logo
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৫

  ফয়সাল খান   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

সাক্ষাৎকার

যুবলীগ হবে পরিচ্ছন্ন সংগঠন: নিখিল

যুবলীগ হবে পরিচ্ছন্ন সংগঠন: নিখিল
মাইনুল হোসেন খান নিখিল
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবে আওয়ামী যুবলীগ। সংগঠনটি হবে সবচেয়ে বেশি পরিচ্ছন্ন। সে লক্ষ্যে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে তৎপর শীর্ষ দুই নেতা। কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ ও সারাদেশের বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠনে সাবেক ছাত্রনেতাসহ স্বচ্ছ ভাবমূর্তির তরুণ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে যেমন সোনার মানুষ প্রয়োজন, যুবলীগের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ঠিক তেমন মানুষই বাছাই করা হচ্ছে।

যায়যায়দিনকে দেওয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

তিনি বলেন, সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল যুবলীগের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সার্বিক নির্দেশনায় সোনার ছেলেদের নিয়ে যুবলীগ পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এরই মধ্যে শুধু কেন্দ্রীয় কমিটির জন্য প্রায় দেড় হাজার সিভি (জীবনবৃত্তান্ত) জমা পড়েছে। এগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।

যায়যায়দিনের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো :

যাযাদি : আপনাকে এমন সময় সাধারণ সম্পাদক করা হলো, যখন যুবলীগ নিয়ে নানা বিতর্ক চলছিল। এ অবস্থায় কমিটি গঠনসহ সংগঠনের সার্বিক কর্মপন্থা কী হবে?

নিখিল : যুবলীগের পদ-পদবি নিয়ে কেউ কোনো অপকর্ম করতে পারবে না। সে সুযোগ

আর কাউকে দেওয়া হবে না। কোনো অবস্থাতেই বিপদগামী কাউকে যুবলীগে জায়গা দেওয়া হবে না। যুবলীগ নিয়ে যে দুর্নাম ছড়িয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তৃণমূলের ইউনিট থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সংগঠনকে চেইন অব কমান্ড অনুযায়ী সাজানো হবে। বিতর্কিত, মাস্তান, দখলবাজ, স্বাধীনতাবিরোধী চেতনার কারও আর যুবলীগ করার সুযোগ নেই। যুবলীগ হবে সবচেয়ে বেশি পরিচ্ছন্ন একটি সংগঠন। প্রতিটি ইউনিটে যুবলীগের স্বচ্ছ ইমেজ ফিরিয়ে আনা হবে। যেখানে স্থান পাবে মুজিব আদর্শের ত্যাগী নেতারা। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিবেদিত রাখবে।

যাযাদি : যুবলীগের মূল কাজ কী হবে?

নিখিল : নেত্রী কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন, যুবলীগকে তার ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে। আমি বিতর্কমুক্ত যুবলীগ গড়তে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার প্রত্যয় নিয়েছি। যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশও এ ব্যাপারে কঠোর। তিনি ইতোমধ্যে বেশ কিছু নির্দেশনাও দিয়েছেন।

যাযাদি : কেমন যুবলীগ চান?

নিখিল : যুবসমাজকে নিয়ে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে চেয়ে ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা সেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠন করব। যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির ছেলে আমাদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার সততা, আদর্শ নিয়ে আমরা কাজ করব। মানুষের কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাস্তবায়ন করব। এমন একটি যুবলীগ গড়তে চাই যে যুবলীগের কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কাজ করবে।

যাযাদি : মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। এখন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, এই দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি সম্পর্কে বলুন।

নিখিল : আলস্নাহর দরবারে হাজার কোটি শুকরিয়া। আর নেত্রীর (প্রধানমন্ত্রীর) দূরদর্শিতার কারণে আজ আমি এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি। নেত্রী আমাকে মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এবার আমাকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক করেছেন। নেত্রীর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা এবং তার আস্থার মর্যাদা আমি রাখব।

যাযাদি : কবে নাগাদ কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে?

নিখিল : এরই মধ্যে ১৫শর মতো বায়োডাটা দপ্তরে জমা পড়েছে। এসব বায়োডাটা চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ব্যস্ত সময় পার করেছি। এ ছাড়া আমাদের গঠনতন্ত্রের বেশকিছু বিষয়ে নেত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। তিনি সিদ্ধান্ত দিলেই আমরা কমিটি গঠনের কাজ শুরু করব।

যাযাদি : পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কারা স্থান পাবেন?

নিখিল : যারা দীর্ঘ সময় যুবলীগ করছেন, সাবেক ছাত্রনেতা, অনেক ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ হতেও কাউকে যুবলীগে আনা হতে পারে। অনেকেই এখন যুবলীগে আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যুবলীগে আসতে চান। তবে যেকোনো পর্যায়ের কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাদের সম্পর্কে যাচাই-বাছাই করা হবে। শুধু কেন্দ্র আর জেলা উপজেলাই নয়, ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড পর্যায়ে কাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হচ্ছে তাদের বায়োডাটাও কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। আমরা জানতে চাইব, কারা যুবলীগের নেতৃত্বে আসছে। এরা কি মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী নাকি অনুপ্রবেশকারী নাকি চাঁদাবাজ-মাস্তান এটার খোঁজ নেওয়া হবে। জেলা কমিটিগুলো সরাসরি কেন্দ্র থেকে দেওয়া হবে। বাকিগুলো সিস্টেম অনুযায়ীই হবে। তবে কারা এসব ইউনিটের দায়িত্ব পাচ্ছেন তা কেন্দ্র থেকে যাচাই-বাছাই করা হবে।

যাযাদি : তৃণমূলের কমিটি কবে নাগাদ হতে পারে?

নিখিল : শিগগিরই গঠনতন্ত্র নিয়ে নেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব। নেত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাকি কাজ করব। গঠনতন্ত্রের কাজ শেষ হওয়ার পর পথমেই কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করব। এরপর তৃণমূল। সিটি নির্বাচনের পর বিভাগওয়ারি জেলা-উপজেলা নেতাদের ডাকা হবে। যেখানে কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে সেখানে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৩ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসের কাউন্সিল অধিবেশনে যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হিসেবে শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক হন মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

ব্যক্তিগত তথ্য : লালবাগ থানা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন নিখিল। ১৯৮৭ সালে যুবলীগে যোগ দেন। তৎকালীন ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৯৩ সালে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। ২০০১ সালের দিকে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হন। ২০১২ সালে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তার জন্ম চাঁদপুর জেলার মতলব থানার হরিণা গ্রামে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে