logo
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ১৪ চৈত্র ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

কর্মশালায় বক্তারা

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আতঙ্ক নয়, খাপ খাওয়াতে হবে

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর বলেছেন, 'জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসু্য। এর ফলে সর্বত্র বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ছে। সেটা শীতপ্রধান অঞ্চলের জন্য আশীর্বাদ, অন্যদিকে আমাদের জন্য আতঙ্কের বিষয়।'

তিনি বলেন, তবে আমরা চাই তাপমাত্রা একটি সহনীয় পর্যায়ে থাকুক। গত ৪০ বছর আগের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে বিশ্বব্যাপী অনেক ক্ষেত্রেই বৈপস্নবিক পরিবর্তন হয়েছে এবং আমরা সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি। তেমনি জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের উচিত সেই পরিবর্তন মোকাবেলায় খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা। কেননা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সব সময় খারাপ হয় না। অনেক সময় সেটা ভালো কিছুও বয়ে আনতে পারে। সেজন্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এ বিষয়ে গবেষণার প্রতি গুরুত্ব বাড়াতে হবে।

মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগ এবং সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চের (সিইএসইআর) উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী 'জলবায়ু পরিবর্তন: প্রভাব ও অভিযোজন' শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে এখনো বিদেশ নির্ভরতা কমছে না। এসব ইন্ডাস্ট্রিতে কেন আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা গুরুত্ব পাচ্ছেন না- সেটা খুঁজে বের করতে হবে। প্রয়োজনে আমাদের সেভাবেই পাঠ্যসূচি সাজাতে হবে। তবেই আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা মানবসম্পদে পরিণত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল ভবনের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। সভাপতিত্ব করেন পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুদীপ কুমার পাল। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিইএসইআরের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফারজানা রহমান জুথী। সঞ্চালনা করেন সেন্টারের গবেষণা প্রভাষক মো. আরিফ হোসেন।

ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে সমগ্র বিশ্ব এখন উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশও ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ তলিয়ে যেতে পারে- এমন পূর্বাভাসও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে প্যানিক তৈরি করা উচিত হবে না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিষয়ে বিভিন্ন মৌলিক গবেষণা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি চুয়েটের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা থেকে তেমনি ফলপ্রসূ কিছু বেরিয়ে আসবে।

কর্মশালার প্রথম দিন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সুদীপ কুমার পাল, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান, আইটিএন-বুয়েটের নলেজ ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট ম্যাকফি ফারাহ, চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফুল হক এবং সহকারী অধ্যাপক ড. মারুফুল হাসান মজুমদার প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে