logo
  • Sun, 23 Sep, 2018

  যাযাদি রিপোটর্   ১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

হজ কাযর্ক্রম উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী

ইসলামের অবমাননা করার অধিকার কারও নেই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পবিত্র ইসলাম ধমর্ই হচ্ছে সব থেকে শান্তিপূণর্ ধমর্। ইসলাম ধমের্ই উল্লেখ আছেÑ সকল ধমের্র মানুষ তার নিজ নিজ ধমর্ পালন করবে স্বাধীনভাবে

ইসলামের অবমাননা করার অধিকার কারও নেই
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে হজ কাযর্ক্রমের উদ্বোধন করে হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন Ñফোকাস বাংলা
ইসলাম ধমের্ক উচ্চ আসনে রাখার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার চলতি বছরের হজ কাযর্ক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসলাম ধমের্র নামে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনায় আক্ষেপও প্রকাশ করেন তিনি।

রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে এ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইসলাম শান্তিতে বিশ্বাস করে। ইসলাম ধমের্ই মানুষের অধিকারের কথা, মানুষের জীবন মান উন্নয়নের কথা বারবার বলা হয়েছে।

অথচ মাঝে মাঝে অমরা যেটা দেখি; আমাদের ধমের্কই প্রশ্নবিদ্ধ করে কিছু কিছু মানুষ এই ধমের্র মান নিয়ে যখন কোনো সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে তখন সারা বিশ্বের কাছে আমাদের এই ধমর্ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। শুধু প্রশ্নবিদ্ধই নয়, আমরা মুসলমানরা বাইরে গেলে অনেক সময় অনেক সমস্যাও ভোগ করতে হয়। অথচ পবিত্র ইসলাম ধমর্ই হচ্ছে সব থেকে শান্তিপূণর্ ধমর্। ইসলাম ধমের্ই উল্লেখ আছেÑ সকল ধমের্র মানুষ তার নিজ নিজ ধমর্ পালন করবে স্বাধীনভাবে।

ধমের্র নামে বিভিন্ন সময়ে সংঘাত সৃষ্টির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারপরও কিছু মানুষের জন্য এই সংঘাত লেগে থাকা আর সমস্যা সৃষ্টি করা বা আমাদের ধমের্ক অবমাননা করা- এই অধিকার কারও নেই। এই ধমর্ সব সময় উচ্চ আসনে যাতে থাকে, সেই ব্যবস্থাটাই করতে হবে।’

প্রতিটি জেলা-উপজেলায় একটি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নিমাের্ণর প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় আট হাজার ৭২২ কোটি টাকা।

গত ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী এরকম নয়টি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৭-১৮ অথর্বছরে আরও ১০০টি মসজিদের নিমার্ণ কাজ শুরু হবে এবং অবশিষ্ট ৪৫১টি মডেল মসজিদ নিমাের্ণর কাজ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু করা হবে।

এসব মসজিদ নিমির্ত হলে ৩১ হাজার ৪০০ জন নারীসহ প্রায় সাড়ে চার লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে মডেল মসজিদের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি ইসলাম ধমর্ নিয়ে যেন কোনো বিভ্রান্তি না ছড়ানো হয়। ইসলাম ধমের্র সঠিক মানে অথর্গুলো যাতে মানুষ জানতে পারে, এটা করা। ইসলাম ধমর্ সম্পকের্ যাতে কোনো বিভ্রান্তি না হয়, সেই শিক্ষাটাই দেয়া।’

সৌদি আরবের সঙ্গে হজ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে এবার এক লাখ ২৬ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছয় হাজার ৭৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার জনের হজ করার সুযোগ আছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ আগস্ট হজ হতে পারে।

১৪ জুলাই শুরু হয়ে ১৫ আগস্ট পযর্ন্ত চলবে হজ ফ্লাইট। বাংলাদেশ বিমান ১৮৭টি ফ্লাইটে ৬৪ হাজার ৯৬৭ জন এবং সাউদিয়া ১৮৮টি ফ্লাইটে ৬১ হাজার ৮৩১ হজযাত্রী পরিবহন করবে। ২৭ আগস্ট হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর তা শেষ হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই হজযাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, প্রতি বছর অপেক্ষায় থাকি; যারা হজে যাবেন, তাদের সঙ্গে দেখা হবে আর দোয়াও চাইব। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়দের হারানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, আমার বাবা-মার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাদের বেহেশত নসিব করেন।

পিতা-মাতা, ভাই সব হারিয়েছি। জনগণের সেবার ব্রত নিয়ে কাজ করছি। আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমার সাধ্য মতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।

হজ যাত্রীদের কাছে দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দোয়া করবেন; যেন আপনাদের খেদমত করতে পারি।

২০০৯ সালে হজ উইংয়ের অফিস জেদ্দা থেকে মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনে স্থানান্তর করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বতর্মানে হজ মৌসুমে হজের কাযর্ক্রম হজ অফিস, মক্কা থেকে পরিচালিত হয়। আমাদের এ সিদ্ধান্তের ফলে গত ৯ বছরে হজ ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের সেবা প্রদান অনেক সহজ ও উন্নততর হয়েছে এবং দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছে।

হজবিষয়ক ওয়েব পোটার্ল এবং হজযাত্রীদের সেবা প্রদানকারী মোবাইল অ্যাপ প্রস্তুত এবং অনলাইন সুবিধা ব্যবহার করে হজযাত্রীদের হজের প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে হজযাত্রীরা সহজেই তাদের যাবতীয় তথ্য ও সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।

হজযাত্রীদের সুবিধাথের্ ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ৪০ লাখ টাকায় জেদ্দা হজ টামির্নালে প্লাজা ভাড়া, হজযাত্রীদের চিকিৎসা সেবাসহ নানা সেবা নিশ্চিত করতে জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় হজ প্রশাসনিক দল, চিকিৎসক দল, সহায়তাকারী দল এবং আইটি টিম থাকার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ধমর্মন্ত্রী মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পযর্টনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, ধমর্ মন্ত্রণালয় সম্পকির্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিএইচ হারুন, ওই এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্য সাহারা খাতুন, সৌদি দূতাবাসের শাজর্ দ্য অ্যাফেয়াসর্ আমির বিন ওমর বিন সালেম এবং ধমর্ মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিছুর রহমান বক্তব্য রাখেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে