logo
শুক্রবার ২২ মার্চ, ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫

  আহমেদ তোফায়েল   ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

আরও একটি মেট্রোরেল প্রকল্প ‘ফাস্ট ট্র্যাক’-এর আওতায় আসছে

আরও একটি মেট্রোরেল প্রকল্প  ‘ফাস্ট ট্র্যাক’-এর আওতায় আসছে
অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল (এমআরটি-লাইন-৬) নিমার্ণ হচ্ছে উত্তরা তৃতীয় পবর্ থেকে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের সামনের অংশ পযর্ন্ত। উত্তরা তৃতীয় পবর্ থেকে আগারগঁাও অংশ পযর্ন্ত বতর্মানে এ প্রকল্প দৃশ্যমান হয়েছে।

অপরদিকে ঢাকার যানজট নিরসনের গুরুত্ব দিয়ে আরও একটি মেট্রোরেল (এমআরটি-১) প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকার প্রকল্পের (ফাস্ট ট্র্যাক) আওতায় নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। মেট্রোরেলের এ প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। তারা রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পযর্ন্ত এ রেলপথ নিমাের্ণ পরামশর্ক হিসেবে কাজ করছে।

অথৈর্নতিক সম্পকর্ বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, এমআরটি-১ প্রকল্পকে ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের আওতায় নিতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সিলেকশন কমিটির কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। ইআরডির এক কমর্কতার্ জানান, এই প্রকল্পের বড় ব্যয় এবং ভূগভর্স্ত নিমার্ণকাজ চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় নিতে অনুরোধ করেছে। এখন অন্তভুির্ক্তর বিষয়টি অগ্রাধিকার প্রকল্প পযের্বক্ষণ কমিটির সিদ্ধান্তের উপর নিভর্র করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল (এমআরটি-১) প্রকল্পে কারিগরি সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে পরামশর্ক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জাপানের নিপ্পন কোই কোম্পানির নেতৃত্বে সাতটি পরামশর্ক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারিগরি সহায়তায় চুক্তি করেছে মেট্রোরেলের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। তারা রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পযর্ন্ত এ রেলপথ নিমাের্ণ পরামশর্ক হিসেবে কাজ করছে। জাপানের দুটি, ভারতের তিনটি, ফ্রান্স ও বাংলাদেশের একটি করে প্রতিষ্ঠান এমআরটি-১ প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন ও দরপত্র কাজে সহায়তা করবে।

জানা গেছে, এমআরটি-১-এর আওতায় কুড়িলের যমুনা ফিউচার পাকের্র সামনে দিয়ে বিমানবন্দর এবং পূবার্চল; এ দুটি পথে মেট্রো রেলপথ নিমার্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিমানবন্দর রুটটি নিমার্ণ করা হবে মাটির নিচে। পূবার্চল রুটটি থাকবে মাটির ওপরে উড়াল সেতুর ওপর।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এমআরটি-১ প্রকল্পটি নিমার্ণ হলে রাজধানীর যানজট কমে আসবে। ঢাকা একটি জনবহুল নগরী। যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। পাতার রেল হলে যানজট কিছুটা কমে আসবে, যাত্রীদের সময় বঁাচবে। এমআরটি-১-এর আওতায় ১৬ দশমিক ৪০ কিলোমিটার রেলপথ আন্ডারগ্রাউন্ডে নিমির্ত হবে।

এমআরটি-১-এর আওতায় বিমানবন্দর ও পূবার্চলÑএই দুটি রুটে মোট ২৬ দশমিক ৬০ কিলোমিটার রেলপথ নিমাের্ণর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে পাতাল অংশ হবে ১৬ দশমিক ৪০ কিলোমিটার এবং উড়াল অংশ থাকবে ১০ দশমিক ২০ কিলোমিটার।

বিমানবন্দর রুটটি হযরত শাহজালাল আন্তজাির্তক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিমানবন্দর টামির্নাল ৩, খিলক্ষেত, যমুনা ফিউচার পাকর্, নতুনবাজার, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা, হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ হয়ে কমলাপুর যাবে। এ রুটে স্টেশন হবে ১২টি। এর মধ্যে নতুনবাজার স্টেশনে এমআরটি-৫-এর সঙ্গে আন্তঃসংযোগ থাকবে।

পূবার্চলগামী রুটটি নতুনবাজার থেকে যমুনা ফিউচার পাকর্, বসুন্ধরা হয়ে পুলিশ অফিসাসর্ হাউজিং সোসাইটি, মাস্তুল, পূবার্চল পশ্চিম, পূবার্চল সেন্টার, পূবার্চল সেক্টর-৭ হয়ে পূবার্চল টামির্নাল পযর্ন্ত নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ রুটে নতুনবাজার ও যমুনা ফিউচার পাকর্ সংলগ্ন, পাতাল স্টেশনসহ মোট ৯টি স্টেশন হবে।

এদিকে উত্তরা থেকে মতিঝিল মেট্রোরেলের (এমআরটি-৬) নিমার্ণকাজ পুরোদমে চলছে। মূল কাঠামো ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, আগারগঁাওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কের কাছ থেকে শেওড়াপাড়া পযর্ন্ত খুঁটি উঠে গেছে। জাপান আন্তজাির্তক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অথার্য়নে প্রকল্পের কাজ চলছে। ব্যয় হবে সব মিলিয়ে ২২ হাজার কোটি টাকা। ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল এটি। এটিও বাস্তবায়ন করছে ডিএমটিসিএল (ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড)।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক বলেন ‘উত্তরা তৃতীয় পবর্ থেকে আগারগঁাও পযর্ন্ত প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে ৩৫ শতাংশ। মাটির নিচে বিভিন্ন সংস্থার লাইন সরানোর কাজ, পাইলিংসহ সব ধরনের কাজ শেষ হয়ে গেছে। মাটির ওপরের খুঁটির ভিত্তি বা পিয়ার ক্যাপ, ভায়াডাক্ট নিমাের্ণর কাজ চলছে। উত্তরায় এ পযর্ন্ত এক হাজার ১২৫ মিটার ভায়াডাক্ট নিমার্ণ করা হয়েছে। পুরো প্রকল্পে নিমার্ণ করা হবে প্রায় চার হাজার মিটার। খুঁটি বসানো হবে ৭৪৪টি। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ খুঁটি বসানোর কাজ শেষ হয়ে গেছে। তিনি জানান, আগামী জুন মাসের শেষ দিকে বা জুলাই মাসের প্রথম দিকে রেলপথ বসানোর কাজ শুরু হবে। প্রায় ৪৪ কিলোমিটার রেলপথ বসাতে হবে প্রায় ১১ কিলোমিটার রেলপথ তৈরির জন্য। আসা-যাওয়ায় ট্রেন চলাচল করবে ছয়টি। জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোটির্য়াম ট্রেনগুলো তৈরি করছে। এ কাজের অগ্রগতি হয়েছে ২০ শতাংশ। প্রথম ধাপের কাজ শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। এর দুই মাস আগে ট্রেন আনা হবে। এসব ট্রেন সাধারণ ট্রেনের চেয়ে ভিন্ন। তিন মিনিট পর পর এগুলো চলাচল করবে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে থাকবে ৯টি স্টেশন। এগুলো হবে দোতলা। এসব রেলস্টেশন তৈরির জন্য মাটির নিচের কাজ শেষ হয়েছে। ভবন তুলতে তিন মাসের বেশি সময় লাগবে না। ভায়াডাক্ট নিমাের্ণর কাজ শেষ হলে স্টেশন ভবন তোলার কাজ শুরু করা হবে।

সূত্র জানায়, এসব ট্রেন চলবে বিদ্যুতে। এ জন্য উত্তরায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সব মিলিয়ে তিনটি উপকেন্দ্র থাকবে। জাতীয় গ্রিড থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

প্রকল্পের কমর্কতার্রা জানান, উত্তরা তৃতীয় পবর্ থেকে আগারগাঁও অংশে মেট্রোরেল চলতে শুরু করবে আগামী ডিসেম্বরে। তিন মিনিট ৩০ সেকেন্ড পর পর ট্রেন ছাড়বে স্টেশন থেকে। প্রতিটি ট্রেনের গতি হবে ৩২ কিলোমিটার। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পযর্ন্ত চলবে ট্রেনগুলো। প্রতিটি স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা করতে ট্রেন বিরতি দেবে ৪০ সেকেন্ড। যাত্রীরা ফুটপাত থেকে সিঁড়ি, এসকেলেটর কিংবা লিফটে উঠতে পারবে ট্রেনে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের ৫৫টি দেশের ১৪৮টি নগরীতে মেট্রোরেল ব্যবস্থা রয়েছে। রাস্তার ওপর চাপ কমিয়ে নিরাপদ ও দ্রæত গণপরিবহনের এই ব্যবস্থায় ১৪৮টি নগরীর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রতিবেশী ভারতের দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা নগরী। চীনের বেইজিং ছাড়াও সাংহাইয়ে ধাপে ধাপে চালু হয়েছে মেট্রোরেল। ঢাকার কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা এসটিপিতে পঁাচটি পথে মেট্রোরেল চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। এর একটি হলো উত্তরা থেকে মতিঝিল পযর্ন্ত, যা বাস্তবায়নের কাজ দ্রæত এগোচ্ছে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে