logo
মঙ্গলবার ২১ মে, ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোটর্   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

ঘরে নিযাির্তত ৭২ % নারীই ঘটনা চেপে যান : গবেষণা

ঘরে নিযাির্তত ৭২ % নারীই ঘটনা চেপে যান : গবেষণা

বাংলাদেশে নারীদের প্রতি তিনজনে দুইজন নিজের ঘরে নিযার্তনের শিকার এবং অধিকাংশ ঘটনা চেপে যান বলে একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের যৌথ আয়োজনে ‘সহিংসতা ও প্রতিরোধ’ শীষর্ক সেমিনারে ওই গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। বতর্মান প্রেক্ষাপটে নারীর প্রতি সহিংসতার মাত্রা এবং এর সমাধান খুঁজতে ‘বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার উপর দৃষ্টিপাত: প্রবণতা এবং সমাধান’ নামে গবেষণাটি করে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এবং জাতীয় নারী নিযার্তন প্রতিরোধ ফোরাম-জেএনএনপিএফ। সেমিনারে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে গবেষক আহমেদ ইব্রাহিম বলেন, ‘নিজ সঙ্গী দ্বারা সহিংসতার শিকার হওয়ার হার উচ্চ হওয়া সত্তে¡ও বাংলাদেশের বেশিরভাগ নারী (৭২ দশমিক ৭ শতাংশ) তাদের অভিজ্ঞতার কথা কাউকে বলেন না। ‘মাত্র ২.১ শতাংশ নারী স্থানীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ করেন এবং মাত্র ১.১ শতাংশ নারী পুলিশের কাছে সাহায্য চান।’ বাংলাদেশে নারীরা এখনও নিজের ঘরে নিযার্তন, অত্যাচার ও সহিংসতার শিকার হলেও গণমাধ্যমে পারিবারিক সহিংসতার বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায় বলে মনে করেন এই গবেষক। তিনি বলেন, ‘শুধু ১০.৭ শতাংশ মামলা থাকে পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৭৫ শতাংশ প্রতিবেদনই ধষর্ণ বা গণধষর্ণ সম্পকির্ত। ফলে নারীরা ঘরেই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ এমন ধারণাকেই প্রচার করা হয়।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার বেজলাইন জরিপ ২০১৫’র তথ্য এবং দেশের ২০ জেলায় সহিংসতার চিত্র অনুযায়ী নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ব্যাপক রূপ হচ্ছে ‘পারিবারিক সহিংসতা’। এ প্রসঙ্গে আহমেদ ইব্রাহিম বলেন, ‘নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার মামলার প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে দুইজন অথার্ৎ ৬৬ শতাংশ নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হন। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা সম্পকির্ত মামলাগুলোর প্রতি পঁাচটির মধ্যে চারটি মামলাই আদালতে উত্থাপিত হতে দুই বছর পযর্ন্ত লেগে যায়। তারপর শুরু হয় বিচারিক প্রক্রিয়া। ‘সহিংসতায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৩.১ শতাংশ নিজেদের পক্ষে বিচার পায়, বাকি ৯৬.৯ শতাংশ ভুক্তভোগীর অভিযোগ আদালতে শুনানির পযাের্য় যায় না বা গেলেও বাতিল হয়ে যায়।’ ‘নগরাঞ্চলে সহিংসতা : ভালো কি মন্দ?’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তজাির্তক সম্পকর্ বিভাগের অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘জানুয়ারি ২০১৭ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৮ এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ঢাকায়, যার সংখ্যা ২৮৩৯। ‘ঢাকায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১৭৬টি, কিন্তু অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনার কথা বলা হয় না।’ সহিংসতার এই হার কমিয়ে আনার জন্য নতুন পদ্ধতির কথা ভাবতে হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক ইমতিয়াজ। ‘দৃষ্টিভঙ্গি পরিবতের্নর পাশাপাশি সচেতনতা সৃষ্টির পদ্ধতিকে প্রয়োজনে নতুনভাবে সাজাতে হবে।’ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। তিনি বলেন, ‘সহিংসতা কোনো আন্তজাির্তকভাবে উদযাপনের বিষয় নয়। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ একটি অস্তিত্বের যুদ্ধ। এখনই সময় সমাজের সকল স্তরের মানুষ মিলে সহিংসতার বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করার এবং প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করার।’ নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে ‘আরবান রেজিলিয়েন্স’ বিষয়ক প্রবন্ধে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের দুযোর্গ ঝুঁকি হ্রাস বিভাগের ব্যবস্থাপক এ এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সহিংসতা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দেশের বিদ্যমান আইনের সঠিক বাস্তবায়নের অভাব সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। অপরদিকে শহরের অবকাঠামোগত পরিকল্পনায় নেই নারীবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি, আইনি কাঠামোতে নেই হয়রানির কোনো সুনিদির্ষ্ট সংজ্ঞা।’ তিনি বলেন, ‘বতর্মান সময়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে যতটা মনোযোগ দেওয়া হয় সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়ে সেভাবে মনোযোগ দেওয়া হয় না। শহরাঞ্চলে প্রত্যেক নাগরিকের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও মযার্দা নিশ্চিতে প্রয়োজন গণসেবার সহজলভ্যতা ও অভিগম্যতা।’ সেমিনারে অন্যদের মধ্যে জেন্ডার বিশেষজ্ঞ এবং সাংগাতের প্রতিনিধি ফৌজিয়া খন্দকার ইভা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন এবং কালারস এফএমের প্রধান (অপারেশন) তাসনুভা আহমেদ আলোচনা করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে