logo
সোমবার ২২ এপ্রিল, ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০  

নিয়ন্ত্রণহীন অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানি

বৈধভাবে আমদানি করা মোবাইল ফোনের আইএমইআই ডাটাবেজ চালু করবে বিটিআরসি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ব্যর্থতায় প্রতিবছর কর ফাঁকি হয় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ম আমদানির মধ্যে অ্যাপল, স্যামসাং ও শাওমির মতো নামিদামি ব্র্যান্ডের মোবাইল ম বাজেট ঘোষণার পর পর ঢাকা, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ও অন্য বন্দরগুলো দিয়ে আমদানি বেড়ে যায়।

নিয়ন্ত্রণহীন অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানি

ইমদাদ হোসাইন বিদেশ থেকে অবৈধভাবে মোবাইল আমদানি কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। দেশের মোবাইল ফোন আমদানিকারকদের তথ্যমতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ব্যর্থতায় প্রতি বছর অবৈধ মোবাইল আমদানিতে কর ফাঁকি হয় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তারা বলছেন, প্রতি বছর অবৈধভাবে প্রায় ২৫ লাখ মোবাইল আসে বাংলাদেশে। যার মূল্য ৩ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ) জানিয়েছে, অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানির মধ্যে রয়েছে অ্যাপল, স্যামসাং ও শাওমির মতো নামিদামি ব্র্যান্ডের মোবাইল। অবৈধভাবে আমদানি করা এসব ফোনে দেশের মোবাইল ফোনের ১০ হাজার কোটি টাকার বাজার নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বিপরীতে প্রতি বছর বৈধভাবে ২ কোটি ৭৬ লাখ মোবাইল ফোন আমদানি হয়ে থাকে। অবশ্য বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) বলছে, ভোক্তাদের মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ অবৈধ আমদানির ফোন ব্যবহার করে থাকেন। বিএমপিআইএ জানিয়েছে, দেশের ৭৫ ভাগ ফোনই ফিচার ফোন। বাজেট ঘোষণার পর থেকেই ঢাকা, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ও অন্যান বন্দরগুলো দিয়ে অবৈধ মোবাইল আমদানি বেড়েই চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমদানিকারকরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন আর সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব হারাতে থাকবে বলেও সতর্ক করেন তারা। উলেস্নখ্য, গত বছর সরকার দেশে মোবাইল তৈরির অনুমোদন দেয়। তবে মোবাইলের বিভিন্ন পার্টস আমদানিতে উৎপাদনকারীদের ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়। এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে যাতে সরকারের সংশ্লিষ্টরা অবৈধ মোবাইল আমদানি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। বাংলাদেশে এখন শুধু ওয়ালটন ও স্যামসাং দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদন করে থাকে। যেখানে পাশের দেশ ভারতের ৯৪ শতাংশ মোবাইলের যোগান দেয় দেশীয় উৎপাদকরা। বিটিআরসির তথ্যমতে, দেশে এখন ১৫ কোটি ৫৮ লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহাকারী রয়েছে। এর মধ্যে গত বছর আমদানি হয়েছে ৩ কোটি ৪৪ লাখ ফোন। ইতোমধ্যে বৈধভাবে আমদানি করা মোবাইল ফোনের জন্য আইএমইআই ডাটাবেজ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা জানান, দেশের বাজারের ৬০ শতাংশ ফোন ইতোমধ্যে আইএমইআই সার্ভারের অধীনে এসেছে। সরকারি এই সংস্থাটির তথ্যমতে, কারও ফোন বৈধ কিনা তা জানা যাবে মুঠোফোনের আইএমইআই নাম্বারটি লিখে ১৬০০২ এ এসএমএস পাঠানোর মাধ্যমে। এরপর বিটিআরসির পক্ষ থেকে আরেকটি ম্যাসেজ পাঠিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে ফোনটি বৈধভাবে আমদানি করা নাকি অবৈধভাবে। এছাড়া কারো ফোন হারিয়ে গেলে আইমএমইআই নাম্বারের মাধ্যমে তার ফোন শনাক্ত করতে পারবেন। বিএমপিআইএর সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব জানান, তারা জানতে পেরেছেন আগামী ডিসেম্বর নাগাদ এই ডাটাবেজের কাজ সম্পন্ন হবে। এটি করা হলে আমদানিকারকরা স্বস্তিতে থাকবেন। বিটিআরসির ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা গেলে বৈধভাবে আমদানির ফলে সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। অন্যদিকে ভোক্তাদের মোবাইল চুরির ঘটনাও হ্রাস পাবে। উলেস্নখ্য চলতি মাসে অবৈধভাবে মোবাইল আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে দেশে মোবাইল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্যামসাং। মোবাইল ও কনজু্যমার ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য (টিভি, মনিটর ইত্যাদি) অবৈধভাবে আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি রায় দিয়েছেন ঢাকা জেলা জজ আদালত। আদালত তার রায়ে সকল অবৈধ আমদানিকারককে স্যামসাং ব্র্যান্ড পণ্যের আমদানি ও বিতরণসহ বাজারজাত করা এবং বিক্রয় করার উপর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। ১০ জন অবৈধ মোবাইল আমদানিকারক এবং ১১ জন অবৈধ কনজু্যমার ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য আমদানিকারকের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্স কোং. লিমিটেড (দ. কোরিয়া) এবং স্যামসাং ইন্ডিয়া ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেড যৌথভাবে স্যামসাং বাংলাদেশ অফিসের মাধ্যমে ঢাকা জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। পণ্যের অবৈধ আমদানি এবং বিক্রয় দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর, এই কারণে এর অবৈধ আমদানি এবং বিক্রয় প্রচলিত আইন দ্বারা নিষিদ্ধ। যেমন, আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-১৮-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী, নকল ট্রেডমার্কযুক্ত এবং মিথ্যা বাণিজ্যিক বর্ণনাযুক্ত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ। শুধু তাই নয়, মোবাইলের মতো প্রযুক্তিপণ্যের অবৈধ আমদানি এবং বিক্রয় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। এই কারণে সম্প্রতি বিটিআরসি দেশের সকল মোবাইল ডিভাইস নিবন্ধনের আওতায় আনার কাজ শুরু করেছে। আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-১৮-এর ৬ ধারা অনুযায়ী, মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে নিবন্ধিত ব্র্যান্ডের পণ্য সামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্যের স্বত্বাধিকারী কর্তৃক সত্যায়িত মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত সনদপত্র পণ্য খালাসের সময় শুল্ক কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করার বিষয়টি বাধ্যতামূলক। কিন্তু অবৈধ আমদানিকারকরা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। প্রসঙ্গত, স্যামসাং ট্রেডমার্ক ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশে নিবন্ধিত। আমদানিকারকদের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি ১০০টি মোবাইলের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০টি অবৈধভাবে আমদানিকৃত, টিভির ক্ষেত্রে এই সংখ্যা প্রতি ১০০টিতে প্রায় ২৫টি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে