logo
বুধবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯, ১০ মাঘ ১৪২৫

  যাযাদি রিপোটর্   ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

নজরদারিতে আসছে ৩ কোটি অবৈধ হ্যান্ডসেট

নজরদারিতে আসছে ৩ কোটি অবৈধ হ্যান্ডসেট
অবৈধ আমদানি, চুরি, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নকল হ্যান্ডসেট প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত ও রাজস্ব ক্ষতি ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে বিটিআরসি। সম্প্রতি প্রকাশিত মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টারের (ইআইআর) খসড়া নিদের্শনায় এর উল্লেখ রয়েছে
মানুষের হাতে থাকা অবৈধ বা নকল মোবাইল হ্যান্ডসেট চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

এই প্রক্রিয়া শুরু হলে অবৈধ হ্যান্ডসেটে প্রাথমিকভাবে নিদির্ষ্ট একটি সিম ছাড়া অন্য কোনো সিম কাজ করবে না। নিদির্ষ্ট সময় পরে কোনো সিমই কাজ করবে না। ফলে গ্রাহকরা বাধ্য হয়েই নকল বা অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহার বন্ধ করবে।

সরকারি কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও ব্যবসায়ীদের হিসাবে, দেশে বতর্মানে প্রায় তিন কোটি অবৈধ হ্যান্ডসেট মানুষের হাতে রয়েছে।

অবৈধ আমদানি, চুরি, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নকল হ্যান্ডসেট প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত ও রাজস্ব ক্ষতি ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে বিটিআরসি।

সম্প্রতি প্রকাশিত মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টারের (ইআইআর) খসড়া নিদের্শনায় এর উল্লেখ রয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় কোন কোন গ্রাহকের হাতে অবৈধ হ্যান্ডসেট রয়েছে, তার একটি ডেটাবেইস তৈরি করা হবে।

খসড়া নিদের্শনায় বলা হয়, অপারেটররা তাদের লাইসেন্স নীতিমালা অনুযায়ী সব মোবাইল হ্যান্ডসেটের ইএমআই নম্বর দিয়ে এই ডাটাবেইজ তৈরি করবে। এ ডাটাবেইজে তিনটি ক্যাটাগরি থাকবে বø্যাক, হোয়াইট ও গ্রে।

ইএমইআই নম্বর হলো ১৫ ডিজিটের একটি স্বতন্ত্র সংখ্যা, যা বৈধ মোবাইল ফোনে থাকে। একটি মোবাইল ফোনের কি-প্যাডে *#০৬#

পরপর চাপলে ওই মোবাইল ফোনের বিশেষ এই শনাক্তকরণ নম্বরটি পদার্য় ভেসে ওঠে।

অপারেটরদের ইআইআর তৈরির পর তা জাতীয় ইআইআর (এনইআইআর) এ সংযুক্ত হবে। এর ফলে সব অপারেটরদের ইআইআর খুব সহজেই নজরদারি করতে পারবে বিটিআরসি।

ইআইআর ও এনইআইআর বাস্তব সময় সিঙ্ক্রোনাইজেশন হবে অথার্ৎ ইআইআরকে ডেটা সংযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা এনইআইআর এ চলে আসবে।

খসড়া নিদের্শনায় ‘হোয়াইট’ বলতে বোঝানো হয়েছে সব ধরনের বৈধভাবে আমদানি করা হ্যান্ডসেট, বৈধভাবে দেশে তৈরি এবং বিটিআরসিতে নিবন্ধিত হ্যান্ডসেট।

‘গ্রে’ বলতে বোঝানো হয়েছে সন্দেহভাজন মোবাইল হ্যান্ডসেট। এগুলো নিদির্ষ্ট সিমে কাজ করবে, কিন্তু এসব হ্যান্ডসেটের বিষয়ে অপারেটরদের সতকর্ করে দেয়া হবে।

‘বø্যাক’ বলতে বোঝানো হয়েছে চুরি যাওয়া হ্যান্ডসেটের আইএমইআই, আইএমইআই মেয়াদ উত্তীণর্, নকল আইএমইআই এবং কিস্তিতে মোবাইল কিনে যারা খেলাপি হয়েছেন, তাদের হ্যান্ডসেট।

এ ছাড়া নিদের্শনায় লিস্ট ম্যানেজমেন্টে বলা হয়েছে, কিছু কিছু নম্বর ভিআইপি লিস্ট হিসেবেও থাকবে, যারা সরকারের বিশেষ নিদের্শনায় এই ফিল্টারিং প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে যেতে পারবে।

খসড়াতে বলা হয়, ক্লোন, অনুমোদনহীন নকল, অবৈধভাবে আমদানি করা কিন্তু বতর্মানে নেটওয়াকের্ সচল রয়েছে, এমন হ্যান্ডসেটগুলো যে অপারেটরের সিমে রয়েছে সে অনুযায়ী নিবন্ধিত হয়ে যাবে। ইআইআর তাদের হ্যান্ডসেটগুলো নিদির্ষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধিত করার সুযোগ দেবে।

এসব হ্যান্ডসেট ‘গ্রে’ তালিকায় চলে যাবে। এসব হ্যান্ডসেট গ্রাহকদের একটি নিদির্ষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হবে নিবন্ধনের জন্য। কত দিনের মধ্যে এই হ্যান্ডসেট নিবন্ধিত করা যাবে, তা ঠিক করে দেবে বিটিআরসি।

বিটিআরসির ঊধ্বর্তন এক কমর্কতার্ বলেন, ‘গ্রাহকের হাতে যেসব নকল বা অবৈধ হ্যান্ডসেট রয়েছে, এই সিস্টেম শুরু করার ৬ মাস পযর্ন্ত নিদির্ষ্ট সিমে তা চালু রাখার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। অথার্ৎ যে সিমে মোবাইল চালু থাকবে সেই সিমের মাধ্যমেই তা নিবন্ধিত ধরে নেয়া হবে। ছয় মাস পর কোনো নকল, অবৈধভাবে আমদানি করা বা ক্লোন হ্যান্ডসেটে সিম কাজ করবে না।’

এক মোবাইল ফোন অপারেটরের কমর্কতার্ জানান, তারা এই সময়সীমা এক বছর করার আবেদন জানিয়েছেন।

তবে করপোরেট সিমের ক্ষেত্রে এসব নিয়মের ভিন্নতা রেখেছে বিটিআরসি।

এই নিদের্শনা জারির দুই মাসের মধ্যে ইআইআর সিস্টেম বাস্তবায়ন করতে হবে অপারেটরদের।

কেউ যদি বিদেশ থেকে কোনো হ্যান্ডসেট উপহার পায় তাহলে সেই হ্যান্ডসেট নিবন্ধন করতে পারবে অপারেটরদের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গিয়ে ক্রয় রশিদ বা অন্যান্য মূল দলিল দেখিয়ে।

কেউ যদি হ্যান্ডসেট বিক্রি করতে চায় তাহলে অপারেটরদের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গিয়ে তাদের এনআইডি থেকে আইএমইআই অনিবন্ধিত করতে পারবে। ওই হ্যান্ডসেট যে কিনবে সে তার নামে হ্যান্ডসেটটি নিবন্ধিত করতে পারবে।

সিম ছাড়াও গ্রাহক তার প্রয়োজনীয় ক্রয় রশিদ বা প্রয়োজনীয় কাগজ দেখিয়ে হ্যান্ডসেট নিবন্ধন করতে পারবে।

ইআইআর মডিউলের মাধ্যমে অপারেটররা চুরি যাওয়া মোবাইল, প্রতারণাপূণর্ ও ক্লোন হ্যান্ডসেট নেটওয়াকর্ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। কারও হ্যান্ডসেট চুরি হলে তা সংশ্লিষ্ট অপারেটর গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে অভিযোগ করা মাত্র সেই হ্যান্ডসেটে আর কোনো সিম কাজ করবে না।

গ্রাহককে তার হ্যান্ডসেটকে সিমের মাধ্যমে সিস্টেমে নিবন্ধিত করতে হবে। নিবন্ধিত ছাড়া মোবাইল হ্যান্ডসেট কাজ করবে না। এর ফলে হ্যান্ডসেট বাজারের অবৈধ কারসাজি বন্ধ হবে বলে মনে করছে বিটিআরসি।

আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদশে মোবাইল ফোন ইম্পোটার্সর্ অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ) যুগ্ম সম্পাদক মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, বতর্মানে গ্রাহকের হাতে প্রায় তিন কোটি হ্যান্ডসেট রয়েছে যা নকল বা অবৈধভাবে আমদানি করা।

বাংলাদেশে বৈধভাবে আমদানি বা তৈরি করা মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটের ডাটাবেইজ তৈরি এবং অবৈধ ফোনের ব্যবহার বন্ধ করতে গত মে মাসে একটি পদ্ধতির অনুমোদন দেয় বিটিআরসি।

চলতি মাসেই এ পদ্ধতি শুরু করতে যাচ্ছে বিটিআরসি। এর আওতায় বৈধভাবে আমদানি করা ও দেশে তৈরি সকল হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর ডেটাবেইসে সংযুক্ত হবে।

বিটিআরসি স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ বলেন, ‘এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সেক্টরের সম্মিলিতভাবে করা একটি চমৎকার প্রকল্প যা একই সাথে ব্যবসায়ী, সরকার ও মোবাইল ব্যবহারকারীদের সুবিধা দেবে।’

বাজারে যেসব মোবাইল হ্যান্ডসেট আছে সেগুলোর প্রতি তিনটিতে একটিই নকল বা অবৈধ বলছেন ব্যবসায়ীরা।

তাদের হিসাবে প্রতি বছর এক কোটির বেশি অবৈধ ও নকল মোবাইল হ্যান্ডসেট বাজার আসছে। এগুলোর বাজার মূল্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা, আর এর পুরোটাই যাচ্ছে গ্রাহকের পকেট থেকে।

তদারকি সংস্থাগুলোর অপযার্প্ত নজরদারি ও অভিযানের সুযোগে স্থানীয় বাজারে এদের প্রভাব ক্রমেই বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

সন্ত্রাসী কমর্কাÐে আইএমইআই নম্বরবিহীন সেট বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে