logo
বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৫

  অনলাইন ডেস্ক    ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের যুগে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের যুগে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর
মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের প্রতীকী ছবি -সংগৃহিত
তানভীর হাসান

মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের যুগে প্রবেশ করল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মাদক ব্যবসায়ীদের ওপর কঠোর নজরদারি, মানিলন্ডারিং মামলার নিষ্পত্তি ও গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে এটি অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল অধিদপ্তরের কাছে। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পেয়েছে অধিদপ্তর। এরপর দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ইতোমধ্যে দুই সহকারী পরিচালককে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারে (এনটিএমসি) ট্রেনিং করানো হয়েছে। তারাই পরবর্তীতে মাদকের অন্য সদস্যদের এ বিষয়ে দক্ষ করে তুলবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ যায়যায়দিনকে বলেন, 'মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে মোবাইল ট্র্যাকিং প্রযুক্তি অধিপ্তরের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। আমরা এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলাম। পরে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পাওয়া গেছে। এখন এনটিএমসির অনুমতির অপেক্ষার পালা। যেহেতু এনটিএমসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ কারণে সেখান থেকেও অনুমতি পাওয়া যাবে। আসা করা যাচ্ছে মাদক নির্মূলে আরও দৃঢ়ভাবে আমরা কাজ করতে পারব।'

তিনি বলেন, 'মোবাইল ট্র্যাকিং রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কারণে আমরা এখন দক্ষ জনবল তৈরির দিকে নজর দিচ্ছি। পাশাপাশি বিশ্বস্ত কাউকে এই ট্র্যাকিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তার কাছ থেকে আমাদের সদস্যরা সহযোগিতা পাবেন।'

জানা গেছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার জিরো টলারেন্স গ্রহণ করলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পিছিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে জনবল সংকট ও প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে থাকাটা অন্যতম। কোনো বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালাতে গেলে অন্য সংস্থার সহায়তা লাগে অধিদপ্তরের। এছাড়া বড় ধরনের মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য থাকলেও তাদের ওপর ম্যানুয়াল নজরদারি ছিল নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একমাত্র ভরসা। এ কারণে তারা

দীর্ঘদিন অস্ত্র ও মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের অনুমতি চেয়ে আসছিল। কিন্তু অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়য়ে অনুমতি না পেলেও তাদের মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তারা গোপনেই মাদক ব্যবসায়ীদের ওপর নজরদারি চালাতে পারবে। এছাড়া মাদককারবাদিরের অবস্থান শনাক্তেও এই প্রযুক্তি কাজে লাগাবে অধিদপ্তর। এ কারণে এখন দক্ষ জনবল তৈরি চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এত দিন তারা বিভিন্ন সংস্থা থেকে সহায়তা নিয়ে কাজ চালাচ্ছিল। এখন নিজেরাই অনুমতি পাওয়ায় গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরের শুরুতে সহকারী পরিচালক খুরশিদ আলম ও বজলুর রহমানকে সাত দিনের ট্রেনিং দেওয়া হয় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারে (এনটিএমসি)। তারাই এখন অধিদপ্তরের অন্য সদস্যদের দক্ষ করে তুলবেন।

জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক খুরশিদ আলম জানান, 'অক্টোবর ও নভেম্বরে আমরা দুজন সহকারী পরিচালক ট্রেনিং করি। সেখানে আমাদের মোবাইল ট্র্যাকিংসহ তিনটি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আসা করছি আমরা ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসায়ীদের আরও দ্রম্নততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে পারব।'

জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা ইউনিট বিভিন্ন সময়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে মাঠের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদন পাঠায়। এরপর ওই প্রতিবেদন ধরে অভিযানে নামেন মাদকের কর্মকর্তারা। মাদক ব্যবসায়ীর ছবি না থাকার কারণে এলাকাভিত্তিক সোর্সের সহায়তায় অনেকটা আন্দাজের ওপর ঘোরাফেরা করা লাগে। আবার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালাতে গেলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সহায়তা লাগে। এতে অনেক সময় তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। এ কারণে অপরাধীর সঠিক অবস্থান শনাক্ত করেই আভযান চালানোর দাবি উঠেছিল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। এ বিষয়ে আবেদন করার পরও বছরের পর বছর তা মন্ত্রণালয়ে আটকে ছিল। গত বছরের শেষের দিকে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ যায়যায়দিনকে বলেন, 'আমরা প্রতি তিন মাস পরপর তালিকা তৈরি করি। এরপর ওই তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা থেকেও তালিকা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই তালিকা ধরেও সমন্বয় করে কাজ করা হয়। কিন্তু আমাদের হাতে কোনো প্রযুক্তি ছিল না। এই কারণে অপরাধীর সম্পর্কে তথ্য থাকলেও তার অবস্থান আমরা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারছিলাম না। এখন হয়তো আমরা অপরাধীর অবস্থান ও চেহারার বর্ণনা পেয়ে অভিযান চালাতে পারব। এতে আমাদের লোকজন অকেনটাই ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারবে। এবং অপরাধীকে দ্রম্নত সময়ে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।'

জানা গেছে, রাজধানীতে মাদকের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়। অন্য সংস্থাগুলো এ বিষয়ে সাফল্য দেখাতে পারলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পিছিয়ে ছিল। কারণ হিসাবে তারা মন্ত্রণালয়কে জনবল সংকট, অস্ত্রগুলো ব্যবহারে অনুমতি না পাওয়া ও প্রযুক্তির সহায়তা থেকে পিছিয়ে থাকা অন্যতম কারণ হিসেবে উলেস্নখ্য করা হয়। কারণগুলো যুক্তিসঙ্গত হওয়ায় তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মাদকের কর্মকর্তারা বলেন, কোনো এলাকায় অভিযান চালাতে গেলে সোর্সের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হতো। এখন ট্র্যাকিংয়ের অনুমতি পাওয়ার পর অপরাধীর সব ধরনের কর্মকান্ডের ওপর আগাম নজরদারি চালানো সম্ভব হবে। এতে তার অপরাধমূলক কর্মকান্ডের আগাম তথ্যপ্রমাণ হাতে নিয়েই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। কর্মকর্তাদের মতে, মাদক ব্যবসায়ীরা এখন টাকা-পয়সা লেনদেন করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যেমে। বিষয়টি মানিলন্ডারিং আইনের মধ্যে পড়ে। এখন এনটিএমসি ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া গেলে মানিলন্ডারিং মামলার তদন্ত দ্রম্নত শেষ করা সম্ভব হবে। এছাড়া গডফাদাররা এখন আর রাস্তায় হেঁটে মাদক ব্যবসা করেন না। তারা মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এ কারণে এই প্রযুক্তির সহায়তায় এখন থেকে গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে