logo
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ২৭ মার্চ ২০২০, ০০:০০  

খালেদা জিয়ার মুক্তি

বিএনপির রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছে আ'লীগ

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি পেলেও এটা বিএনপির রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা বলেন, একান্তই মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের নেত্রীর মুক্তির জন্য তেমন কোনো ভূমিকাই রাখতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেশ কিছুদিন ধরেই মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক চিন্তা ছিল সরকারের। গত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পূর্বে চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়টি বেশ জোরেশোরে আলোচনায় ছিল। কিন্তু সব পক্ষের সমঝোতা না হওয়ার কারণে বেশ কয়েকবার তার মুক্তির উদ্যোগ ভেস্তে যায়। সম্প্রতি দেশে করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়াকে মুক্তির মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্জন হয়েছে। আবার বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পরিবারের চাওয়া রক্ষা হয়েছে।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলেন, বিএনপির আন্দোলন আর হুমকি-ধমকি কোনো কাজে আসেনি। আদালতে আইনি লড়াইয়েরও কিছুই করতে পারেনি বিএনপির আইনজীবীরা। বয়স আর দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় খালেদা জিয়ার মুক্তি শুধু আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতায় সম্ভব হয়েছে। আর দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সব দলকে নিয়ে করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে চায় সরকার। সবাইক ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার মুক্তির ইসু্যটি বেশ জোরাল ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন তারা।

গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে

কয়েকজন নেতা বলেছেন, যেহেতু বয়স্কা (খালেদা জিয়া) নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন, তাই তাকে মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে অনেক আগ থেকেই চিন্তাভাবনা চলছিল। কিন্তু সরকারের কাছে এমন তথ্য ছিল যে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানানোর নামে গোটা ঢাকা শহর অচল করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। এ সময়ে মুক্তি দেওয়ার কারণে সরকারকে এমন ঝামেলায় পড়তে হয়নি।

তারা আরও বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ সময় লোকসমাগম না করতে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকেই দাবি তোলা হচ্ছে। এ কারণে খালেদা জিয়ার মুক্তি ইসু্যতে বিএনপি বড় ধরনের কোনো শোডাউন করতে পারেনি।

তাছাড়া খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বের হয়ে রাজনীতি করুন, তা চায়নি সরকার। এ জন্য প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে রাজি ছিল সরকার। প্যারোলে মুক্ত হলে সরকারের কঠিন শর্ত মেনেই মুক্তি পেতে হতো। এখনকার মুক্তির শর্ত কিছুটা শিথিল। কিন্তু করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে খালেদা জিয়া চাইলে সেভাবে রাজনীতি করতে পারবেন না। কারণ এখন বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ই অনেকটা ফাঁকা। এ সময় নেতাকর্মীরা চাইলেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে যখন-তখন সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাবেন না। আর মুক্তির শর্তে খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে পারবেন না বলে উলেস্নখ করা হয়েছে। আসলে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে খালেদা জিয়া চাইলেও এখন বিদেশ যাওয়া প্রায় অসম্ভব।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর অন্যতম সদস্য আবদুর রাজ্জাক যায়যায়দিনকে বলেন, সারাবিশ্বে একটা মানবিক বিপর্যয় চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সবসময় মানবতার পক্ষের নেত্রী। আওয়ামী লীগও মানবতার জন্য কাজ করে। তাই বিশ্বের এ সংকটময় মুহূর্তে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এখানে বিএনপির আন্দোলন বা হুমকি-ধমকির কিছু নেই।

দলের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুলস্নাহ হিরু বলেন, সারাবিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ কারণেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য আছে বলে মনে করেন না তিনি।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রম্নয়ারি কারাগারে যান খালেদা জিয়া। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়ও তার সাজা হয়। সব মিলিয়ে খালেদা জিয়ার দন্ড ১৭ বছর। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটিতে তার সাজা হয়েছে। বাকিগুলো বিচারাধীন। কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই বিএনপি খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য চেষ্টা চালিয়েছে; কিন্তু জামিন হয়নি। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নাকচ করে দেয়। গত ফেব্রম্নয়ারিতে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবার হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। ২৭ ফেব্রম্নয়ারি নতুন কোনো কারণ পাওয়ায় তার আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। এরপরই বিএনপি অনেকটা আশা ছেড়ে দেয়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে