logo
বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০  

করোনা উপসর্গ নিয়ে ১৩ জনের মৃত্যু

বাড়ি লকডাউন, নমুনা আইইডিসিআরে পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ

করোনা উপসর্গ নিয়ে ১৩ জনের মৃত্যু
করোনাভাইরাস

করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে দেশের ১১ জেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে নারীসহ ১৩ জন মারা গেছেন। এরা সবাই সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একই উপসর্গের এক যুবক আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় মারা যান। মৃতু্যর ঘটনায় তাদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। আমাদের স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শ্বাসকষ্ট নিয়ে দুজন মৃতু্যবরণ করেছেন। বুধবার দুপুরে জেলার নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে ২০ বছর বয়সি এক যুবক এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রুপসদী ইউনিয়নের রুপসদী গ্রামের মধ্যপাড়ায় নিজ বাড়িতে ৫৭ বছর বয়সি এক ব্যক্তি মারা যান। স্থানীয় সূত্র ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রুপসদী ইউনিয়নের রুপসদী গ্রামের মধ্যপাড়ায় নিজ বাড়িতে শ্বাসকষ্ট রোগে মারা যান ৫৭ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। পরে খবর পেয়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স কর্তৃপক্ষ তার নমুনা সংগ্রহ করে। অন্যদিকে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের আবাসিক চিকিৎসক মোশরাত জেরিন বলেন, কুমিলস্না জেলার মুরাদনগর উপজেলার বলিঘর গ্রামের ২০ বছর বয়সি ওই যুবক বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে আসে। এরপর এক্সরেসহ তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় তার নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। পরে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। ঢাকায় যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সসহ সবকিছু প্রস্তুত করার পর অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর আগে বিকাল ৩টার দিকে তার মৃতু্য হয়। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে অতিমাত্রায় জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও কাশি নিয়ে করোনা সন্দেহে মারা যাওয়া ওই মালয়েশিয়া প্রবাসীর বাড়ি ও তার শ্বশুরবাড়ি লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার জেঠাগ্রামে শ্বশুরবাড়িতেই তার মৃতু্য হয়। তার বাড়ি একই উপজেলার পূর্বভাগ গ্রামে। এ ঘটনায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে ওই প্রবাসীর নিজের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ঢাকা : ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে এক যুবকের মৃতু্য হয়েছে। তার বয়স আনুমানিক ২২ বছর। বুধবার সকালের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃতু্য হয়। ঢামেক হাসপাতাল নতুন ভবনের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আবুল হোসেন জানান, ওই যুবক প্রথমে সার্জারি বিভাগে ভর্তি ছিলেন। সেখান থেকে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। তার শ্বাসকষ্টসহ করোনাভাইরাসের উপসর্গ ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে তার মৃতু্য হয়। তিনি জানান, মৃতদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। গাজীপুর : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মঙ্গলবার রাতে করোনাভাইরাস উপসর্গে এক চিকিৎসাকর্মীর মৃতু্য হয়েছে। ২৭ বছর বয়সি ওই চিকিৎসাকর্মী উপজেলার টোক ইউনিয়নের উলুসরা গ্রামের অধিবাসী। মৃত ব্যক্তি ও তার পরিবারের অন্য ৫ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ওই চিকিৎসাকর্মীর বাবা জানান, তার ছেলে প্যারামেডিকেল পাস করে নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি করছিলেন। গত ১৯ মার্চ সুস্থ অবস্থায় বাড়িতে আসেন। মঙ্গলবার বিকালেও তিনি বাড়ির আঙ্গিনায় খেলাধুলা করেছেন এবং রাতে পরিবারের সঙ্গে খাবার খেয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ১টার দিকে হঠাৎ তিনি অসুস্থ অনুভব করেন এবং একপর্যায়ে প্রচন্ড ঘেমে গিয়ে খিঁচুনি দিয়ে ও বমি করে তার মৃতু্য হয়। কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসমত আরা জানান, 'আমরা ওই পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। রিপোর্ট পজেটিভ এলে বাড়িটি লকডাউন করা হবে।' মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এক বৃদ্ধের মৃতু্য হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের গোলড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় সতর্কতার জন্য মৃত ব্যক্তির পরিবারসহ আশপাশের তিনটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। জানা যায়, আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সর্দি, কাশি ও হাঁপানি রোগে ভুগছিলেন। সকালে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। এরপর তার মৃতু্য নিয়ে এলাকায় করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাজশাহী : রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় তাবলিগ জামাতফেরত এক বৃদ্ধের মৃতু্য হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ মিলিকবাঘা কামিয়া ইসলামি দারুল উলুম মহিলা মাদ্রাসায় কোয়ারেন্টিনে তার মৃতু্য হয়। দুপুরে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার দাফনের ব্যবস্থা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আক্তারুজ্জামান। ৪০ দিনের (চিলস্না) তাবলিগে বের হয়ে তিনি কুষ্টিয়ায় ছিলেন। সেখানে অসুস্থ বোধ করায় চিলস্না শেষ না করেই তিনি গত ৫ এপ্রিল গ্রামে ফিরে আসেন। এরপর তিনি বাড়িতে না গিয়ে তার ছেলের মাদ্রাসার একটি কক্ষ কোয়ারেন্টিন করে সেখানে চলে যান। নীলফামারী : জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে ভারত সীমান্ত এলাকা নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ কেতকীবাড়ি খালপাড়া গ্রামে এক বৃদ্ধের (৬৫) মৃতু্য হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে নিজবাড়িতে তিনি মারা যান। এতে ওই এলাকায় করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মৃত ব্যক্তির বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ওই মৃতের করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করেছে ডোমার উপজেলা হাসপাতালের একটি মেডিকেল দল। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইব্রাহিম। রংপুর : রংপুরের কাউনিয়ায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এক নারী (৩০) মারা গেছেন। বুধবার সকালে উপজেলার হারাগাছ ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই নারী উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার মেনাজবাজার গোল্ডেন ঘাট এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় সুইপার। হারাগাছ ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. সামসুজ্জামান জানান, ওই নারী কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশিতে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার রাত থেকে গলাব্যথা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। বুধবার সকালে ডায়রিয়া শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই পথেই তিনি মারা যান। কুমিলস্না : কুমিলস্নার চৌদ্দগ্রামে করোনার উপসর্গ সর্দি, কাশি, জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃতু্য হয়েছে। বুধবার ভোরে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের এক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাসিবুর রহমানসহ পুলিশ মৃতের বাড়িতে পৌঁছে তিনটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা ও পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-জ্বরে তরুণ শ্রমিকের মৃতু্য হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে নিজ বাড়িতে তার মৃতু্য হয়। এ ঘটনায় ওই তরুণের বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। মারা যাওয়া ওই তরুণের বয়স হয়েছিল ২৪ বছর। তিনি নরসিংদীতে একটি ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেখান থেকেই শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গত ২৬ মার্চ বাড়ি আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তরুণের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর গ্রামের লোকজন ওই বাড়িতে কিছু মাস্ক পাঠান এবং যাতায়াত বন্ধ করে দেন। রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান। এ বিষয় দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোনিয়া সুলতানা বলেন, তরুণের মৃতু্যর খবর পেয়ে বাড়িটি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। জামালপুর : জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার একটি এলাকায় এক নারীর মৃতু্য হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে ওই নারীর মৃতু্য হয়। ওই নারী মেলান্দহের একটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ১০ দিন আগে উপজেলার অন্য একটি এলাকায় তার ছোট বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক বলেন, দুপুরে ওই নারী মাথা ঘুরে ও বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে নেওয়ার পথে তার মৃতু্য হয়। তার শরীরে করোনার উপসর্গ ছিল না বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। তবে গ্রামবাসীর মধ্যে করোনার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে এক কিশোরীর মৃতু্য হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নে নানাবাড়িতে ১৩ বছর বয়সি এই কিশোরীর মৃতু্য হয় বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান জানান। প্রতিবেশীর বরাত দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রত্যয় হাসান বলেন, ওই কিশোরী তার নানার বাড়িতে থাকত। গত কয়েকদিন ধরে সে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। তার নানা স্থানীয় আরও কিছু শ্রমিকসহ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। এরই মধ্যে সোমবার সকালে ওই কিশোরীর নানাসহ একই এলাকার ১৩ জন শ্রমিক বাড়ি ফিরেন। পরদিনই করোনার উপসর্গ নিয়ে ওই কিশোরীর মৃতু্য হলো।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে