logo
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৫

  ক্রীড়া প্রতিবেদক   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

সময়-সমর্থন দুটোই চাইলেন ডমিঙ্গো

আমি যে দলটির কোচ- এই মুহূর্তে টেস্ট ক্রিকেটে এটিই সবচেয়ে অনভিজ্ঞ টেস্ট দল। ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সমর্থক ও সংবাদ মাধ্যমের সমর্থন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ভালো খেলতে হবে এটা তারা জানে। ধৈর্য ধরুন। এই ক্রিকেটাররা আপনাদের গর্বিত করবে। আরও সময় দরকার -রাসেল ডমিঙ্গো

সময়-সমর্থন দুটোই চাইলেন ডমিঙ্গো
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো -বিসিবি
কিছুতেই ছন্দে নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে চেনাই যাচ্ছে না টাইগারদের। দেশের বাইরে সাফল্য তো সোনার হরিণ। ইনিংস ব্যবধানে হারটাও নিয়মিত। ভারত সফরে আড়াই দিনে হারের লজ্জায় ডুবেছিল মুমিনুল হকের দল। কিছুদিন আগে পাকিস্তানেও সেই একই দৃশ্যপট। এবার লড়াই ঘরের মাঠে! শনিবার সকালে মিরপুরের শেরেবাংলায় শুরু জিম্বাবুয়ের সঙ্গে লড়াই। সফরকারীদের সঙ্গে একটিই টেস্ট। এই ম্যাচে কী দল ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে? কেন টেস্টে এমন ভরাডুবি দলটির?

শুক্রবার এমন প্রশ্নবাণের মুখোমুখি হতে হলো বাংলাদেশের প্রধান কোচকে। ঠান্ডা মাথায় সেইসব প্রশ্নের জবাব দিলেন রাসেল ডমিঙ্গো। টাইগার কোচ সময় ও সমর্থন চাইলেন। টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে রাসেল সময়ের সঙ্গে চাইলেন সমর্থক আর গণমাধ্যমের সমর্থন। কারণ তার দাবি এই দলটা বেশ অনভিজ্ঞ।

রাসেল ডমিঙ্গো মিরপুরের শেরেবাংলার সংবাদ সম্মেলন কক্ষে বসে অনুরোধ রাখলেন, 'বাংলাদেশের সবাই ক্রিকেটকে পাগলের মতো ভালোবাসে। দর্শক-গণমাধ্যম সবকিছুই অবিশ্বাস্য। কিন্তু প্রত্যেককে বুঝতে হবে, এই টেস্ট দলে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত খেলেছে ৩টি টেস্ট। সাইফ হাসান তার দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে যাচ্ছে। আবু জায়েদ ৭টি টেস্ট খেলেছে। এবাদত হোসেন খেলেছে ৪টি। দলটা খুবই অনভিজ্ঞ। দলের অধিনায়ক দায়িত্ব নিয়েই ভারত, পাকিস্তানের বিপক্ষে অধিনায়কত্ব করেছে।'

একইসঙ্গে অন্য দলের প্রসঙ্গটাও টেনে আনেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ। তিনি বলেন, 'বিশ্বের অন্য অধিনায়কের হাতে ১০০-১৫০ টেস্ট খেলা টেস্ট বোলার রয়েছে। স্টুয়ার্ট ব্রড খেলেছে ১৪০, কাগিসো রাবাদা ৫০ টেস্ট, ফারনন ফিল্যান্ডার খেলেছে ৭০ টেস্ট। মিচেল স্টার্ক ৬০ টেস্ট। এ কারণেই আমি বলতে চাই- গণমাধ্যমকে ধৈর্য ধরতে হবে। আবার নির্বাচকদেরও কিছু ক্রিকেটারদের ওপর ভরসা রাখতে হবে।'

নিজ দল নিয়ে রাসেল আরও বলেন, 'দেখুন, আমি যে দলটির কোচ-এই মুহূর্তে টেস্ট ক্রিকেটে এটিই সবচেয়ে অনভিজ্ঞ টেস্ট দল। অথচ আপনারা প্রত্যাশা করেন- দলটি ভারত আর পাকিস্তান গিয়ে একদিনের অনুশীলনে তাদের সঙ্গে লড়াই করবে। এ কারণেই বলছি ধৈর্য ধরুন। ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সমর্থক ও সংবাদ মাধ্যমের সমর্থন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ভালো খেলতে হবে এটা তারা জানে। ধৈর্য্য ধরুন। এই ক্রিকেটাররা আপনাদের গর্বিত করবে। আরও সময় দরকার।'

বাংলাদেশ দলকে অনভিজ্ঞ বলার পেছনে ডমিঙ্গোর যুক্তিটা অবশ্য ফেলনাও নয়! নিষেধাজ্ঞায় সাকিব আল হাসান নেই। দলের অটোমেটিক চয়েস সেরা খেলোয়াড়টিকেই তো শুধু হারায়নি বাংলাদেশ, হারিয়েছে একযুগের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ এক সেনানীকে। ইমরুল নেই চোটে, মাহমুদউলস্নাহ নেই ফর্ম হারিয়ে, মুস্তাফিজ যখন আসা-যাওয়ার মধ্যে, খেলতে থাকা পেসারদের মধ্যে রুবেল চলে না অবস্থায় আছেন। তাহলে দলে বটগাছটা কে? আতশকাঁচের তো দরকার হয় না! তামিম, মুশফিকুর, মুমিনুল ছাড়া অভিজ্ঞ কাকে টেস্টে পাচ্ছে বাংলাদেশ?

মিরপুরে টেস্ট মানে আড়াইদিন, তিন দিনেই শেষ। অতি মাত্রায় টার্নিং উইকেটে খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষ তো বটেই, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও হিমশিম খান। স্বাগতিক হওয়ার সুবিধার পুরোটা আদায় করায় অধিকাংশ সময় অবশ্য ফল আসে বাংলাদেশের পক্ষেই। কিন্তু দেশের বাইরে গেলেই পরিস্থিতি বদলে যায়। কঠিন সংগ্রাম করতে হয়, ইনিংস হার এড়ানোই কঠিন হয়ে যায়। বিব্রতকর এ অবস্থা থেকে উত্তরণে গেল কয়েক বছরে দেশের ক্রিকেটের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে তাতে বদল আনতে চান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।

এ সংস্কৃতি বদলের কথাই শোনালেন ডেমিঙ্গো, অন্যথায় নিজেদের মধ্যেও বাজে ধারণা তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি, 'আপনি স্পিনিং উইকেট চান কিন্তু আমাদের ভালো উইকেটে খেলাটাও শিখতে হবে যাতে আমাদের পেসাররাও ম্যাচে থাকে। যদি আমরা কঠিন উইকেটে খেলি, তাহলে ব্যাটসম্যানরাও বড় সেঞ্চুরি করতে পারবে না। এতে বোলারদের মধ্যেও বাজে ধারণা হবে। তারা ভাববে, তারা খুব বড় বোলার, কারণ উইকেটে টার্ন হচ্ছে।'

দেশের বাইরে টেস্ট ম্যাচের কথা মাথায় রেখেই ভাবনায় বদল আনা উচিত বলে মনে করেন কোচ, 'বাংলাদেশকে টেস্টে উন্নতি করতে হলে সবসময় স্পিনারদের নিয়ে খেলালে হবে না। যদি আমরা একটা পেসার নিয়ে খেলি, এরপর ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে গেলে আমাদের তিন পেসার কে হবে? তারা আমাদের মতো ক্রিকেট খেলে না। এটা একটা ভালো ভারসাম্য। আমরা দলের শক্তির অবস্থা জানি। বিশেষ করে স্পিনিং উইকেটে যখন আমরা অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলি। আমাদের অবশ্যই ভালো উইকেটে খেলা উচিত। না হলে দেশে ভালো করব কিন্তু বিদেশের মাটিতে নয়।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে