logo
সোমবার ২২ জুলাই, ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০  

দেশ প্রকৃত সমুদ্রবিজ্ঞানী পাবে ২০৩০ সালে

দেশ প্রকৃত সমুদ্রবিজ্ঞানী পাবে ২০৩০ সালে
মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে পেট্রোবাংলার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. জোবায়ের আলম -যাযাদি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. জোবায়ের আলম বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বস্নু-ইকোনমি তথা সমুদ্র সম্পদ অর্থনীতি নিয়ে যে ধরনের গবেষণা বা পড়াশোনা হচ্ছে সেটা থিউরিটিক্যাল বেইজড। এতে করে বস্নু-ইকোনমিকে কাজে লাগানো সম্ভব নয়। মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে পেট্রোবাংলার সম্মেলন কক্ষে বস্নু-ইকোনমি নিয়ে এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সভার আয়োজন করে গ্রিনটেক ফাউন্ডেশন। জোবায়ের আলম বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিজ্ঞান নামে একটি বিভাগ খোলা হয়েছে। তবে এ বিভাগে অর্থ বরাদ্দ অত্যন্ত নগণ্য। আমরা বরাবরই বলে আসছি, আমাদের বিভাগে একটা আধুনিক ল্যাব লাগবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটা পাইনি। এতে প্রকৃত অর্থে আমরা যে ধরনের গবেষণা করছি, তাতে বস্নু-ইকোনমিকে কাজে লাগানো সম্ভব নয়।' জোবায়ের আলম বলেন, 'কোনো কিছু পেতে হলে আগে বীজ রোপণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বীজ হচ্ছে একাডেমিক শিক্ষা। কিন্তু আমরা একাডেমিক শিক্ষা দিতে পারছি না। ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিজ্ঞান নামে একটি বিভাগ খোলা হবে। সে বক্তব্যের রেস ধরেই এ বিভাগটি খোলা হয়। কিন্তু এখনও ভালোমানের শিক্ষা দেয়ার সুযোগ নেই।' তিনি বলেন, 'আমরা সমুদ্র থেকে প্রকৃত অর্থে সম্পদ আহরণ করতে চাইলে রিয়েল ওশানোগ্রাফার (সমুদ্র বিজ্ঞানী) তৈরি করতে হবে। রিয়েল ওশানোগ্রাফার তৈরি করবে বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগে কখনও সমুদ্র বিজ্ঞানী তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আমরা যারা সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের দায়িত্বে আছি তারা সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের কেউ নই। অন্য বিভাগ থেকে পড়াশোনা করে এ বিভাগের দায়িত্ব নিয়েছি।' 'তবে আমাদের বিভাগ থেকে যে ছেলেমেয়ারা পড়াশোনা করে বের হবে তারা হবে রিয়াল ওশানোগ্রাফার। এরা যদি ছয় বছর পড়াশোনা করার পর দেশ-বিদেশ থেকে গবেষণা করে ডিগ্রি অর্জন করে, তারাই হবে রিয়াল ওশানোগ্রাফার। প্রকৃত অর্থে ২০৩০ সালে রিয়েল (প্রকৃত) সমুদ্র বিজ্ঞানী পাব।' তিনি বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় বছর আগে একটা বিভাগ খোলা হয়। এরপর নিয়মমাফিক প্রতিবছর আমাদের ১০-১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ বরাদ্দে সমুদ্রবিজ্ঞানের প্রকৃত ব্যবহারিক জ্ঞান দেয়া সম্ভব নয়। এর ফলে আমরা ক্লাসে শুধু থিউরিটিক্যাল বই পড়াই। এর ফলে আমাদের জ্ঞানগুলো থিউরিটিক্যালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। সুতরাং গোড়ায় গলদ থেকে যাচ্ছে। তাই আমরা তাদের নিকট থেকে খুব বেশি কিছু আশা করতে পারব না।' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমুদ্রবিজ্ঞন বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, 'তারপরও আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রম্নটি নেই। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আর জ্ঞান প্রদানের জন্য আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) করেছি।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে