logo
মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  সবুজ শর্মা শাকিল, সীতাকুন্ড   ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

সীতাকুন্ডে ১৫ হাজার পরিবারে নেই স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড পৌরসভাসহ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় ঘোষণা করা হয় ২০০৪ সালে। তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার ঘটা করে এই ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু ১৫ বছর পর বাস্তবতা হলো সীতাকুন্ডের এখনো ১৫ হাজারের বেশি পরিবারে কোনো পায়খানা নেই। এসব পরিবারের সদস্যরা এখনো খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করছেন। সম্প্রতি সরেজমিন শতভাগ স্যানিটেশন ঘোষিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

উপজেলার সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা বলেন, তখন তড়িঘড়ি করে শতভাগ স্যানিটেশন অর্জনের ওই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় আসার ঘোষণা দেয়ায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পুরস্কার হিসেবে পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নকে উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সময় অর্থ বরাদ্দ দেয়। এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যবহার না করায় শতভাগ স্যানিটেশন কার্যক্রম বাস্তবে রূপ পায়নি।

সরেজমিন দেখা যায়, পৌরসভায় প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের কোনো পায়খানা নেই। এলাকার লোকজন জানান, আমিরাবাদ, ইদিলপুর, শিবপুর, মৌলভীপাড়া, নুনাছরা, শেখনগর ও উত্তর বাড়ীপাড়া এলাকায় শতভাগ ঘোষণা হওয়ার পরের দুই মাস স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করলেও বর্তমানে আবার আগের অবস্থা বিরাজ করছে। কুমিরা জেলেপাড়ার পাশে খালের পাড়ে রয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক খোলা পায়খানা। এসব পায়খানা থেকে মলমূত্র সরাসরি মিশে খাল ও নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। এই পানি গৃহস্থালি ও গোসল করার কাজে ব্যবহার করায় এলাকার মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলার কুমিরা, সোনাইছড়ি ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের পাহাড়ে বসবাসরত আদিবাসীদের গ্রামে প্রায় শতাধিক পরিবারের নিজস্ব কোনো পায়খানা নেই।

জানা যায়, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা কভারেজের কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের পাশাপাশি 'ভিলেজ এডুকেশন রির্সোস সেন্টার' (ভার্ক) নামে একটি সংগঠন ২০০২ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রাশেদুজ্জামান জানান, এখানে পরিবার বাড়লেও পায়খানা বাড়েনি। তবে যখন দেয়া ছিল তখন শতভাগ ছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো খোঁজ নেয়া হয়নি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে