logo
বৃহস্পতিবার ২৩ মে, ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০  

বদলে যাওয়া এক দল আয়াক্স

বদলে যাওয়া এক দল আয়াক্স
ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল আবেগের কাছে হারতে হয় সবকিছুকেই। কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দিয়ে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের দলে যোগ করলেও শেষ তক আবেগের (প্যাশন) সঙ্গে পেরে ওঠা বড়ই মুশকিল। এটি আরও একবার প্রমাণ করল নেদারল্যান্ডসের ফুটবল ক্লাব আয়াক্স। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদ আর জুভেন্টাসকে বধ করে। ডাচ ক্লাবটি শেষবার ১৯৯৪-৯৫ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিল। ডি ক্রুইফ যখন আয়াক্সের জার্সি জড়িয়ে মাঠ মাতাতেন, তখন তারা জিতেছিলেন টানা তিন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।

৯০'র দশকে আয়াক্স ছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষের দিকের ক্লাবগুলোর একটি। তবে বিশ্বায়নের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারায় একবিংশ শতাব্দীতে এসে কিছুটা ম্স্নান ছিল আয়াক্সের ইতিহাস। তবে আয়াক্স তাদের অতীতের জৌলুস হারালেও হারায়নি তাদের ঐতিহ্য। এখনো ইউরোপীয় সেরা ক্লাবের তালিকা করলে সেরা দশে থাকবে ডি ক্রুইফের আয়াক্সের নামটি। ডি ক্রুইফ যার ফুটবল দর্শনে বদলে গিয়েছিল পুরো ফুটবল বিশ্ব। আয়াক্সের জৌলুস ভরা ইতিহাস কিংবা বার্সেলোনার ইউরোপ শাসনের নতুন অধ্যায়। সবকিছু তার হাতেই রচিত হয়েছে।

অনেকে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার ফুটবল একাডেমিকে বলে থাকেন ইতিহাসের সেরা ফুটবল একাডেমি। তবে যারা নিয়মিত ফুটবল পাড়ার খোঁজ রাখেন তারা জানেন ফুটবল ইতিহাসের সেরা ফুটবল একাডেমি ডাচ ক্লাব আয়াক্সের। যে একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন সর্বকালের সেরাদের কাতারে থাকা ডি ক্রুইফ। কিংবা মার্কো ভ্যান বাস্তেন, রাইকার্ড, ডেনিশ বার্কেম্প কিংবা প্যাট্রিক ক্লুভার্টের মতো কিংবদন্তিরা। আর বর্তমানে ফুটবল মাতানো ক্রিশ্চিয়ান এরিকসন কিংবা লুইস সুয়ারেজের মতো তারাকারাও উঠে এসেছিল আয়াক্সের যুব একাডেমি থেকেই। নিঃসন্দেহে তাই বলা যায়, যদি কোনো ফুটবল একাডেমিকে সেরার খেতাব দিতে হয় তা দিতে হবে আয়াক্সকে।

আয়াক্সের রূপকথায় এই দুই নাম আসার পেছনের কারণটা নেহাত ফেলে দেয়ার মতো নয় বলেই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে তাদেরই ডেরাতে ৪-১ গোলে পরাজিত করে টিকিট পায় কোয়ার্টার ফাইনালের। আর সদ্য রিয়াল থেকে জুভেন্টাসে পাড়ি জমানো রোনালদোর তুরিনের অ্যালিয়েঞ্জ স্টেডিয়ামে জুভেন্টাসকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে আয়াক্সের নিশ্চিত হয় সেমিফাইনেলের টিকিট। বড় এই দুটি দলকে হারানো চাট্টিখানি কথা ছিল না। নামডাক কিংবা সম্মানে কোনো অংশে কম ছিল না দু'দলের কেউই। তবে আয়াক্সের কাছে হয়তো অর্থ ছিল না। তবে যা ছিল তা হলো ফুটবলের প্রতি প্যাশন (আবেগ) আর নিজেদের প্রমাণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে