logo
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৫

  যাযাদি ডেস্ক   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

করোনাভাইরাস

চীনে মৃত্যুর মিছিল বড় হচ্ছে

ঘরে ফিরলেন আরও ১১২ বাংলাদেশি

চীনে মৃত্যুর  মিছিল বড় হচ্ছে
প্রতিদিনই বাড়ছে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা। শনিবার চীনের বেইজিংয়ের একটি হাসপাতালে এক আক্রান্তকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা -ইন্টারনেট

আরও ১৪৩ জনের মৃতু্যর মধ্য দিয়ে নতুন করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৬৯ জনে, তবে নতুন রোগীর সংখ্যা কমেছে টানা তৃতীয় দিনের মতো। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মূল ভূখন্ডে শনিবার আরও ২ হাজার ৯ জনের শরীরে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, আগের দিন নতুন রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬৪১ জন। সব মিলিয়ে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ৫০০ জনে। আর অন্তত ২৬টি দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শনিবার চীনে ১৪২ জনের মৃতু্য হয়েছে, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৬৯ জনে। অধিকাংশ ?মৃতু্য ঘটেছে হুবেই প্রদেশে। এই হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকেই গত বছরের শেষে নভেল করোনাভাইরাস ছড়াতে শুরু করে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক চীনা পর্যটক শনিবার মারা গেছেন ফ্রান্সে; ইউরোপে এ ভাইরাসে এটাই প্রথম মৃতু্য। চীনের মূল ভূখন্ডের বাইরে এর আগে হংকং, ফিলিপিন্স ও জাপানে তিনজনের মৃতু্য হয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্বে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১৬৬৯ জনে। করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মতো। ঘরে ফিরলেন আরও ১১২ বাংলাদেশি: এদিকে হজ ক্যাম্প থেকে ঘরে ফিরেছেন চীনের উহান শহর থেকে ফিরে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ৩১২ বাংলাদেশি। সংশ্লিষ্টরা জানান, রোববার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পৃথকভাবে ভাগ হয়ে হজ ক্যাম্প ছাড়েন ১১২ বাংলাদেশি। এর আগে শনিবার (১৫ ফেব্রম্নয়ারি) ঘরে ফেরেন ২০০ বাংলাদেশি। সূত্র জানায়, উহান থেকে ফেরা বাংলাদেশিদের ১৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। তাদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সেখানে করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ না পাওয়ায় সবাইকে শনি ও রোববার ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর সব বাংলাদেশি নিজ দায়িত্বে ঘরে ফিরে গেছেন। রোববার সকালে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, যে স্থানে উহান শহর থেকে ফেরা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা থাকতেন, সেই কক্ষগুলো ধোঁয়ামোছার কাজ চলছে। সেখানে এখনো একাধিক সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তবে হজ ক্যাম্পে প্রবেশে আগের মতো বিধিনিষেধ নেই। গত ১ ফেব্রম্নয়ারি চীনের উহান থেকে দেশে আসেন ৩১২ জন বাংলাদেশি। এরপর তাদের আশকোনা হজ ক্যাম্প ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। শনিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চীন থেকে ফেরা ৩১২ জনই সুস্থ রয়েছেন। তাদের কারোর মধ্যে কভিড-১৯ এর কোনো লক্ষণ-উপসর্গ নেই। সতর্ক থাকতে হবে আরও ১০ দিন : নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে চীনের উহান থেকে দেশে ফেরা ৩১২ জন দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ শেষে বাড়ি ফিরে গেলেও আরও দশ দিন তাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে সরকারের রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আইইডিসিআর। রোববার আইইডিসিআরের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, '৩১২ জনের সবাই সুস্থ আছেন। কোয়ারেন্টিন শেষ করা কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ বা উপসর্গ ছিল না। তাদের মধ্যে করোনাভাইরাস নেই- এ রকম ছাড়পত্র দেওয়ার পর সবাই বাড়ি ফিরে গেছেন।' তারপরও 'অতিরিক্ত সতর্কতা' হিসেবে তাদের আরও ১০ দিন নজরে রাখা হবে জানিয়ে অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, 'তারা যেন জনসমাগম এড়িয়ে চলেন। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে তারা যেন বাড়িতে অবস্থান করেন। বাড়ির বাইরে গেলেও মাস্ক ব্যবহার করবেন।' চীনের জন্য মাস্কসহ স্বাস্থ্যসামগ্রী: করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত চীনের জন্য মাস্ক, গাউন, ক্যাপ, হ্যান্ড গেস্নাভ ও স্যানিটাইজারসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 'সহমর্মিতামূলক সহায়তা' হিসেবে দেশটির জন্য এসব সামগ্রী পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। পাশাপাশি করোনাভাইরাসের সংক্রমণে প্রাণহানির ঘটনায় শোক ও সমবেদনা জানিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের হাতে ওই চিঠি ও স্বাস্থ্য সামগ্রী হস্তান্তর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। চিঠি থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ করোনাভাইরাসের আক্রমণে স্বজন হারানো চীনা পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। চীন সরকার কর্তৃক দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সঠিকভাবে সেবা প্রদানেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। চীন দ্রম্নত সময়ের মধ্যে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি চিঠিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে নিমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী। চীনা নারী রংপুর মেডিকেলে: জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন জিংজং (২৯) নামে এক চীনা নাগরিক। গত ৪ ফেব্রম্নয়ারি তিনি চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন। তিনি নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে একটি চাইনিজ কোম্পানিতে কর্মরত। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রোস্তম আলী জানান, চীনা নাগরিক ওই নারী শনিবার অসুস্থ হয়ে পড়লে রোববার (১৬ ফেব্রম্নয়ারি) দুপুরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা তাকে দ্রম্নত হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের করোনা ইউনিটে ভর্তি করান। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখাসহ বিষয়টি সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) জানানো হয়েছে। সেখান থেকে লোকজন এসে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাবেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে