logo
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৬

  ফয়সাল খান   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

আওয়ামী লীগের সম্মেলন

শেষ মুহূর্তে নেতাদের দৌড়ঝাঁপ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২০ ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় শুরু হবে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা ২১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে হবে কাউন্সিল অধিবেশন

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে সব নেতাই সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পরপরই দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও বিভিন্ন সভা-সেমিনারে নিজেদের উপস্থিতির জানান দিচ্ছেন তারা। তাছাড়া উপ-কমিটিগুলোও আগের তুলনায় নিজেদের কর্মকান্ড বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। উপ-কমিটির ব্যানারে বিভিন্ন সভা সেমিনারও করা হচ্ছে। তৃণমূলের সম্মেলনের জন্য ছুটে যাচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। অথচ এর আগে দিবস পালন ছাড়া আর তেমন কোনো কর্মসূচিতে দেখা যেত না তাদের অনেককেই।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, সহযোগী সংগঠন ও তৃণমূলের সম্মেলন চলমান থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণ ফিরে এসেছে। এতদিন যারা দলীয় কর্মসূচি থেকে দূরে থাকতেন, এখন তারাও বেশ সক্রিয়। এরমধ্যে কিছু বসন্তের কোকিলও রয়েছে। কিন্তু তাদের ব্যাপারে দলীয় প্রধানসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন। যাতে কোনোভাবেই অনুপ্রবেশকারীরা দলীয় পদে না আসতে পারে।

সূত্রমতে, ২০তম সম্মেলনের পর তৃণমূলে সংগঠন গোছাতে উলেস্নখযোগ্য তৎপরতা চালাননি নেতারা। ফলে সাংগঠনিক কাজ অনেকটাই গতিহীন হয়ে পড়ে। কতিপয় নেতাকর্মী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। তাছাড়া গত ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে তৃণমূলের সব ইউনিটের সম্মেলন করার নির্দেশনা তাকলেও তা বস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সব শেষ বৈঠকে নেতাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলীয় প্রধানের কঠোর বার্তা পাওয়ার পর দফায় দফায় জেলা ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত করেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এরপর রংপুর জেলা, রংপুর মহানগর, চট্টগ্রাম জেলা উত্তর, খুলনা মহানগর, খুলনা জেলা, পটুয়াখালী জেলা, রাজশাহী, ফেনী, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়সহ বেশ কয়েকটি জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের চারজন কেন্দ্রীয় নেতার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বিগত এক মাস যাবৎ কেউই পরিবারকে তেমন সময় দিতে পারছেন না। দিন-রাত সাংগঠনিক কাজের পেছনেই ছুটছেন। এক নেতার ক্ষেত্রে এমনও হয়েছে বিকালে এক জেলার সম্মেলন শেষ করে রাতে ঢাকায় এসে অন্য এক বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। দিন-রাত মিলিয়ে নেতাদের শেষ মুহূর্তের এই ব্যস্ততা দলে প্রাণ ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ বলছেন গত কমিটির দায়িত্ব পাওয়ার পরপর তৃণমূলের প্রতি ঠিকমতো নজর দিলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না। তবে নেতারা চেয়েছিলেন, অন্তত জাতীয় সম্মেলনের আগে হলেও তৃণমূলের সব কমিটি গঠন শেষ করতে। কিন্তু শনিবারের পর আর কোনো সম্মেলন করার সুযোগ না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর অন্যতম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান যায়যায়দিনকে বলেন, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে তৃণমূলের মেয়াদোত্তীর্ণ সব ইউনিটের সম্মেলন করার কথা ছিল। এরইমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকিগুলো শেষ করতে কাজ চলছে। শনিবারের পর তৃণমূলের আর কোনো সম্মেলন হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, এরপর নেতারা জাতীয় সম্মেলন বাস্তবায়নে ব্যস্ত থাকবেন। তৃণমূলের যেসব ইউনিটে সম্মেলন হয়নি, সেখানে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। জাতীয় সম্মেলন শেষ হলে এসব সমস্যা সমাধান করে বাকি ইউনিটগুলোতেও সম্মেলন হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, আগামী শুক্র ও শনিবার অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। আগামী বছর মুজিববর্ষ উদযাপনের ব্যাপক প্রস্তু্তুতির কারণে এবারের সম্মেলনের আয়োজন থাকছে সাদামাটা। তবে সম্মেলনকে আকর্ষণীয় করে তুলতে জমকালোভাবে সাজানো হচ্ছে সোহারাওয়ার্দী উদ্যানের মূল মঞ্চসহ আশপাশের এলাকা। এরইমধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর আশাপাশের এলকায় শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পোস্টার-ফেস্টুন। মূল মঞ্চ তৈরি হচ্ছে পদ্মা নদীর বুকে পাল তোলা নৌকার আদলে। পদ্মা সেতুর নমুনাও ফুটে উঠবে ১০২ ফুট দীর্ঘ ৪০ ফুট প্রশস্ত মঞ্চে। প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঞ্চ তৈরীর দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, মঞ্চ সাজাতে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আশপাশের এলাকাসহ মূল মঞ্চটি এমনভাবে স্থাপন করা হবে, যেন পদ্মা নদীর বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে একটি বিশাল নৌকা। সেই নৌকার চারপাশজুড়ে থাকছে প্রমত্ত পদ্মার বিশাল জলরাশি। তাছাড়া থাকবে পদ্মার বুকে ঘুরে বেড়ানো ছোট ছোট নৌকা। এমনকি পদ্মা তীরে কাশবনের উপস্থিতি মঞ্চকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। এর মধ্যে থাকবে স্বপ্নের পদ্মা সেতুও। মঞ্চটিকে দৃষ্টিনন্দন করতে দিন-রাত কাজ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। আর সামনে থাকবে পদ্মা সেতুর ৪০টি পিলারের প্রতিকৃতি।

জানা গেছে, ২০ ডিসেম্বর সম্মেলন উদ্বোধন হলেও ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যাবে সম্মেলনের জন্য। এরপর ১৬ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চার দিন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এই সময়ের সবাই সম্মেলনস্থল ঘুরে-ফিরে দেখতে পারবেন। এরপর ২০ ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় শুরু হবে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা। পরদিন ২১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে দলের কাউন্সিল অধিবেশন।

সম্মেলন বাস্তবায়নে গঠিত সাজ-সজ্জা উপকমিটি সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরে কোনো ধরনের সাজসজ্জা হবে না। এবারের সম্মেলনে সব মিলিয়ে ৫০ হাজার কাউন্সিলর ও ডেলিগেট অংশ নেবেন।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও মুজিববর্ষ উদযাপন করা হবে। এ কারণে ঠিক যতটা না করলেই নয়, সম্মেলনে ঠিক ততটুকুই করা হবে। তাই সাজসজ্জার দিকে না গিয়ে অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে