব্যাংকটিকে ৩১ কোটি ১০ লাখ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আরেক ব্যাংক সুইস ব্যাংক ইউবিএসকে কোনো জরিমানা করা হয়নি। কারণ সুইস ব্যাংক কার্টেল দুটির বিষয়ে আগেই ইউরোপীয় কমিশনকে সতর্ক করেছিল।

কমপিটিশন কমিশনার জানান, কার্টেল গঠনের সঙ্গে জড়িত ট্রেডাররা ব্যক্তিপর্যায়ে একে অন্যের পরিচিত ছিলেন। যোগাযোগের জন্য তারা ইন্টারনেটে 'এসেক্স এক্সপ্রেস এন দ্য জিমি' নামে একটি চ্যাটরুম সৃষ্টি করেছিলেন। এ নাম দেয়ার পেছনে কারণ হলো, এ ট্রেডারদের মধ্যে 'জেমস' নামে একজন ছাড়া বাকি সবাই পূর্ব লন্ডনের এসেক্সে বসবাস করতেন।

পাঁচ বছরব্যাপী পরিচালিত তদন্তের মাধ্যমে জানা যায়, পাঁচ ব্যাংকের নয়জন ট্রেডার চ্যাটরুমে সংবেদনশীল তথ্য এবং লেনদেন পরিকল্পনা বিনিময় করেছিল। মাঝে মধ্যে চ্যাটরুমে তারা লেনদেন কৌশলও কো-অর্ডিনেট করেছেন।

ইউরোপীয় কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রেডাররা একে অন্যের প্রত্যক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও, কয়েকটি চ্যাটরুমে লগইন এবং প্রতিনিয়ত তাদের লেনদেন কার্যক্রমের আপডেটসহ বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

'এসেক্স এক্সপ্রেস' নামক কার্টেলটির 'সেমি গ্রাম্পি ওল্ড ম্যান' নামক একটি চ্যাটরুমের সঙ্গেও সংশ্লিষ্টতা ছিল। এ কার্টেলটি ২০০৯-এর ডিসেম্বর থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মুদ্রাবাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত ছিল। অন্য আরেকটি কার্টেল হলো 'থ্রি ওয়ে ব্যানানা স্প্লিট'। এ কার্টেলটি 'টু অ্যান্ড হাফ ম্যান' এবং 'অনলি মার্জ' নামে দুটি চ্যাটরুমের সঙ্গেও জড়িত ছিল। কার্টেলটি ২০০৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

চ্যাটরুমগুলোতে লেনদেনকারীদের মধ্যে যেসব তথ্য আদান-প্রদান হতো, তার মধ্যে রয়েছে ক্লায়েন্টদের ক্রয়াদেশ-সংক্রান্ত তথ্য, কিছু নির্দিষ্ট লেনদেনের বিড-আস্ক স্প্রেড, ওপেন রিস্ক পজিশন এবং তাদের চলমান বা পরিকল্পনাধীন লেনদেন কার্যক্রমের খুঁটিনাটি বিষয়। মাঝেমধ্যে এ লেনদেনকারীরা তাদের লেনদেন কার্যক্রম কো-অর্ডিনেটও করে।

জেপি মরগান ও রয়াল ব্যাংক অব স্কটল্যান্ড জানিয়েছে, অনেক দিন ধরেই মুদ্রা বাজার কারসাজি-সংক্রান্ত মামলাগুলোর নিষ্পত্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল তারা। ইইউ মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করায় তারা আনন্দিত। জেপি মরগান জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এক কর্মীর অসদাচরণের কারণেই তাদের জরিমানা গুনতে হচ্ছে। এ ঘটনা তাদেরকে অতীতের ভুলের কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। জরিমানার খবরে আরবিএসও একই ধরনের মন্তব্য করেছে। মদ্রাবাজার কারসাজির অভিযোগ ওঠার পর ব্যাংক দুটি তাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন এনেছে।

এমইউএফজি জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বার্কলেস ও সিটিগ্রুপ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে