logo
বুধবার ১৭ জুলাই, ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

  ইমদাদ হোসাইন   ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

গাড়ি নিমার্ণশিল্পকে কর সুবিধা দিতে এনবিআরকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের চিঠি

গাড়ি নিমার্ণশিল্পকে কর সুবিধা দিতে  এনবিআরকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের চিঠি
দেশে বিনিয়োগবান্ধব করনীতি বাস্তবায়নে গাড়ি নিমার্ণশিল্পকে কর সুবিধা দিতে জাতীয় রাজস্ব বোডের্ক (এনবিআর) অনুরোধ করেছে শিমন্ত্রণালয়। গত ১৭ ডিসেম্বর এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে মন্ত্রণালায় বলেছে, দেশীয় গাড়ি নিমার্ণশিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ও এই শিল্পের রপ্তানি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কর সুবিধা দেয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া সাপ্লাই স্টেজ, কঁাচামাল আমদানি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে কর সুবিধা দিলে এই শিল্প দ্রæত এগিয়ে যাবে। কর সুবিধার এই নীতি বাস্তবায়ন হলে শিল্পখাতে দেশীয় ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন।

জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের এই অনুরোধ সাবেক অথর্মন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কর নীতিমালার নিদের্শনার পরই তৈরি করা হয়েছে। এর আগে পিএইচপি অটোমোবাইল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের শিল্পখাতে কর অব্যাহতি চেয়ে অথর্মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দিয়েছিল শিল্পমন্ত্রণালয়।

পিএইচপি অটোমোবাইল লিমিটেড দীঘির্দন ধরে দেশে মোটরগাড়ি উৎপাদন ও মজুদের ক্ষেত্রে শুল্ক ও কর হ্রাসের জন্য আবেদন করে আসছে। মুহিত এর প্রেক্ষিতে বলেছিলেন, এ বিষয়ে কথা বলার জন্য এফবিসিসিআই আমন্ত্রণ পেতে পারে। তাদের কোনো মতামত থাকলে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। পিএইচপি তাদের আবেদনে উল্লেখ করেছিল, মালেশিয়াভিত্তিক প্রোটোন হোল্ডিংস বারহেড কোম্পানির কারিগরি সহযোগিতায় একটি অটোমোবাইল কারখানার সেটআপ সম্পূণর্ করেছে। এই কোম্পানিটি প্রোটোন কারের নিমার্তা বলেও উল্লেখ করে পিএইচপি। এখন সরকার পদক্ষেপ নিলে দেশের এই শিল্পখাতের অভাবনীয় উন্নতি হবে বলে মনে করেন তারা।

মালেশিয়াভিত্তিক ওই কোম্পানিটি বাংলাদেশের বাজারে ব্র্যান্ডনিউ পিএইচপি গাড়ির শিল্পের জন্য ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। দেশের বাজারে কিছু গাড়ি ইতোমধ্যে বিক্রিও করছে । তবে পিএইচপি দাবি করেছে, দেশের বাজারে গাড়ি তৈরির পর বাজারজাত করার ক্ষেত্রে কর কাঠামোর কারণে অসম প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের।

এনবিআরের একজন ঊধ্বর্তন কমর্কতার্ জানিয়েছেন, সরকার অটোমোবাইল শিল্পের নতুন নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে খুবই ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। আগামী অথর্বছরের বাজেট ঘোষণায় এই বিষয়টি রাখার চিন্তাভাবনাও করছেন তারা।

এনবিআরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যেহেতু জাতীয় রাজস্ব বোডর্ দেশে মোটরসাইকেল শিল্পের জন্য ইতোমধ্যেই একটি নীতিমালা তৈরি করেছে। আশা করা যাচ্ছে, অটোমোবাইল শিল্পের উন্নতির জন্যও খুব শিগগিরই একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে।

এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ২০১৮ সালের এপ্রিলে ঘোষণা দিয়েছিলেন, অটোমোবাইল উৎপাদনকারীদের বিশেষ সুবিধা দেবেন। যাতে আমদানিকে অনুৎসাহিত করে দেশীয় শিল্পখাত কোনো রকমের বাধা ছাড়াই তাদের উৎপাদন বাড়াতে পাারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের বাজারে আমদানিকৃত সাধারণত তিন ধরনের গাড়ি বিক্রি হয়। এগুলো হচ্ছে, ব্র্যান্ডনিউ, রিকন্ডিশনও এবং পুরনো গাড়ি। ব্র্যান্ডনিউ গাড়ির কদর থাকলেও রিকন্ডিশন গাড়ির বাজার সবচেয়ে রমরমা। উন্নত দেশে যেসব গাড়ি তৈরি হওয়ার পর শূন্য মাইলেজে ক্রেতার হাতে তুলে দেয়া হয় সেগুলোই ব্র্যান্ডনিউ গাড়ি। আর ওইসব দেশে কিছু দিন চালানোর পর যে গাড়িগুলো বিক্রি করা হয় সেগুলোকে রিকন্ডিশন গাড়ি বলা হয়।

বাংলাদেশের বাজারে ব্র্যান্ডনিউ গাড়ি আমদানিকারক অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- টাটা মোটরস, উত্তরা মোটরস, র‌্যাংকন মোটরস, এক্সিকিউটিভ মোটরস, কণর্ফুলী গ্রæপ, হুন্দাই মোটরস, নাভানা গ্রæপ। এসব প্রতিষ্ঠান যে ব্র্যান্ডের গাড়ি আমদানি করে তার মধ্যে মাসিির্ডজ বেঞ্জ, বিএমডবিøউ, মিতসুবিশি, মাহিন্দ্রা, টাটা, সুজুকি, টয়োটা, হুন্দাই, অন্যতম। এসব গাড়ির মধ্যে কিছু গাড়ি রয়েছে যা গ্রাহকের সাধ্যের মধ্যে।

এক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ সালে তিনশর কম অভিজাত ব্র্যান্ড ও মডেলের গাড়ি বিক্রি হয়েছে বাংলাদেশে। তুলনামূলক যেখানে ২০১৭ সালে বিক্রি হয়েছে ৪৫০ ইউনিট।

সরকারের বেঁধে দেয়া নিয়ম অনুযায়ী, ২ হাজার সিসির ওপর গাড়িগুলোকে ধরে নেয়া হয় লাক্সারি কার। অবশ্য কিছু গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অভিজাত গাড়ি তৈরি করে থাকে স্মলার ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ট্যাগলাইন জুড়ে দিয়ে। অথার্ৎ সেসব গাড়ি আভিজাত্য ধরে রাখলেও ইঞ্জিনের ক্ষমতা ঠিক ততটা নয়। বতর্মানে যেমন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দামি গাড়ির সংখ্যা, তেমনি বাড়ছে গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও। যেমনটা বলা যেতে পারে এক্সিকিউটিভ মোটরসের কথা, যারা পুরো বাংলাদেশে বিএমডবিøউ কারের ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

গেল পঁাচ বছরে দামি গাড়িগুলোর বিক্রি বেড়েছে আগের চেয়ে চারগুণ বেশি। ২০১৭ সালে ১৩৫ ইউনিট বিএমডবিøউ বিক্রি হয়েছে। ২০১৮ সালের অক্টোবর পযর্ন্ত ৮০ ইউনিটের বেশি বিএমডবিøউ গাড়ি বিক্রি হয়েছে এক্সিকিউটিভ মোটরস থেকে। এক্সিকিউটিভ মোটরস মূলত ১৫০০ সিসি থেকে ২০০০ সিসি গাড়ি আমদানি করে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত অটোমোটিভ প্রতিষ্ঠান প্রগতি মূলত ২৪৭৭ সিসি পাজেরো বাজারে ছাড়ে ৯২ লাখ টাকায়। অগ্রাধিকার সূত্রে এসব গাড়ি অধিকাংশই যায় শিল্পপতিদের দখলে। আরামদায়ক ও নিরাপদ বিধায় আস্থার জায়গাও দখল করে নিয়েছে পাজেরো।

তবে এর বাইরে নিশান পেট্রল, টয়োটা ল্যান্ড ক্রজারের জয়জয়কারও রয়েছে ঢাকার রাস্তায়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে