logo
রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

উন্নয়ন মেলা উদ্বোধন

ক্ষুদ্রঋণে দারিদ্র্য লালন করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা বলেন, 'আমাদের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প এবং প্রতিটি পদক্ষেপের একটাই লক্ষ্য- টেকসই উন্নয়ন আমরা করব, এসডিজি বাস্তবায়ন করব।'

ক্ষুদ্রঋণে দারিদ্র্য লালন করা হয়: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে উন্নয়ন মেলা উদ্বোধন শেষে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল -ফোকাস বাংলা
ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন হয় না, বরং দারিদ্র্য 'লালন-পালন' করা হয়।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পলস্নী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধানের এ মন্তব্য আসে।

তিনি বলেন, "একটা সময় ছিল, কেউ কেউ আমরা দেখেছি ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে খুব বাহ্বা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এক সময় আমরাও এটাকে সমর্থন দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম এর ফলে বোধ হয় মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠতে পারবে।

"কিন্তু যখন আমরা বিষয়টা আরও গভীরভাবে দেখলাম, তাতে দেখলাম, আসলে এর মাধ্যমে ঠিক দারিদ্র্য বিমোচন হয় না, দারিদ্র্য লালন-পালন হয়।"

ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের চেষ্টাকে 'শান্তি স্থাপন' বিবেচনা করে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংক এবং এর প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইউনূসকে।

সেদিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের দেশে কেউ কেউ ক্ষুদ্রঋণের প্রবক্তা সেজে অনেক ভালো নামটাও করে ফেলেছেন। কিন্তু দেখা যায় যে হয়তো নিজে নাম কামিয়েছেন, কিন্তু দেশের মানুষ ততটা তার সুফল পেতে পারেনি। এটা হলো বাস্তব।"

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরপরই তখনকার বিআরডিবির মাধ্যমে এ ঋণ দেওয়া শুরু করেছিলেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, "মানুষকে কীভাবে সমবায়ের মাধ্যমে একত্রিত করে উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়, উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে কীভাবে তাদের দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে আনা যায়, সেই পরিকল্পনাটাই জাতির পিতা নিয়েছিলেন।"

আর দারিদ্র্য বিমোচনে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা সব সময় একটা প্রচেষ্টা নিয়েছি। দারিদ্র্য বিমোচন করতে হলে কী কী কাজ করা যায়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা আমাদের কর্মপরিকল্পনা নিই।

"আমাদের মূল শত্রু হচ্ছে দারিদ্র্য। কাজেই দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আমাদের লড়তে হবে। দারিদ্র্যের হাত থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে হবে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের কর্মপরিকল্পনা।"

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্তি দিয়ে 'উন্নত সমৃদ্ধ' দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প এবং প্রতিটি পদক্ষেপের একটাই লক্ষ্য- টেকসই উন্নয়ন আমরা করব, এসডিজি বাস্তবায়ন করব।"

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে অন্ধকারের পথে যাত্রা শুরু হয়েছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী 'হত্যা, কু্য ও ষড়যন্ত্রের' ক্ষমতা পরিবর্তনের ঘটনাগুলোও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

"আমরা দেখেছি একটা সময় যখন মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতায় থাকে- আসলে সরকার থাকে দুর্বল। তাদের কোনো ভিত্তি থাকে না। জনগণের কোনো শক্তি থাকে না। এমন একটা অবস্থায় পরের কাছে হাত পেতে চলা, আর নিজেরাই অর্থশালী, সম্পদশালী হওয়া দেশের মানুষ থাকে ক্ষুধা-দারিদ্র্য যন্ত্রণায়।"

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার কৃষকদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি শিল্পায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, "কৃষকদের যত রকমের সহযোগিতা আমরা করি, পাশাপাশি শিল্পায়নের দিকেও আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিই। এই শিল্পায়নটা যেন সারা বাংলাদেশে হয়, আবার কৃষি জমি যেন আমাদের রক্ষা পায়- সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ১০০টা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি।"

তিন দিনের সফরে আমিরাতে

যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

তিন দিনের সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমিরাত সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে দেশটির প্রযুক্তি যুগের স্মরণকালের সেরা আয়োজন দুবাই এয়ার শো-২০১৯ তে অংশ নিতেই তার এ সফর।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর নিয়েই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শনিবার (১৬ নভেম্বর) দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯ নভেম্বর তার ফেরার কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র চালু করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি চালু করবেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের জন্য জমি বরাদ্দসহ এ সফরে আমিরাত সরকারের সঙ্গে তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে