logo
শনিবার ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ১৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০০  

পাহাড়ধস ঠেকাতে 'জাদুর ঘাসের' চাষ বাড়াচ্ছে চসিক

পাহাড়ধস ঠেকাতে 'জাদুর ঘাসের' চাষ বাড়াচ্ছে চসিক
বিন্না ঘাস -যাযাদি

পাহাড়ধসে প্রাণহানি ও পাহাড়ি বেলে মাটিতে নালা-নর্দমা ভরাট রোধে 'জাদুর ঘাস' হিসেবে পরিচিত বিন্না ঘাস (ভেটিভার গ্রাস) প্রকল্পের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। দ্রম্নত বর্ধনশীল, জলবায়ুসহিষ্ণু, সহজ চাষ পদ্ধতি এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ায় দীর্ঘমূলী এই ঘাস পাহাড়, নদী তীর, বাঁধের ভূমিক্ষয় রোধে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে সমাদৃত হবে- এমন আশা বিশেষজ্ঞদের। নগরের টাইগারপাসে বাটালি হিল মিঠা পাহাড়ের পাদদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) এই পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের ৩০ মে। বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড ভেটিভার গ্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ওইদিন ভেটিভার সেন্টার উদ্বোধন করেন থাই রাজকুমারী মাহা চাকরি সিরিনধর্ন। তিনি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের হাতে বিন্না ঘাসের চারা তুলে দেন। নিজ হাতে রোপণও করেন এই ঘাস। চসিকের প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিন্না ঘাসের পাইলট প্রকল্প থেকে উৎপাদিত চারা মিঠা পাহাড়ের ঢালু অংশে লাগানো হচ্ছে। প্রতিদিন চসিকের নিজস্ব শ্রমিকরা দক্ষতার সঙ্গে কাজটি করছেন। চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে পাইলট প্রকল্পে বিন্না ঘাস চাষ, পরিচর্যা, যত্ন, ফুল, ঘাসের উচ্চতা ইত্যাদি বিষয়ে ভৌত স্টাডি সম্পন্ন করেছি। ইতোমধ্যে আমরা প্রচুর চারা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। যেগুলো চসিকের নিজস্ব পাহাড়ের ঢালুতে লাগাচ্ছি। এর থেকে আমরা ক্ষয়রোধে কার্যকারিতা পরীক্ষা করব। বিশেষ করে মাটি আটকে রাখার সক্ষমতা, শেকড়ের দৈর্ঘ্য ও গভীরতা, শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিকভাবে টিকে থাকার ক্ষমতা ইত্যাদি। আশাতীত সাফল্য পেয়েছি আমরা। চসিকের টাইগারপাসের প্রধান কার্যালয়ে ঢোকার সময় এই পাইলট প্রকল্পের সবুজের সমারোহ সবাইকে মুগ্ধ করছে। তিনি জানান, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার অনেক কারণ রয়েছে। পরিবেশের জন্য চরম ক্ষতিকর উপকরণ পলিথিন, পস্নাস্টিকসহ অপচনশীল বর্জ্য যদি নালা-নর্দমা ভরাটের ১ নম্বর কারণ হয়, তবে দ্বিতীয় কারণটি হলো বৃষ্টিতে নেমে আসা পাহাড়ি বালু। যেগুলো আটকে রাখার জন্য প্রচুর সিলট্রেপ (বালু ধরার ফাঁদ) দরকার। এই বালু নালা থেকে খালে, খাল থেকে কর্ণফুলী নদীও দ্রম্নত ভরাট করছে। যা অব্যাহত থাকলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের চ্যানেলের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, বিন্না ঘাসের পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। আমাদের নিজস্ব পাহাড়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই ঘাসের চাষ বাড়ানো হচ্ছে। থাইল্যান্ডের একটি বিশেষজ্ঞ দল বেশ কিছু পাহাড় পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তাদের মত ছিল, সব পাহাড়ে হয়ত এটি সমান কার্যকর হবে না। কিছু পাহাড়ে খুব ভালো কাজ দেবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে