logo
রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

প্রতিবন্ধীরাও আসছেন বিমার আওতায়

দেশে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন শুধু স্বাস্থ্য নয়, শিক্ষা কর্মক্ষেত্রেও থাকবে ঝুঁকিবিমা পার্শ্ববর্তী দেশেও প্রতিবন্ধীদের জন্য আছে বিশেষ বিমা

প্রতিবন্ধীরাও আসছেন বিমার আওতায়
কয়েকজন প্রতিবন্ধী -ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যবিমা, প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী বিমা এমনকি কৃষকদেরও বিমার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যদিও এগুলো এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তবে এবার স্বাস্থ্য ও জীবনঝুঁকির ক্ষতি মোকাবিলায় অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীদের (এনডিডি) বিমার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীদের শুধুমাত্র স্বাস্থ্যের জন্য বিমা নয়; তাদের শিক্ষা, জীবন ও কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি প্রভৃতি বিমার আওতাভুক্ত করা হবে। কারণ অনেক প্রতিবন্ধী যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সঠিক গাইডলাইনের ফলে একটা সময় স্বাভাবিক জীবনযাপন করে থাকেন- এমনটি জানিয়েছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী (এনডিডি) ব্যক্তিদের বিমার আওতায় আনতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি একটি সভা করেছে। কর্তৃপক্ষের সদস্য গকুল চাঁদ দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার কার্যপত্র অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

কার্যপত্রে বলা হয়েছে, সভায় বিস্তারিত আলোচনায় উঠে এসেছে যে, অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের ঝুঁকি নিরাপত্তায় নতুন বিমার পরিকল্পনা করা যেতে পারে। সাধারণত বিমা প্রকল্পগুলো লাইফ ও নন-লাইফের ক্ষেত্রে পৃথক হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিমা প্রকল্পটি লাইফ ও নন-লাইফ এর জন্য পৃথক হতে পারে অথবা লাইফ ও নন-লাইফ কম্পোজিট হতে পারে।

সারাদেশে প্রতিবন্ধীদের অনলাইনে তালিকাভুক্তি চলছে। যা বিমা প্রকল্প প্রস্তুতের জন্য সহায়ক হবে।

আলোচনায় আরও উঠে আসে, এ বিমা প্রকল্প প্রস্তুতের জন্য প্রতিবন্ধীদের জন্য ঝুঁকিটা কোথায়, কার জন্য বিমা হবে, বিমার বেনিফিট বা সুবিধা কে গ্রহণ করবে, বিমা প্রকল্পটি কতদিনের জন্য হবে, বিমা কোম্পানির ঝুঁকি কোথায়; অটিস্টিক শিশুর জন্মহার, তাদের জন্যও ঝুঁকি গ্রহণ করা, যারা এ ধরনের প্রতিবন্ধী তাদের কতদিন চিকিৎসা নিতে হয়, যারা বর্তমানে চিকিৎসার আওতায় আছেন তাদের আরও কতদিন চিকিৎসা নিতে হবে- এসব বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এছাড়া এ খাতে সরকারের ভর্তুকি বা সহযোগিতা থাকলে ভালো হয় বলেও সভায় আলোচনা হয়।

আলোচনায় উঠে আসে যে, পার্শ্ববর্তী দেশে এ ধরনের বীমা পলিসি আছে যেখানে দারিদ্র্য সীমার ওপরে ২৫০ টাকা প্রিমিয়াম দিয়ে এক লাখ টাকার বীমা কাভারেজ আছে। আবার দারিদ্র্য সীমার নিচে যারা তাদের ১৫০ টাকা প্রিমিয়াম দিয়ে এক লাখ টাকার বিমা কাভারেজ প্রচলিত রয়েছে। উন্নত দেশে লাইফ ও নন-লাইফ কম্পোজিট করে অনেক বিমা প্রোডাক্ট রয়েছে। এ ধরনের বিমা প্রোডাক্ট অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীদের জন্য বাংলাদেশে প্রচলন করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য গকুল চাঁদ দাস বলেন, 'সরকার দেশের অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার সুরক্ষায় নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করেছে। এ আইনের আওতায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট স্থাপিত হয়েছে। এর আওতায় ট্রাস্ট অটিজম, ডাউন সিনড্রম, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও সেরিব্রাল প্যালসি- এ চার ধরনের নিউরো-ভেডেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।'

তিনি আরও বলেন, 'এরই ধারাবাহিকতায় দেশের সকল অটিজম ও এনডিডি ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য ও জীবনঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে ট্রাস্ট কর্তৃক সকলকে পর্যায়ক্রমে বিমার আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এ বিষয়ে একটি সভা করা হয়েছে। আগামীতে আরও বৈঠক করে আরও বিচার-বিশ্লেষণ

করে এ ধরনের বিমা পলিসির রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।'

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে শনাক্ত প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন, যা মোট সংখ্যার এক শতাংশ। দেশে অটিজমে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৬৭৫, শারীরিক প্রতিবন্ধী ছয় লাখ ৯১ হাজার ৪৮৩, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধী ৫২ হাজার ৮৪৬, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই লাখ ১৪ হাজার ৯৫৪ এবং বাকপ্রতিবন্ধী আছেন এক লাখ ১৪ হাজার ৪৮৯ জন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে