logo
সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

কেউ মানছে না পুশ বাটন সিগন্যাল

কেউ মানছে না পুশ বাটন সিগন্যাল
সড়কের পাশে বসানো পুশ বাটন টাইম কাউন্টডাউন সিগন্যাল -যাযাদি

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গ্রিন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে নিরাপদে রাস্তা পারাপারে নতুন ধরনের সিগন্যাল বসেছে, যার নাম 'পুশ বাটন টাইম কাউন্টডাউন সিগন্যাল'। সেখানে থাকা বাটন চেপে নিরাপদে রাস্তা পার হতে পারবেন পথচারীরা। পথচারীদের পারাপারের জন্য প্রাথমিকভাবে সবুজ সংকেত হিসেবে ২৫ সেকেন্ড সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে পথচারীদের রাস্তা পার হতে হবে। ২৫ সেকেন্ড পর গাড়ি চলাচল শুরু হবে। গাড়ি চলাচলের জন্য সময় থাকবে ১২৭ সেকেন্ড। ওই সময়ে বাটনে চাপ দিলেও পথচারী পারাপারের জন্য সবুজ সংকেত প্রদান করা হবে না। ১২৭ সেকেন্ড পরই সবুজ সংকেত চালু হবে। পথচারী পারাপারের জন্য সবুজ সংকেত চালু হলে গাড়ি থামানোর জন্য লাল সংকেত দেখানো হবে। তখনই পথচারীরা রাস্তা পার হবেন। পথচারীদের পারাপার নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গ্রিন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে এমনই পুশ বাটন টাইম কাউন্টডাউন সিগন্যালসহ জেব্রাক্রসিং বসিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। কিন্তু সচেতনতা ও প্রচারণার অভাবে এটি কেউ মানছে না। মঙ্গলবার নতুন পদ্ধতির এই সিগন্যালের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, পথচারীরা অনেকেই এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন না। আর যারা জানেন তারাও এই সিগন্যাল মানছেন না। যদিও সেখানে শিফট অনুযায়ী চারজন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের কাজই হলো পথচারীদের সিগন্যাল সম্পর্কে জানিয়ে পদ্ধতি অনুযায়ী তাদের পারাপারে সহযোগিতা করা। কিন্তু তারপরও সিগন্যাল মানতে দেখা যাচ্ছে না পথচারীদের। মোহম্মাদ ওয়াজেদুলস্নাহ একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। স্কুল শেষে নাতিকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। পুশ বাটন সিগন্যাল পার হওয়ার পর ওয়াজেদুলস্নাহ বলেন, নতুন সিগন্যাল বিষয়ে এখনো অনেকে জানে না। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করার মাধ্যমে জনগণকে সঠিক নিয়ম মেনে রাস্তা পারাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আর তা না হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে। সাইদুর রহমান নামের এক পথচারী নিজেও সিগন্যাল না মেনেই রাস্তা পার হলেন। তিনি বলেন, 'আসলে এটা আমাদের অজ্ঞতা, যেটা আমরা জানি না। তারপরও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আরও জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত ছিল সংশ্লিষ্টদের। এখানে যদি ১০০ মানুষ সড়ক পার হয়, তাহলে দেখা যাবে এর মধ্যে ৭০ জনই এই সিগন্যাল সম্পর্কে জানে না। আর বাকি যে ৩০ জন জানে তাদের মধ্যে বেশির ভাগই সিগন্যাল পদ্ধতি না জেনে যত্রতত্র পার হচ্ছে। এটার যদি প্রচারণা চালানো হতো তাহলে মানুষ ভালোভাবে জানত। এছাড়া রেলগেটের মতো যদি কিছু দিয়ে এখানে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হতো, তাহলেও অনেকে বাধ্য হয়ে সিগন্যাল মানত।' সিগন্যাল অনুযায়ী যখন পথচারীদের পারাপার হওয়ার সময়, ঠিক তখনই আসাদ গেটের দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার সেই সিগন্যালটি অতিক্রম করে গেল। একটু এগিয়েই সেই চালকের কাছে জানতে চাওয়া হলো, 'আপনি এই নতুন পুশ বাটন সিগন্যাল মানলেন না কেন?' উত্তরে চালক এরশাদ আলী বলেন, 'আসলে এখানে এমন সিগন্যাল আছে এটাই আমি জনতাম না। আমরা অনেক চালকই এটার ব্যবহার জানি না। জানলে অবশ্যই সিগন্যাল মানতাম। সবার আগে এটার প্রচারণা দরকার।' নতুন এই সিগন্যালে দুই শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন চারজন নিরাপত্তাকর্মী। তারা পথচারীদের পারাপারে সহযোগিতা করছেন। তাদের একজন মাহাবুবুল হক বলেন, 'নতুন এই সিগন্যাল পথচারী, গাড়িচালক কেউই মানছে না। তাদের ধৈর্য কম। আমরা মানানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু আমাদের কথা মানুষ তেমন একটা শুনছে না। মানুষ যদি সচেতন না হয় তবে এটা মানানো কঠিন। এজন্য আগে সবাইকে বিষয়টি জানাতে হবে এবং তাদের সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি পথচারীরা যেন এই সিগন্যাল মানে সেজন্য প্রথম দিকে তাদের বাধ্য করাতে হবে।' জানা গেছে, পথচারীদের পারাপার নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর ২০টি স্থানে পুশ বাটন টাইম কাউন্টডাউন সিগন্যালসহ জেব্রাক্রসিং বসাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এসব পুশ বাটন টাইম কাউন্টডাউন সিগন্যাল ক্রসিং দিয়ে যেন শারীরিক প্রতিবন্ধীসহ সব বয়সের মানুষ সহজে রাস্তা পারাপার হতে পারে, সেজন্য ফুটপাত-রাস্তার সঙ্গে সমান করে মেলানো হবে। এছাড়া এসব স্থানে গাড়ির গতি কমানোর জন্য রেইজড জেব্রাক্রসিং তৈরি করা হবে। গত ২৪ অক্টোবর মোহাম্মদপুরের গ্রিন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে এই পুশ বাটন টাইম কাউন্টডাউন সিগন্যালসহ জেব্রাক্রসিং উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। উদ্বোধনকালে তিনি বলেছিলেন, নতুন এসব সিগন্যাল লাইটের সঙ্গে ক্যামেরার ব্যবস্থা আছে। যেসব গাড়ির চালক ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করবেন তাদের গাড়ির নম্বর ক্যামেরা দিয়ে খুঁজে বের করা হবে। তাদের চিহ্নিত করে মামলা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে পুলিশকে সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের সুনাগরিক হতে হবে, সিগন্যাল মানতে সবাইকে সচেতন হতে হবে, তাহলেই ঢাকা শহর স্মার্ট সিটিতে রূপান্তর হবে। ইতোমধ্যে এমন পুশ বাটন টাইম কাউন্টডাউন সিগন্যাল পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গ্রিন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে চালু করার পরে একইভাবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অনুরূপ একটি পুশ বাটন টাইম কাউন্টডাউন সংকেতসহ জেব্রাক্রসিং স্থাপনের কাজ চলছে। এ দুটি সিগন্যালসহ জেব্রাক্রসিং নির্মাণে প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৪৮টি স্থানে পুশ বাটন টাইম কাউন্টডাউন সিগন্যালসহ জেব্রাক্রসিংয়ের চাহিদা প্রেরণ করেছে। এর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২০টি পুশ বাটন কাউন্টডাউন সিগন্যালসহ জেব্রাক্রসিং স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপার নিশ্চিতে ডিএনসিসির সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এ সিগন্যালগুলো বসানো হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে