logo
বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

বিএনপি হতাশ: দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ

বিএনপি হতাশ: দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ
বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন খারিজের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সিলেট কোর্ট পয়েন্টের সামনে বিক্ষোভের প্রস্তুতিকালে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেনকে আটকের চেষ্টা করে পুলিশ -যাযাদি
দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ হওয়ায় হতাশ বিএনপি নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেছেন তারা। এসব কর্মসূচিতে পুলিশের ধাওয়া ও নেতাকর্মী গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণে জরুরি বৈঠক করেছেন শীর্ষ নেতারা। অঙ্গ সংগঠন যুবদল বিক্ষোভের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি নেতারা এই রায়ে দেশের মানুষ হতাশ ও বাকরুদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মিছিল বের করা হয়। আদালতের রায় হওয়ার পরপরই খালেদা জিয়ার জামিন খারিজের প্রতিবাদে এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি শফিউল বারী বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েলের নেতৃত্বে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল মৌচাক মোড় থেকে শুরু হয়ে সফিনা হাসপাতাল হয়ে মালিবাগ রেলগেট গিয়ে শেষ হয়। মিছিল থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল-ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতা মো. জামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

দুপুরে বাংলামোটর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদল। পুলিশি ধাওয়ায় মিছিলটি একপর্যায়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। দুপুর সোয়া একটায় ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের নেতৃত্বে মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্স্নোগান দেন। দুপুর দুইটার দিকে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল হয়েছে। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, মহানগর পশ্চিম ও মোহাম্মদপুর থানা বিএনপি এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক হিংসাত্মক বক্তব্যের উদ্দেশ্যই ছিল খালেদা জিয়াকে জামিন না দিতে বিচার বিভাগ এবং বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করা। এরপরও বিশ্বাস ছিল, সরকারের সব নজরদারি ও হুমকি উপেক্ষা করে সর্বোচ্চ আদালত দেশনেত্রীকে জামিন দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে দেশের মানুষ হতাশ এবং বাকরুদ্ধ।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকার বেগম জিয়াকে তার ন্যায়সঙ্গত অধিকার জামিন থেকেই কেবল বঞ্চিত করছে না, বরং শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ একজন বয়স্ক নারীকে সুচিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত করছে। সরকারের হস্তক্ষেপেই আদালত তা খারিজ করলেন। প্রকৃত অর্থে এ আদেশের মাধ্যমে একটি খারাপ নজির স্থাপিত হলো। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাই, এখন আর ঘরে বসে থাকলে চলবে না। এটা স্পষ্ট, বেগম জিয়ার কারামুক্তিতে এখন রাজপথই আমাদের একমাত্র সমাধান।

দুপুরে রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে মিছিল হয়েছে। মিছিলে যুবদল নেতা মোরতাজুল করিম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, মামুন হাসান, রফিকুল আলম মজনু, এসএম জাহাঙ্গীরসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজের প্রতিবাদে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুবদল।

রায় শুনানিকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া পাহারা ছিল। ভোর থেকে কার্যালয়ে বিপুল পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা অবস্থান করেন। সকাল থেকে কার্যালয়ের ভেতরে কিছু নেতাকর্মীকে প্রবেশ করতে দেখা গেলেও কেন্দ্রীয় কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। দুপুরে প্রধান ফটকের সামনে মহিলা দলের কিছু নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্স্নোগান দিতে দেখা যায়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার ব্যক্তিগত সহকারী মুহাম্মদ ইউনূসকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি বেরিয়ে যান। কার্যালয়ের আশপাশ থেকে দুইজন নেতাকর্মীকে আটকের অভিযোগ করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর।

রায় ঘোষণার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে কারওয়ানবাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলটি বসুন্ধরা শপিংমল এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মহানগর উত্তরের যুগ্ম সম্পাদক এজিএম সামসুল হক ও মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর মিছিলের নেতৃত্ব দেন।

এছাড়া ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায়, এলাকায় নগর বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা সদর ও থানা পর্যায়েও খালেদা জিয়ার জামিন খারিজের প্রতিবাদে এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে।

রাজশাহী : বিবেকের তাড়নায় বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে রাজপথে নামার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন মিনু। বেলা ১১টা থেকে রায় হওয়া পর্যন্ত রাজশাহী নগরের মালোপাড়া বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মিজানুর রহমান মিনু। নগর ও জেলা বিএনপির আয়োজনে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নগরের সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, জেলার আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, ওয়ালিউল হক রানা, বজলুল হক মন্টু, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকা, জেলা বিএনপির সদস্য সৈয়দ মহসিন আলী, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম সরকার প্রমুখ।

দিনাজপুর : খালেদা জিয়াকে জামিন না দেয়ায় পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে দিনাজপুরে ঝটিকা মিছিল করেছে বিএনপি'র নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন খারিজ করার খবর ছড়িয়ে পড়লে লিলি মোড় থেকে বিএনপি'র নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের মুন্সিপাড়া, জেলরোড প্রদক্ষিণ করে বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল ও সমাবেশে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানানো হয়। এ সময় বিএনপি'র যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, আখতারুজ্জামান জুয়েল, বখতিয়ার আহমেদ কচি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিএনপি'র নেতাকর্মীদের মিছিল না করার জন্য জেলা কার্যালয়ে বাধা দেয়া হলেও লিলি মোড় থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে