logo
শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

বাস্তবে কোনো উদ্যোগ নেই

বিরোধী শিবিরের শুধুই ফাঁকা আওয়াজ

সরকারকে বেকায়দায় ফেলার মতো আন্দোলন বা সংগঠনকে শক্তিশালী করার কোনো উদ্যোগ নেই বিএনপিসহ শরিক দলগুলোর

আর দুই থেকে তিন মাস সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে, আওয়ামী লীগ নেতাদের বিএনপিতে যোগ দেয়ার অবস্থা তৈরি হয়েছে, জাতীয় সরকার গঠন ও সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপর মাত্র- এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে সরকারবিরোধী দলগুলোর নেতারা রাজনীতির মাঠ গরম করার কৌশল নিয়েছেন। বাস্তবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার মতো আন্দোলন বা সংগঠনকে শক্তিশালী করার মতো কোনো উদ্যোগ নেই বিএনপিসহ শরিক দলগুলোর। শুধু নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতেই ফাঁকা আওয়াজ দিয়ে যাচ্ছেন তারা।

সর্বশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল বর্জনের পাশাপাশি শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট। এরপরেই সরকারবিরোধী আন্দোলন বেগবান হবে ভাবা হলেও তা হয়নি। বরং আগের অবস্থা থেকে সরে এসে এমপিরা, সংসদে যোগ দিয়ে নির্বাচনকে পুরোপুরি বৈধতা দেন। পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একেবারে দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপর কয়েক দফা দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো চেষ্টাই সফল হয়নি। একাধিকবার আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত আর মাঠে দেখা যায়নি ঐক্যফ্রন্টকে। নাম ঐক্যফ্রন্ট হলেও কার্যত এই জোটে ঐক্য নেই বললেই চলে। সাংগঠনিক কোনো পরিকল্পনা না থাকায় নেতারা নিজেদের কার্যক্রম শুধু ফাঁকা আওয়াজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

সম্প্রতি বিরোধী নেতাদের ৪টি বক্তব্য ও বিবৃতি নিয়ে তাদের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি আলোচনা করছেন। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সরকারের দাবি জানিয়ে ঐক্যফ্রন্ট একটি বিবৃতি দেয়। ক্ষমতাসীন দলের শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে হঠাৎ জাতীয় সরকারের দাবি উঠায় বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীরা ব্যাপক কৌতূহলী হয়ে উঠেন। ক্ষমতা পালাবদলের স্বপ্নও দেখতে শুরু করেন অনেকে। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন জাতীয় সরকারের এ ধারণা এবং প্রস্তাব এসেছে ঐকফ্রন্টের শরিক দল আ স ম আব্দুর রবের জেএসডির কাছ থেকে। এটা বাস্তবায়নের জন্য জোরালো কোনো পরিকল্পনাও নেই। বিষয়টি জেনে হতাশ হন নেতাকর্মীরা।

এরই মধ্যে গত ৮ নভেম্বর নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা করার পরামর্শ দিয়ে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ একটি অনুষ্ঠানে বলেন, বর্তমান সরকারের পতন এখন 'সময়ের ব্যাপার'। আর গত বুধবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখন আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শীর্ষ নেতাদের এমন বক্তব্যে নেতাকর্মীরা কিছুটা চাঙ্গা হচ্ছে ঠিকই, তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আপাতত সরকার পতনের মতো আন্দোলন করার কোনো পরিকল্পনা বিএনপির নেই। আর আওয়ামী লীগ থেকে বড় কোনো নেতার বিএনপিতে যোগ দেয়ার মতো কোনো খবরও নেই বিএনপির কাছে।

নেতাদের রাজনৈতিক বক্তব্যে নেতাকর্মীরা মানুষিকভাবে চাঙ্গা হবে বা ভেঙ্গে পড়বে এমনটাই স্বাভাবিক। তবে সরকারের মেয়াদের সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে বক্তব্যে দিলে তা আলোচনায় বেশি আসে। এজন্য কৌতূহলী হন নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও। সম্প্রতি 'সরকার আর ২ থেকে ৩ মাস ক্ষমতায় থাকতে পারবে' এই শিরোনামে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার একটি বক্তব্য প্রকাশিত হয়। এরপরেই রাজনৈতিক মহলে বিশেষ করে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোতে আলোচনা শুরু হয় সত্যি কিছু হচ্ছে কিনা? আসলেরই কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান মান্না যায়যায়দিনকে বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন করে টিকে আছে। এজন্য আন্দোলনও হচ্ছে। আর জনতার আন্দোলন বেগবান হলে দুই তিন মাসের বেশি সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। এ কথাই সেদিন পরিষ্কারভাবেই বলেছেন।

সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়ায় সবাই মনে করছে বিরোধী দলগুলোর কোনো পরিকল্পনা থাকতে পারে, আসলে সরকার পতন আন্দোলনের বিষয়ে তাদের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে মান্না বলেন, না এমন কোনো পরিকল্পনা বা উদ্যোগ তাদের নেই।

জাতীয় সরকার গঠনে ঐক্যফ্রন্টের দাবি প্রসঙ্গে মান্না বলেন, এটি জেএসডির একটি প্রস্তাব ছিল। তবে এনিয়ে এখন কোনো তৎপরতা নেই।

\হ
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে