logo
  • Sun, 18 Nov, 2018

  ক্রীড়া ডেস্ক   ১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

আনন্দ-উৎসবে ভাসছে ক্রোয়েশিয়া

আনন্দ-উৎসবে ভাসছে ক্রোয়েশিয়া
আনন্দে মাতোয়ারা রাজধানী জাগরেবের মানুষেরা। ক্রোয়েশিয়া যে বিশ্বকাপের ফাইনালে Ñওয়েবসাইট

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠার পর পুরো ক্রোয়েশিয়া যেন উৎসবের দেশে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার মস্কো থেকে ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবে ক্রোয়াট সমথর্করা সারা রাত নেচে গেয়ে উল্লাসে মাতে। অন্যদিকে রাজ্যের হতাশায় ডুবে ছিল ইংলিশ সমথর্করা। মারিও মানজুকিচের এক গোল ম্যাচের রং পাল্টে দেয়। পাগলেটে উদযাপনে মাতে ফুটবলাররা। ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে এসেই চমক দেখিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। উঠেছিল সেমিফাইনালে। এরপর টানা তিনটি বিশ্বকাপে হতাশ করেছে তারা। দুবার গ্রæপ পবর্ থেকেই বিদায় নিয়েছে, আর একবার তো মূল পবের্ খেলার সুযোগই পায়নি। দীঘির্দন পর আবার তারা বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েছে সোনালি প্রজন্ম নিয়ে। গ্রæপ পবের্ তার প্রমাণও দিয়েছিল আজেির্ন্টনার মতো দলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে। সব বাধা পেরিয়ে এবার রাকিতিচ-মদ্রিচরা জায়গা করে নিয়েছেন রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে। দলের এমন সাফল্যে বেশ উৎফুল্ল ক্রোয়াটরা। ফাইনালের মঞ্চে পেঁৗছে ক্রোয়েশিয়া এখন শিরোপা ঘরে তোলারও স্বপ্ন দেখছে। অথচ ক্রোয়েশিয়া ফাইনালে খেলবে, এমনটাই তো ভাবেননি অনেকে। এমন অপ্রত্যাশিত সাফল্যে মস্কো তো বটেই, ক্রোয়েশিয়ার আকাশে বাতাসে আনন্দের ছড়াছড়ি। বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে মারিও মানজুকিচের গোলের পরই যার শুরু। শেষ বাঁশি বাজতে জাগরেবের রাস্তায় সমথের্করা মেতে উঠেছে আনন্দ উৎসবে। প্রায় ৪৩ লাখ মানুষের দেশ ক্রোয়েশিয়া বণির্ল নগরী হয়ে উঠেছিল এদিন। রাজধানী জাগরেবে ১০ হাজার মানুষ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাজির হয়েছিলেন বড় স্ক্রিনে খেলা দেখতে। আর ক্যাফেতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। হতাশ হতে হয়নি তাদের। গাড়ির হনর্ বাজিয়ে ও আতশবাজি ফুটিয়ে প্রথমবার ফাইনালে ওঠার আনন্দ করেছে ক্রোয়াটরা। এই ফল মোটেও অবাক করেনি ৪১ বছরের ইভান কেচেরিনকে, ‘আমরা আশা (ফাইনাল) করেছিলাম। আমাদের দলের ওপর বিশ্বাস ছিল। কিন্তু শেষ পযর্ন্ত যখন ফাইনালে উঠলাম, তখন সেই অনুভূতিটা কিছুর সঙ্গেই তুলনা করা যাচ্ছে না।’ মস্কোতে ক্রোয়েশিয়ান ভক্তরা কিন্তু একটু দোটানায় ছিলেন। তারা ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিলেন দেশে ফেরার জন্য। জামাির্ন প্রবাসী সিনিসা পাভলেক চওড়া হাসি নিয়ে বের হয়ে এলেন স্টেডিয়াম থেকে, ‘আমরা চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম। কিন্তু এখন সোমবার পযর্ন্ত আমাদের থাকতে হবে।’ ক্রোয়েশিয়া কি রোববার হারাতে পারবে ফ্রান্সকে, এই প্রশ্ন করা হলে পাভলেকের বান্ধবী মারিনার উত্তর, ‘অবশ্যই আমরা পারব। আমরাতো ইংল্যান্ডকে হারালাম।’ গালে জাতীয় পতাকা আঁকানো সাথর্ক হয়েছে ৪৮ বছর বয়সী এরিক আসালেমের। দীঘর্ দিন পর সুখের অনুভূতি তার, ‘এটা ছোট একটা দেশ। আপনি দেখছেন কী হচ্ছে। প্রত্যেকে এসেছে। অনেক দিন পর সেরা অনুভূতি হচ্ছে।’ ক্রোয়েশিয়ার জাসির্ পরা একজন মেয়ে সমথর্ক ম্যাচের পর চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘ইংল্যান্ড বাড়ি ফিরে যাচ্ছে, আর আমরা ফাইনালে যাচ্ছি। আমাদের দেশটা ছোট, কিন্তু আমরা ফুটবল খেলতে পারি।’ মাকোর্ নামের একজন ক্রোয়েশিয়ার নাগরিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা কেউ ভাবিনি, জয়টা শেষ পযর্ন্ত আমাদেরই হবে। সারা সপ্তাহ ইংলিশ মিডিয়া আমাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে গেছে। তারা বলেছে, আমাদের সুযোগ নেই ম্যাচ জেতার। কিন্তু মাঠে ছেলেরা সেরাটা দেখিয়ে জয় তুলে নিয়েছে।’ জাগরেব যখন উৎসবের শহর তখন লন্ডন যেন শোকগাথা এক পোড়া বাড়িতে পরিণত। স্বপ্নগুলো পুড়ে ছাই হয়েছে। ইংলিশ সমথর্কদের চোখেমুখে রাজ্যের অঁাধার নেমে এসেছে। ৫২ বছর পর ফাইনালে ওঠার দারুণ এক সম্ভাবনার মৃত্যু মানতে পারছে না তারা। কেউ বা হয়েছেন ক্ষুব্ধ। ইংল্যান্ড যখন নীরবে টিম হোটেলে ফিরেছে। তখন বীরের বেশে টিম হোটেলে ক্রোয়েশিয়া ফুটবলাররা। কে জানে এই দলটি হয়তো রোববার মস্কোর লুঝনিকিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে?

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে