logo
মঙ্গলবার ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৫

  রাজশাহী অফিস   ১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০  

রাজশাহী সদর আসন

মিনুকে বেকায়দায় ফেলতে রিজভীকে নিয়ে অপপ্রচার

মিনুকে বেকায়দায় ফেলতে রিজভীকে নিয়ে অপপ্রচার
রুহুল কবির রিজভী মিজানুর রহমান মিনু মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল
নিবার্চন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী অক্টোবরে তফসিল ও ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদের ভোট হবে। এরই মধ্যে দলগুলোও নিবার্চনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিভিন্নভাবে জরিপ চালিয়ে প্রাথীর্ চূড়ান্তের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে দলগুলো। ফলে তৎপর রয়েছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও। এর অংশ হিসেবে রাজশাহী সদর আসনেও বইছে ভোটের হাওয়া।

সিটি করপোরেশন নিয়ে গঠিত রাজশাহী-২ (সদর) আসন। এই আসনে বিএনপির মনোনয়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু। তার সঙ্গে মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সদ্য সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী কাউকে এই আসনে সামনে আনার চেষ্টাও চলছে। তাই এই আসনে মনোনয়ন আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম উঠে এসেছে। মিনু-বিরোধীরা এ আসনে প্রাথীর্ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি রুহুল কবির রিজভীর পক্ষে কাজ করছেন। তারা আপাতত প্রকাশ্যে রিজভীর কথা বললেও বিকল্প প্রাথীর্ হিসেবে বুলবুলকে নিয়ে ভাবছেন। সিটি করপোরেশন নিবার্চনে মিনুর ভ‚মিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠায় একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে মিনুর বিকল্প হিসেবে রিজভী অথবা বুলবুলকে চাচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী যায়যায়দিনকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া বিএনপি নিবার্চনের বিষয়ে ভাবছে না। আর রাজশাহী সদর আসন থেকে তার নিবার্চনে অংশগ্রহণের কোনো প্রশ্নই আসে না।

মিনু ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নিবাির্চত হন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পযর্ন্ত টানা সংসদ সদস্য ছিলেন তার রাজনৈতিক গুরু কবীর হোসেন। এছাড়া কবীর হোসেন ২০০১ সালে রাজশাহী-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নিবাির্চত হন। কবীর হোসেন ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পযর্ন্ত প্রথমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং পরে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি এবার রাজশাহী-২ আসনে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন।

রাজশাহী-২ আসনের সঙ্গে আগে পবা উপজেলা যুক্ত ছিল। ২০০৮ সালে সীমানা পুননির্ধার্রণ করা হয়। এ সময় শুধু সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়াডর্ নিয়ে এ আসন গঠিত হয়। এ আসন থেকে ২০০১ সালে এমপি নিবাির্চত হন মিনু। এছাড়া একটানা ১৭ বছর ছিলেন রাজশাহীর মেয়র। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মিনু এখন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।

রাজশাহী অঞ্চলে বিএনপিকে দীঘর্ সময় ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিনু। মূলত ৮০ ও ৯০-এর দশকে মিনু দক্ষ সংগঠক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। মিনুর নেতৃত্বেই এ অঞ্চলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল পযাের্য় শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তিনি মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দুই যুগ দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এবার মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর ফলে বুলবুলের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন মিনুর অনুসারীরা। মিনুর সমথর্ক নেতাকমীর্রা গঠন করেন ‘বিএনপি বঁাচাও কমিটি’।

মিনুর সমথর্করা বলছেন, মিনুই পুরো উত্তরাঞ্চলে বিএনপির প্রাণ। তিনি ত্যাগী। কমীর্-বান্ধব। রাজনৈতিকভাবে বিচক্ষণ ও দূরদশীর্। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নিবার্চনে সারাদেশে তৃতীয় সবোর্চ্চ ভোট পেয়ে এমপি নিবাির্চত হন তিনি। মিনুর ডাকে যেকোনো সময় হাজার হাজার নেতাকমীর্ রাস্তায় নেমে আসেন। সংগঠনের প্রতি মিনুর আন্তরিকতা, ত্যাগ ও দায়বদ্ধতার কারণে বিএনপির হাইকমান্ড তাকে রাজশাহী সদর আসনে মনোনয়ন দেবে বলে তাদের দাবি।

এ ব্যাপারে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘বিএনপি দেশের একটি উদার গণতান্ত্রিক ও নিবার্চনমুখী দল। আগামী নিবার্চনে সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আমরা নিবার্চন চাই। আর বিএনপি এ নিবার্চনে অংশ নিলে রাজশাহী বিভাগের ১৮ থেকে ১৯টি আসনে বিজয়ী হবে।’

রাজশাহীতে বিএনপির মধ্যে কোনো দ্ব›দ্ব নেই দাবি করে মিনু বলেন, ‘আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দল পরিচালনা করছি। জাতীয় সংসদ নিবার্চনে দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।’

খেঁাজ নিয়ে জানা গেছে, মিনু-বিরোধীরা রাজশাহীতে রিজভীর নিবার্চনের প্রস্তুতির গুঞ্জন এখন দৃশ্যমান করার চেষ্টা করছেন নগরীর বিভিন্ন স্থানে তার পোস্টার সঁাটানোর মাধ্যমে। ঈদসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূণর্ পয়েন্ট এবং মোড়ে রিজভীর পোস্টারে নগরবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হচ্ছে।

মিনু-বিরোধী নেতাকমীর্রা বলছেন, রিজভী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হয়েছেন। রাকসুর ভিপিও ছিলেন তিনি। বতর্মানেও রাজশাহীর বিএনপির রাজনীতিতে তার ভ‚মিকা বিদ্যমান। এসব বিবেচনায় তার পছন্দমতো রাজশাহী-২ আসনে প্রাথীর্ হতে পারেন বিএনপির ক্রান্তিকালের সোচ্চারকণ্ঠ রিজভী।

তাদের দাবি, রাজশাহী সিটি করপোরেশন নিবার্চনে মিজানুর রহমান মিনুর ভ‚মিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে কেন্দ্রে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। সম্প্রতি তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে হাইকমান্ডের বৈঠকে মিনুর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ উঠে এবং তার বিরুদ্ধে সংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। সে ক্ষেত্রে মিনুর বিকল্প প্রাথীর্ হিসেবে রিজভী অথবা বুলবুলকে নিয়ে ভাবতে দলের হাইকমান্ডকে তারা দাবি জানাবে।

তবে মিনু সমথর্করা বলছেন, রিজভী এই আসনে নিবার্চন করতে চান না। মিনু-বিরোধীরা রিজভীকে সামনে এনে মূলত বুলবুলের জন্য স্থান ফঁাকা করা চেষ্টা করছেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে