logo
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

সংসদীয় আসন

সীমা নির্ধারণে ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাব

জাতীয় সংসদের আসনের সীমানা নির্ধারণে জনসংখ্যার পাশাপাশি ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় নিতে নতুন আইনের খসড়া তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন।

এতে জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যার গড় নির্ধারণ করে সেটাকে 'জাতীয় জনসংখ্যা কোটা' দিয়ে ভাগ করে প্রতিটি জেলার আসন বণ্টনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

'সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০১৯' নামে নতুন আইনটি পাস হলে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে বিদ্যমান 'দ্য ডিলিমিটেশন অব কন্সটিটিউয়েন্সিস অর্ডিনেন্স ১৯৭৬' রহিত হবে।

বাংলা ভাষায় নতুন এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার দুই বছরের মাথায় বুধবার কমিশন সভায় তার খসড়া চূড়ান্ত হয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বাংলায় সীমানা পুনর্র্নির্ধারণ আইন করার প্রস্তাব রেখেছি। সব এলাকায় আসন বণ্টনে ভারসাম্য বজায় রাখতে জনসংখ্যার পাশাপাশি ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় এনে সীমানা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

'এটি এখন আইন মন্ত্রণালয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে, তারপর কেবিনেটে যাবে। এরপর সংসদে যাবে। চূড়ান্তভাবে কী হয় তা পরবর্তীতে দেখা যাবে।'

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, জনসংখ্যা কোটার ভিত্তিতে আসন বণ্টন; সিটি করপোরেশন, বড় বড় শহরের ও পলস্নী এলাকার ভারসাম্য রক্ষা এবং সিটিতে মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশের মাধ্যমে নির্ধারণ করার প্রস্তাব রয়েছে প্রস্তাবিত খসড়ায়।

কমিশনের সচিব মো. আলমগীর বলেন, প্রস্তাবিত খসড়া হালনাগাদ করে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় তা দেখে ফেরত পাঠানোর এবার চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় তেমন বড় পরিবর্তন নেই জানিয়ে তিনি বলেন, 'আগের সঙ্গে ৯০% মিল রয়েছে, ১০% নতুন সংযোজন ও মডিফাই করা হয়েছে। জনসংখ্যা, ভোটার সংখ্যা, ভৌগোলিক, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক ইউনিট বিবেচনায় নিয়ে আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে।'

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্র্নির্ধারণ আইন নতুন করে প্রণয়নের উদ্যোগ নিলেও তা থেমে গিয়েছিল। সে সময় নির্বাচন কমিশনের খসড়া কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়, ভোটার তালিকা প্রতিবছর হালনাগাদ হওয়ায় সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র জনসংখ্যার উপর ভিত্তি না করে ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এর সঙ্গে বড় বড় শহরের আসনসংখ্যা সীমিত করে দিয়ে আয়তন, ভৌগোলিক অখন্ডতা ও উপজেলা ঠিক রেখে এবার সীমানা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়।

সবার সঙ্গে আলোচনা করে সীমানা পুনর্র্নির্ধারণের জন্য পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ার পরও নতুন আইন প্রণীত হয়নি। নতুন করে আইন সংস্কারের প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে এ বছর নভেম্বরে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় 'জাতীয় জনসংখ্যা কোটা'র ভিত্তিতে প্রত্যেক জেলায় আসন বণ্টন করার বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। সে সঙ্গে আসন বণ্টনে জনসংখ্যা কোটা কীভাবে নির্ধারণ হবে তাও উলেস্নখ করা হয়েছে। ২, ৫, ৬ ধারা ও বিভিন্ন উপধারায় ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। ২ ধারায় যুক্ত হচ্ছে 'জাতীয় জনসংখ্যা কোটা' নামে নতুন উপধারা।

এই ধারার 'ক' উপধারায় সিটি করপোরেশন ব্যতীত সমগ্র দেশের বিদ্যমান ভোটার সংখ্যা এবং সর্বশেষ আদমশুমারি প্রতিবেদনে প্রাপ্ত জনসংখ্যার গড় নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

'খ' উপধারায় সিটি করপোরেশনগুলোর বিদ্যমান ভোটার সংখ্যা ও সর্বশেষ আদমশুমারি প্রতিবেদনে প্রাপ্ত জনসংখ্যার যোগফলের দুই তৃতীয়াংশের গড় নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ক এবং খ তে প্রাপ্ত ফলাফলের যোগফলকে সংসদের মোট আসন সংখ্যা দ্বারা বিভাজনের মাধ্যমে প্রাপ্ত সংখ্যার ভিত্তিতে আসন সীমা নির্ধারণের কথা 'গ' উপধারায় বলা হয়।

খসড়ায় বলা হয়, এইভাবে প্রতিটি জেলার জনসংখ্যা এবং ভোটার সংখ্যার গড় নির্ধারণ করে জনসংখ্যার কোটা দ্বারা ভাগ করে প্রতিটি জেলার আসন বণ্টন করতে হবে। প্রাপ্ত জনসংখ্যার গড় এবং জাতীয় জনসংখ্যা কোটার ভিত্তিতে প্রাপ্ত গড়ের ব্যবধান ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম-বেশি হলে সংশ্লিষ্ট জেলার আসন সংখ্যার কোনো কম বেশি হবে না।

৬ নম্বর উপ-ধারায় বলা হয়েছে, যা কিছুই থাকুক না কেন, কমিশন প্রত্যেক জেলার অনুকূলে অনূ্যন একটি আসন বণ্টন করবে।

প্রস্তাবিত আইনটি প্রক্রিয়া শেষে পাস হলে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নতুন পদ্ধতিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ হবে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জেলাভিত্তিক আসন সংখ্যা ঠিক রাখতে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণে তারা জেলার আসনওয়ারি গড় জনসংখ্যা আমলে নিয়েছেন। ২০১১ সালে সর্বশেষ পঞ্চম আদমশুমারি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বিদ্যমান অধ্যাদেশ অনুযায়ী জনসংখ্যার যথাসম্ভব সমতা রেখে দশম সংসদ নির্বাচনে আদমশুমারি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আসন বিন্যাস করা হয়। পরবর্তী আদমশুমারির প্রতিবেদন হবে ২০২১ সালে।

২০০১ সালের নির্বাচনের সময় ১৯৯৫ সালের সীমানার গেজেট বহাল রাখা হয়েছিল। তবে ১৯৮৪, ১৯৯১ ও ২০০৮ সালে ১৩৩ সংসদীয় আসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে