logo
শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

এবার সাদা পোশাকের লড়াই

ইন্দোরে আজ শুরু বাংলাদেশ-ভারত প্রথম টেস্ট

ইন্দোরে আজ শুরু বাংলাদেশ-ভারত প্রথম টেস্ট
সাকিব-তামিমকে ছাড়াই ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। তাইতো দলের দুই সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউলস্নাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটের ওপর আস্থা রাখছেন টাইগারদের নতন টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক-বিসিবি
সুলতান মাহমুদ রিপন

রঙিন পোশাকের ক্রিকেটে ভারতকে কয়েকবারই হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাইতো দুই দলের খেলা হলেই সব সময়ই থাকে জম্পেশ এক লড়াইয়ের আভাস। মাঠের ক্রিকেট হয় দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে? দীর্ঘ পরিসরে দুই দলের শক্তির তফাত এতটাই বেশি যে ম্যাচ জেতার কথা মুখেও আনার সাহস পায় না বাংলাদেশ। তার ওপর আগের ৯ বারের দেখায় ৭টিতে হেরেছে টাইগাররা। তবে এবার সাকিব-তামিমকে ছাড়া সদ্য শেষ হওয়া টি২০ সিরিজে দারুণ লড়াই করেছিল সফরকারীরা। তাই এবার টেস্ট ক্রিকেট ভালো করতে মুখিয়ে আছে মুমিনুল হকের দল।

অন্যদিকে ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে দারুণ এক অপ্রতিরোধ্য দল হয়ে উঠেছে ভারত। টি২০ সিরিজে বিশ্রামে থাকলেও

এবার টেস্ট সিরিজে ফিরছেন নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তার নেতৃত্বে গত মাসে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকাকে ধবলধোলাই করেছিল স্বাগতিকরা। তাছাড়া টেস্টর্ যাংকিংয়ের এক নম্বর দলটিও হচ্ছে ভারত। ঘরের মাঠে সময়টা দুর্দান্ত কাটছে দলটির। প্রোটিয়াদের উড়িয়ে দেওয়ার স্মৃতি তাদের এখনো তাজা। উড়তে থাকা দলটির সামনে কতটা লড়াই করতে পারবে টাইগাররা? এমন সমীকরণকে সামনে রেখে আজ সকাল ১০টায় ইন্দোরের হোল্কার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

বিরাট কোহলি যেকোনো দলের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক। টি২০ সিরিজে বিশ্রামে ছিলেন তিনি। তবুও ভারতকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। দুদলের টেস্ট সিরিজে ফিরেছেন তিনি, এবার দলকে দেবেন নেতৃত্ব। তাই ইন্দোরে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে পড়তে হবে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে। এর পাশাপাশি অতীত পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের নতুন টেস্ট দলনেতা মুমিনুল হকের 'মাথাব্যথা'র যথেষ্ট কারণ হতে পারে। এর যথেষ্ট কারণও রয়েছে। দুটি ডাবল সেঞ্চুরির মধুর স্মৃতি নিয়ে আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নামবেন কোহলি।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সাদা পোশাকে সবশেষ দেখায় দ্বিশতক করেছিলেন কোহলি। আর ইন্দোরের হোল্কার স্টেডিয়ামে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া একমাত্র টেস্টেও দ্বিশতক করার স্বাদ নিয়েছিলেন সময়ের অন্যতম সেরা এ ব্যাটসম্যান। ২০১৬ সালের অক্টোবরে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় হোল্কার স্টেডিয়ামের। স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। ঘরের মাঠে অনুমিতভাবেই কিউইদের নাস্তানাবুদ করেছিলেন কোহলিরা, জিতেছিলেন ৩২১ রানের বড় ব্যবধানে। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দলকে বিশাল সংগ্রহ পাইয়ে দিয়ে নিউজিল্যান্ডকে চেপে ধরার কাজটা শুরু করেছিলেন কোহলিই। ২০ চারে ৩৬৬ বলে ২১১ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

ভারতের মাটিতে এর আগে কেবল একটি টেস্টই খেলেছে বাংলাদেশ, ২০১৭ সালের ফেব্রম্নয়ারিতে হায়দরাবাদে। পঞ্চম দিনে গড়ানো ম্যাচটি বাংলাদেশ হেরেছিল ২০৮ রানে। সে টেস্টেও প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি এসেছিল কোহলির ব্যাট থেকে। ওয়ানডে ঢঙে ব্যাটিং করে মাত্র ২৩৯ বলে দ্বিশতক পূরণ করেছিলেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ২৪ চারে ২৪৬ বলে ২০৪ রান করেছিলেন কোহলি। যদিও দুবারই অবশ্য কোহলির ইনিংসের ইতি ঘটিয়েছিলেন স্পিনাররা। নিউজিল্যান্ডের জিতান প্যাটেল ও বাংলাদেশের তাইজুল ইসলাম দুজনেই এলবিডবিস্নউয়ের ফাঁদে ফেলেছিলেন তাকে।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার ৯টি টেস্টের মধ্যে ৭টিতে হেরেছে আর দুটিতে ড্র করতে পরেছিল টাইগাররা। তাইতো এবার সাদা পোশাকে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে কতটা লড়াই করতে পারবে বাংলাদেশ? এই প্রশ্নটাই বারবার ঘুরে ফিরে আসছে। সাকিব-তামিম দেশসেরা দুই ক্রিটোরকে ছাড়াই দারুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ দল। বিশেষ করে একটি জয়ে যেন পাল্টে গেছে টাইগাররা। কেটে গেছে মানসিক বাধা। মনোবল বেড়ে গেছে বহুগুণ। সময়টা হয়ে উঠেছে দারুণ উপভোগ্য। আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা দলটির সব সদস্য বিশ্বাস করেন, এবার সাদা পোশাকে ভালো করা সম্ভব।

কারণ এর আগেও দুই টেস্ট ভারতের সঙ্গে ড্র করতে পেরেছিল বাংলাদেশ। তাইতো এবার ভালো করা সম্ভব বলে মনে করছেন সফরকারী দলের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। তবে কোনো টেস্ট সিরিজের আগে ঘুরে-ফিরে আসে প্রশ্নটা, প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট কি নিতে পারবে বাংলাদেশ? এলো এবারও। সাকিবের অনুপস্থিতিতে বোলিংয়ে শক্তি হারানো দলটি কি ভারতের মাটিতে পারবে কোহলি, রোহিতদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে? মিঠুন আত্মবিশ্বাসী, ভারতকে দুইবার অলআউট করার সামর্থ্য আছে তাদের।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগের সিরিজে তিন টেস্টে মোটে ২৫ উইকেট হারায় ভারত। শেষ দুই টেস্ট জেতে ইনিংস ব্যবধানে। স্পিনের বিপক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে কতটা কী করতে পারবেন তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজরা? সুশৃঙ্খল বোলিং করতে পারলে দুইবার স্বাগতিকদের অলআউট করা অসম্ভব নয় বললেন মিঠুন, 'বিশ্বাস করি এটা সম্ভব। আমি একজন ব্যাটসম্যান, আমার আউট হতে একটা বলই লাগে। এটা সব ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমরা যদি চাপ তৈরি করতে পারি, যে বোলিং ইউনিট আছি যদি সুশৃঙ্খল বোলিং করতে পারি, অবশ্যই সম্ভব। অবশ্যই আমরা ওদের সম্মান করি। ওরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি। বিশেষ করে দেশের মাটিতে ওরা অনেক বেশি শক্তিশালী। আমরা এ সিরিজের দিকে তাকিয়ে আছি।'

গত মাসে ভারতে খেলতে এসে নাকানিচুবানি খেয়ে ফিরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তিন টেস্টের সিরিজের তিনটিতেই লড়াইবিহীন হার হয় তার। এই যুক্তিতের্ যাংকিংয়ে তলানিতে থাকা বাংলাদেশের বিপক্ষেও আরও অনায়াসে জয় পাওয়ার কথা ভারতের। বাংলাদেশ উপমহাদেশের দল বলেই তেমনটাই হবে বলতে পারলেন না বিরাট কোহলি, 'দক্ষিণ আফ্রিকার পিক্ষে আমরা ভালো খেলেছিলাম। কিন্তু সেটা এখন অতীত। আমাদের সামনে এখন বাংলাদেশ। যারা উপমহাদেশের দল। তাছাড়া বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সব ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।'

ইন্দোরের উইকেট সবুজ ঘাসে সাজানোর খবর এলেও ভারতের প্রকৃতি-পরিবেশ তো লুকানো সম্ভব নয়। উপমহাদেশের উইকেটের চরিত্রে খুব বেশি পার্থক্য থাকে সামান্যই। শুরুতে বাউন্স, একটা নির্দিষ্ট সময় পর ভাঙবে, স্পিন ধরবে, ঘূর্ণি ঝড় উঠবে, একটা সময় স্পিন-পেস উভয়েই যখন-তখন লাফিয়ে উঠবে বল। বাংলাদেশ-ভারত দুদেশের উইকেটেই আছে কন্ডিশনের এমন অনেক মিল।

আর সেই কারণেই টাইগাররা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে বলে মত ভারতীয় অধিনায়ক কোহলির, 'ওরাও তো একই কন্ডিশনে খেলে অভ্যস্ত। আমি মনে করি, ওদের নিজস্ব একটা পরিকল্পনা আছে, ওরা জানে কী করতে হবে। জানি ফল নিজেদের করে নিতে হলে লড়তে হবে। আমরা মোটেও হাল্কাভাবে নিচ্ছি না ওদের। বাংলাদেশের কোনো বোলার বা ব্যাটসম্যানকে হাল্কাভাবে নেওয়ার সুযোগও নেই। খুবই মানসম্পন্ন একটা দল। এ দলটার জন্য আমাদের শ্রদ্ধা আছে।'

একটা সময় ছিল, ভারতে টেস্ট মানেই স্পিন সহায়ক উইকেট ও স্পিনারদের রাজত্ব। প্রেক্ষাপট বদলেছে। সবশেষ সিরিজেই যেমন, ভারতীয় পেসারদের তোপে নাকাল হলো দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া টেস্ট সিরিজেও উইকেট পেস সহায়ক বা স্পোর্টিং হলে অবাক হওয়ার মতো কিছু হবে না। মধ্য প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কিউরেটর সামান্দার সিং চৌহানও স্পোর্টিং উইকেটের ইঙ্গিত দিলেন, 'ভালো উইকেট, স্পোর্টিং উইকেট, সবার জন্য সহায়ক, ফরম্যাটের বিবেচনায় পাঁচ দিনই পিচ ভালো থাকবে।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে