logo
রোববার ২৬ মে, ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

  স্বদেশ ডেস্ক   ১৭ মে ২০১৯, ০০:০০  

ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত নিহত ১

ঝড়ে আশাশুনি ও গাংনী লন্ডভন্ড

ঝড়ে আশাশুনি ও গাংনী লন্ডভন্ড
মেহেরপুরে গাংনীতে কালবৈশাখীতে বিধ্বস্ত উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর -যাযাদি
কালবৈশাখীর তান্ডবে মেহেরপুরের গাংনী ও সাতক্ষীরার আশাশুনিতে শত শত বাড়িঘর বিধ্বস্ত ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে গাছ ও ঘরের ছাউনি উড়ে যাওয়ার সময় আহত হয়েছেন শতাধিক লোক। আশাশুনিতে বজ্রপাতে নিহত হয়েছে স্কুলছাত্রী।

গাংনী (মেহেরপুর): বুধবার সন্ধ্যারাতে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীতে অন্তত শতাধিক কাঁচা ও আধা পাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্তসহ গাছ-পালাসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে আহত হয়েছেন অন্তত শতাধিক মানুষ। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে গুরুতর অবস্থায় গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স ও বামন্দি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা যায়, বুধবার ঠিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হয় কালবৈশাখীর তান্ডবলীলা। ৩০ মিনিটে গাংনীর বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যায় ঝড়। এ ঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। মাঠের উঠতি ফসল ও আমবাগানের গাছ-পালা ভেঙে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঘরবাড়ি ধ্বসে ও গাছচাপা পড়ে শতাধিক আহত হয়।

গাংনী পলস্নীবিদ্যুত সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ-পালা পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়া ছাড়াও বৈদ্যুতিক পোল উপড়ে গেছে। পোল স্থাপন ও গাছপালা পরিষ্কার করে বিদু্যৎ সচল করতে জোর প্রচেষ্ঠা চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা অবধি বিদু্যৎ সরবরাহ সচল করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন গাংনী পলস্নীবিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম নিরাপদ দাস।

আশাশুনি (সাতক্ষীর): মঙ্গলবার বিকালে আশাশুনি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবল গতির ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত ও বৃষ্টিপাতের ঘটনায় ঘরবাড়ি, দোকানপাট, গাছগাছালি বিধ্বস্ত হয়েছে। এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। বজ্রপাতে এক স্কুলছাত্রী ও একটি গরু মারা গেছে।

মঙ্গলবার বিকালে অকস্মাৎ প্রচন্ড ঘূর্ণিবার্তা, সাথে বজ্রপাত ও মূষলধারার বৃষ্টিতে উপজেলার বুধহাটা, কুল্যা, কাদাকাটিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নকে লন্ডভন্ড করে দেয়। ঘূর্ণিঝড়ে বুধহাটা-চাপড়া বিদু্যৎ লাইনের ৩৩ কেভি, ১১ হাজার ও ৪৪০ ভোল্টেজ ক্ষমতাসম্পন্ন লাইনের পোলসহ বিভিন্ন স্থানের ৭৪টি পোল উপড়ে পড়ে। যার মধ্যে ৩৩ কেভি ৩০টি ও অন্য লাইনের ৩১টি মোট ৬১টি উপড়ে গেছে। বাকি ১৩টি পোল ভেঙে গেছে। ট্রান্সফরমা ৪টি ও মিটার ৯৮টি নষ্ট হয়ে গেছে। ভোর থেকে দেড় শতাধিক শ্রমিক ও কর্মকর্তা লাইন পুনঃস্থাপন ও সংযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

ঝড়ের তান্ডবে উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নে ৯৬টি গৃহ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ও ১৬৫টি গৃহ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বজ্রপাতে বুধহাটা ইউনিয়নের শ্বেতপুর গ্রামে আছমা খাতুন নামে ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রী এবং কুল্যা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে কালাম সরদারের একটি গরু মারা গেছে। ক্যাপশান : আশাশুনিতে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি গৃহ ও বিদু্যৎ পোল।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে