logo
রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০  

রংপুরে পুলিশ হেফাজতে মৃতু্য নিয়ে সংঘর্ষ: ২০ জন আহত

রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগঞ্জে পুলিশ হেফাজতে সামসুল হক (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার দুপুরে স্থানীয় জনগণ ভেন্ডাবাড়ি পুলিশ তদন্তকেন্দ্র ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। এর মধ্যে পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার ভেন্ডাবাড়ি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের হাজতে সামসুল হকের মৃতু্য হয়। পুলিশের দাবি, সামসুল হাজতে আত্মহনন বেছে নিয়েছেন। সামসুল জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, হত্যার প্রতিবাদে বুধবার স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেশ চন্দ্র জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পীরগঞ্জের বড়দরগাহ এলাকা থেকে ১৫ লিটার চোলাই মদসহ সামসুল হককে আটক করে ভেন্ডাবাড়ি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের একদল পুলিশ। পরে তাকে তদন্তকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে সেখানেই ছিলেন সামুসল। বুধবার সকালে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ। গায়ের জামা জানালার সঙ্গে পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত সামসুলের স্ত্রী মোমেনা বেগম জানান, তার স্বামী গরু ও ছাগলের ব্যবসা করেন। তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। পুলিশ অন্যায়ভাবে তাকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

মিঠাপুকুর উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, সামসুল মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত, তা কোনোদিন দেখেননি এবং শোনেননি। তিনি গরু ও ছাগল কেনাবেচা করতেন। তাকে পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী বলে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মারুফ হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে তিনি (সামসুল) আত্মহত্যা করেছেন বলে জানতে পেরেছেন। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

৫ পুলিশ প্রত্যাহার

এদিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ভেন্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পাঁচ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে তাদের প্রত্যাহার করে রংপুর পুলিশ লাইন্সে যুক্ত করা হয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন ভেন্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (ইনচার্জ) আমিনুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহ আলম, এএসআই হরিকান্ত বর্মণ, এএসআই তাজউদ্দিন এবং কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম।

প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণে ওই সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে