logo
রোববার ২৫ আগস্ট, ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ১৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০  

বাড়ছে বানভাসির সংখ্যা ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ

বাড়ছে বানভাসির সংখ্যা ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ
জীবনের চরম সন্ধিক্ষণে নিপতিত হয় বানভাসি মানুষ। জীবন বাঁচাতে তারা মরিয়া হয়ে ওঠে। সত্যি হয়ে ওঠে জীবনের চরম উপলব্ধি-মানুষ মানুষের জন্যে। একটি শিশুকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিতে একজন বৃদ্ধ তাই এভাবে প্রাণপণ চেষ্টা চালান। ছবিটি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার শরিফেরহাট মালেক মোড় থেকে তোলা -ফোকাস বাংলা



প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়ায় বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে বাড়ছে বানভাসির সংখ্যা। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। অনেক স্থানে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, ফসল ও পুকুরের মাছ। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন বন্যাদুর্গতরা। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে কলেরা, ডায়রিয়াসহ ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ।

বন্যার পানির তোড়ে ভেসে যাচ্ছে বসতবাড়ি। বুধবার রাতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের তাড়াই এলাকায় বাঁধ ভেঙে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে আরও ১০টি গ্রাম। পানিবন্দি ১১১ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা না পেয়ে মানবেতর দিন যাপন করছেন তারা।

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়ে ৯ উপজেলার ৬ লাখ মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। বেশির ভাগ বসতবাড়ি ডুবে গেছে। ঘরহারা মানুষ গবাদি পশু নিয়ে বাঁধ, রাস্তাঘাট, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ঠাঁই নিয়েছেন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে কলেরা, ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ ও মেলান্দ উপজেলাসহ ৬ উপজেলার ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ৩ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তলিয়ে গেছে ১৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল। রেল লাইনে পানি উঠে যাওয়ায় ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনটে বন্যার পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও পুকুরের মাছ। লাখো মানুষ নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বানভাসি মানুষের কাছে এখনো পৌঁছায়নি ত্রাণ সহায়তা।

সিরাজগঞ্জের ৫ উপজেলার নিচু ও চর এলাকা ডুবে যাওয়ায় মানুষ বাঁধের উঁচু স্থানে অবস্থান নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে ২০৫ মেট্রিকটন চাল ও দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

শরীয়তপুরে পদ্মার পানি বেড়ে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে নড়িয়া উপজেলার ঘরিষার ও নশাশন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম। তলিয়ে গেছে মোক্তারচরের বেশির ভাগ রাস্তাঘাট।



 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে